,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণায় আনন্দে্র বন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ক্যাম্পাসে। আর সেই উৎসবে শামিল শিক্ষক–শিক্ষার্থী সবাই। শিক্ষক মিলনায়তন, অধ্যক্ষের কক্ষে চলছে মিষ্টি বিতরণ। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতেও মিষ্টি। দলবেঁধে তারা হৈ চৈ করছে মাঠে। হাত উঁচিয়ে ভি–চিহ্ন দেখাচ্ছে সবাই।

মঙ্গলবার এরকম উৎসব মুখর পরিবেশ ছিল নগরীর নাসিরাবাদ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন । প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের ঘোষণায় এই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আমরা সরকারিকরণের বিষয়টি জেনেছি। আজকের দিনটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক দিন, আনন্দময় দিন। সরকারিকরণের পর এখন আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে চট্টগ্রাম মডেল কলেজ যাতে নগরীতে সবার কাছে মডেল হিসেবে পরিচিতি পায়।

জানা যায়, দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান ভর্তি সমস্যা নিরসনকল্পে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা মহানগরীসহ ছয়টি বিভাগীয় শহরে ১১টি মডেল স্কুল ও কলেজ গড়ার প্রকল্প হাতে নেয়। এরই অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে এইচএসসি প্রথম ব্যাচ ভর্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ নামে সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে পাঠদান চলছে। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ মিলে উচ্চমাধ্যমিক শাখা। ২০১৬ সালে বর্তমান সরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মডেল স্কুল ও কলেজ এতদিন পরিচালিত হয়েছে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। পদাধিকার বলে অধ্যক্ষ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিব এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন : চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ–পরিচালক ও চট্টগ্রাম পলিটেক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ।

সরকারিকরণের পর বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তিনটি শাখা (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) কিভাবে পরিচালিত হবে সেরকম নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ মো. আলমগীর চৌধুরী। এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চল সূত্রও।

চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাস ৫ তলা সুদৃশ্য স্কুল ও কলেজ ভবনটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। ভবনের মাঝখানে রয়েছে খেলার মাঠ। ক্যাম্পাসের আশেপাশেও রয়েছে বেশ খোলামেলা পরিবেশ। শহীদ মিনার, কলেজ শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আকর্ষণীয় একটি গোলঘর রয়েছে। প্রায় ৩ দশমিক ১২ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে প্রায় ১ একর জমি ইতিমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ, সুপরিসর ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত জিমনেসিয়াম, ল্যাব, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব প্রভৃতি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে। কেউ অনুপস্থিত থাকলে এসএমএসের মাধ্যমে অভিভাবককে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানের সব অভ্যন্তরীন পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে (নিজস্ব ওয়েবসাইটে) প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষকদের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খল পরিবেশে তাঁর প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা হয়। প্রতিদিন প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানসহ সার্বিক পরিবেশ তাঁকে অবহিত করার জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রতিটি পরীক্ষার পর অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বিষয়ভিত্তিক দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে ক্লাস নেয়া হয়। সম্পূর্ণ বিনা ফিতে মডেল টেস্ট নেয়া হয় শিক্ষার্থীদের।

গত তিন বছরে পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফল পর্যালোচনায় ফলাফল সার্বিকভাবে সন্তোষজনক বলা যায়। এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ২০১৫ সালে ৮৩.৯৮, ২০১৬ সালে ৮৬.২৭ এবং ২০১৭ সালে ৭৬.৮৫ শতাংশ ছিল। এসএসসিতে ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৯৬.০৯, ২০১৬ সালে ৯৭.৫৬ ও ২০১৭ সালে ৯৮.৫০ শতাংশ। জেএসসিতে ২০১৪ সালে ৯৮.৪৭, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে শতভাগ পাসের হার ছিল। পিইসিতে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ২০১৫ সালে ৯৮. ৬৪ শতাংশ পাস করেছে।

চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শাখা মিলে মোট ১৩৮৭ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে রয়েছে ৪৫৬ জন, মাধ্যমিকে ৭৮৫ জন এবং উচ্চমাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ৫৭৭ জন ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫৬৯ জন শিক্ষার্থী। তিনটি শাখায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চলে। এরমধ্যে প্রাথমিক শাখায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান চলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। প্রাথমিকে তৃতীয় ও পঞ্চমসহ প্রতিটি শ্রেণিতে দুটি করে শাখা রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে।

চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজে উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক, বিএনসিসি, রেডক্রিসেন্ট, স্কাউটিং, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ইনডোর ও আউটডোর গেমের ব্যবস্থা রয়েছে শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম হিসেবে।

মতামত...