,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করলেন শিক্ষামন্ত্রী

চবি সংবাদদাতা, ৩১ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা রাজনীতি মুক্ত দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। আমরা দলীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করিনি। জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি। শিক্ষার উন্নয়নে সকল মহলের লোকদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এমন কি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার শিক্ষা বিস্তারে নানা উদ্যেগ নিয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে সরকার কঠোরতা অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু কিছু কলঙ্কিত শিক্ষকের জন্য তা একেবারে রোধ করা যাচ্ছে না। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ ভবনের মিলতনায়নে রাষ্ট্রপতি রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী বলেন, দেশের একটা বড় অংশ তরুণসমাজ। দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। ইসলামের ভুল ব্যাখা প্রদান করে কেউ যেন শিক্ষার্থীদের জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে না পারে সে জন্য শিক্ষকসহ অভিবাবকদের সজাগ থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ৩৩ জন বিজয়ীকে সম্মাননা প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। এই সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবমো. সোহরাব হোসেন ও বিশ^বিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আকতার। এই সময় অনুষ্ঠানে বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল সমূহের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

পরে দুপুর ২ টায় উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ‘ইনক্লুসিভ ইউনির্ভাসিটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ফান্ড-২০১৭’ এর উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বিশেষ অতিথি ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ইনক্লুসিভ ইউভারসিটির উদ্যোগের ফোকালপার্সন প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ-টু-আই প্রোগ্রামের পরিচালক ও বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, এটুআই প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছেলে শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেবেন এ দৃশ্য দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের অডিটোরিয়াম সশরীরে হাজির হয়েছেন মা সুলতানা নাজনীন আক্তার। কিন্তু প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় ছেলের আর মন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়া হলো না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শোয়েব জুলকারনাইনের মায়ের কথা। এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে চেয়েছিলেন মা ছেলে দু’জনেই।
শুধু জুলকার নয় আরো ৫ শিক্ষার্থীর সৌভাগ্য হয়নি মঞ্চে উঠে মন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়ার। তাই তো প্রশাসনের এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ ঝরছে এই সব শিক্ষার্থীর কণ্ঠে।

পদক নিতে না পারা পাঁচ শিক্ষার্থীরা হলেন, ফাইন্যান্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিজুর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সিজারুল মুস্তাজীব শরিফ। তার দুই জনই ২০১৫ সালের ইংরেজী মাধ্যমের রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী। এছাড়া ২০১৬ সালের ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমের প্রতিযোগিতার বিজয়ী যথাক্রমে ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবদুল কাদের, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সুমন আহমেদ।
পদক নিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়েব জুলকারনাইন বলেন, ‘ছেলের এত বড় একটি অর্জন স্বচক্ষে দেখতে আমার মা এসেছিলেন আমার সাথে। কিন্তু আয়োজকদের অব্যবস্থাপনায় আমার আর মঞ্চে উঠা হলো না। এই স্মৃতি ধরে রাখতে কত না আয়োজন ছিল। কিন্তু কিছুই করা হলো না। এই স্মৃতি আর কখনো ফিরে আসবে না।

আরেক পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান বলেন, ‘২ বছর পর একটি বড় অনুষ্ঠানে পদক নিতে এসে কাক্সিক্ষত ব্যক্তিটির হাত থেকে পদক নিতে না পারার দুঃখ বলে প্রকাশ করা যাবে না। এত বড় অনুষ্ঠানে আয়োজকদের আরো দক্ষতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল। এমন দিন তো আর প্রতিদিন আসে না। যাদেরকে নিয়ে এই অনুষ্ঠান তারা যদি তা থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে অনুষ্ঠানের সফলতা কোথায় ?

বিশ্ববিদ্যালয় ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) এস এম আকবর হোসাইন বলেন, ‘অতি দ্রুত নাম ঘোষণা করার কারণে একটু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা পরে সবার হাতে পদক পৌঁছে দিয়েছি।

মতামত...