,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম বন্দরে ১দিনে ৪ লাইটারেজ জাহাজ ডুবি ১২ কোটি টাকার ক্ষতি, নাবিক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::  চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় একের পর এক লাইটারেজ জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটে। তবে জাহাজগুলোর অর্ধশতাধিক নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় বারো কোটি টাকার পণ্য বোঝাই চারটি লাইটারেজ জাহাজ ডুবে গেছে। ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছে দুইটি লাইটারেজ জাহাজ। একই দিনে চারটি লাইটারেজ জাহাজ সাগরে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে স্মরণকালের নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর এবং লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় ১ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝখানে এমভি ল্যাবস-১ নামে একটি লাইটারেজ জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটিতে ১ হাজার ১০০ টন সিমেন্ট ক্লিংকার ছিল। ক্লিংকারগুলোর মূল্য প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা। জাহাজটির ১৩ নাবিককে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের সদস্যরা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পতেঙ্গা এলাকায় এমভি মজনু নামের অপর একটি লাইটারেজ জাহাজ বুধবার সকালে ডুবে যায়। জাহাজটিতে টিএসপি সার কারখানার ১ হাজার ৬০০ টন কাঁচামাল ছিল। আমদানিকৃত এসব কেমিক্যালের মূল্য এক কোটি টাকারও বেশি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই জাহাজটির ১৪ নাবিককেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে সন্দ্বীপের সন্নিকটে বঙ্গোপসাগরে এমভি গ্লোরিয়াস শ্রীনগর-৪ নামের অপর একটি লাইটারেজ জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটিতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের ১৭০০ টন ভুট্টা ছিল। জাহাজটির ১৪ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এই জাহাজটির অদূরে এমভি দারিন দাসাব নামের অপর একটি লাইটার জাহাজও ডুবে যায়। জাহাজটিতে সাত কোটিরও বেশি টাকা দামের ১ হাজার ৮০০ টন অপরিশোধিত চিনি ছিল। এই জাহাজটির ১৫ নাবিককেও স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের কাছে টিএসপি সার কারখানার কাঁচামালবাহী এমভি প্রিন্স আরেফিন ও গম বোঝাই লাইটারেজ জাহাজ এমভি আল জামির নামের দুটি লাইটার জাহাজের তলা ফুটো হয়ে যায়। এই সময় জাহাজ দুইটিতে পানি ঢুকতে শুরু করলে নাবিকেরা পানি সেচ করে জাহাজ দুইটিকে পতেঙ্গা উপকূলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনেন।
লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নেতা হাজী সফিক আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বুধবার সকালে লাইটারেজ জাহাজডুবির ঘটনা রীতিমতো আতংকের সৃষ্টি করেছিল। একটির পর একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা বেশ শংকিত হয়ে উঠেছিলাম। ঘন কুয়াশার কারণে এমনটি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই সময় অপর একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চ্যানেলে পানি কমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভেসে উঠছে ডুবো চর। কুয়াশার কারণে জাহাজগুলো মূল চ্যানেল থেকে সরে ডুবো চরে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়াকে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন খাতে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের হুমকি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একই দিনে চারটি লাইটারেজ জাহাজ ডুবে যাওয়া এবং বারো কোটি টাকারও বেশি দামের পণ্য তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন লাইটারেজ জাহাজ মালিকেরা। তারা বিষয়টিকে স্মরণকালের নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন।

মতামত...