,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু শীঘ্রই, দ্রুতই ভিসি নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৯ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ফৌজদারহাট এলাকা ঠিক করা হয়েছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী ভিসি নিয়োগের অনুমোদন দেবেন। আর ভিসি নিয়োগ হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণসহ কার্যক্রম শুরু হবে। খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়টির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে শিশুমৃত্যু হার, মাতৃমৃত্যু কমিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ রোল মডেল হয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা পোলিও মুক্ত হয়েছি, ধনুষ্টংকার মুক্ত হয়েছি।
ঢাকায় অত্যাধুনিক শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হচ্ছে। চট্টগ্রামেও ক্যান্সার চিকিৎসায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল হবে। আর চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে (বিশেষ করে চমেক হাসপাতালে) অবকাঠামো সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে শীঘ্রই ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এক দফায় ৬ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে পদায়ন করেছি। উপজেলায় এসব ডাক্তারদের পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তাররা চলে যাচ্ছেন। উপজেলা হাসপাতালগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে। এটা বিন্যাস করতে হবে। কোন উপজেলায় ১০ জন, আবার কোথাও তিন জন ডাক্তার যেন না হয়। স্বাস্থ্য খাতে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন- আমরা ৪০ হাজার কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু জনবল-সরঞ্জাম দিয়ে সেবা না বাড়লে তো হবে না। সেবাটাও যেনো বাড়ে। স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনলে কষ্ট লাগে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন- অনুমোদন ছাড়া যন্ত্র কেনা হয়। টেন্ডার ছাড়া কাজ দেয়া হয়। এগুলো শুনলে আমার ভীষণ কষ্ট লাগে। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের এধরণের কাজ থেকে বিরত থাকতেও বলেন মোহাম্মদ নাসিম।

স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা সঠিক ভাবে পালন করতে পারছি কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু সকল সীমাবদ্ধতা নিয়েই মানুষের কাছে আমাদের যেতে হবে। ইতোমধ্যে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে আরো ১১ হাজার শয্যার ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন- হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও এতদিন এর অনুমোদন মেলেনি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই অনুমোদন পাওয়া গেছে।

ঢাকায় বসে মাঠের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে সচিব বলেন- এখনো দেশের ৭৩টি উপজেলা আছে যেখানে ডাক্তারের সংখ্যা ৪ জনেরও কম। তিনটি উপজেলা আছে যেখানে একজন করে ডাক্তার আছেন। এসব বিষয় কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই বিভাগীয় পরিচালকদের আমরা দায়িত্ব-ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছি। আপনাদের এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। ভবন মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। এ নিয়ে আমরা কোন অভিযোগ শুনতে চাই না। আমরা হয়তো পর্যাপ্ত দিতে পারছি না। কিন্তু যা দিচ্ছি তা যেনো সঠিক ভাবে খরচ হয়। মেডিকেল অফিসারদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকা অপরিহার্য মন্তব্য করে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, পাবর্ত্য ও চরাঞ্চলে যাতে একজন ডাক্তারকে এক নাগাড়ে বেশি দিন থাকতে না হয় আমরা তা নিয়ে দায়িত্বের মেয়াদ নির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। হয়তো দুই বছর নির্দিষ্ট করা হতে পারে। অর্থাৎ দুই বছর ওই অঞ্চলে থাকতে হবে। পরে অন্য স্থানে বদলি হতে পারবে।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য দফতর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার সভায় বলেন, পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় কয়েক কোটি মানুষের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই চিকিৎসার ক্ষেত্রে শেষ ভরসা। চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবার পরিস্থিতি খুবই ভঙ্গুর। এখানে নিউরো বা ব্রেইনের বড় ধরণের রোগের জন্য কোন চিকিৎসা সুযোগ নেই। ঢাকায় ছুটতে হয়। যা দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য আর্থিক ও মানসিক কষ্টের কারণ। সবার দ্বারা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেয়া সম্ভব না। আমরা চাই ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও বিশেষায়িত হাসপাতাল হোক। চট্টগ্রামে একটি কিডনি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, নিউরো সাইন্স হাসপাতাল, পঙ্গু ও মানসিক হাসপাতাল স্থাপনের দাবি করে ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার বলেন, চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান নাই। কিছুদিন পর এখানে টানেল হবে। মিরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে স্বাস্থ্যখাতও গড়ে তোলা দরকার। পাবর্ত্য অঞ্চলে চিকিৎসক সংকটের কথা উল্লেখ করে চিকিৎসক দিলেও তদবিরসহ নানা কারণে তাদের সেখানে রাখা যায় না বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় এছাড়াও বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষগণ বক্তব্য রাখেন। নিজেদের অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন তাঁরা। এসব সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। অন্যান্যদের মাঝে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, চমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. টিপু সুলতান, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইসিইউ সংকটের সমাধান চাইলেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক
আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সংকটের সমাধানের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান। স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সভার এক পর্যায়ে হাসপাতাল পরিচালক, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ও সিভিল সার্জনদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সমস্যা-সংকট-পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়।

বক্তব্যের শুরুতে হাসপাতালের অপ্রতুল আইসিইউ শয্যার কারণে অসহায় মুমূর্ষু রোগীদের হাহাকারের চিত্র তুলে ধরেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে মাত্র ১০টি। কিন্তু এই আইসিইউ শয্যার জন্য দৈনিক প্রায় অর্ধশত আবেদন-অনুরোধ আসে। হাসপাতালেও দিনে প্রায় অর্ধশত রোগী থাকে যাদের আইসিইউ-তে রাখা অপরিহার্য। কিন্তু শয্যা সংকটে আমাদের কিছু করার থাকে না। হাসপাতালটি চট্টগ্রামের বিশাল সংখ্যক গরিব-অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল উল্লেখ করে পরিচালক বলেন, আইসিইউ সংকট সমাধান অত্যন্ত জরুরি। আর এর জন্য আমি মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে চারজন এনেসথেসিস্ট দাবি করছি। যারা সার্বক্ষণিক এই আইসিইউ-তে দায়িত্ব পালন করবেন। এই এনেসথেসিস্ট পেলে আমরা আইসিইউ শয্যা সংখ্যা বাড়াতে পারবো। আমাদের কাছে সে প্রতিশ্রুতি আছে। অনেকেই সাহায্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতাগুলোর কারণে সেই সাহায্য আমরা নিতে পারছি না। তাই আইসিইউ সংকট সমাধানে চারজন এনেসথেসিস্ট-এর এই দাবি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনার জন্য মন্ত্রী ও সচিবের নিকট অনুরোধ জানান হাসপাতাল পরিচালক।

হাসপাতালের অবকাঠামো সংকট এখন প্রকট বলে উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ১০ তলা ফাউন্ডেশনের আমাদের একটি এক্সিলারি ভবন আছে। যাতে ছয় তলা পর্যন্ত রয়েছে। এই ভবনে বাকি চারতলা সম্প্রসারণ করতে পারলে অবকাঠামো সংকট অনেকটা দূর হবে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি। এদিকে, সিটি স্ক্যান মেশিনের পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীদের জন্য খুবই জরুরি রেডিওথেরাপি মেশিন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এ দুটি মেশিন নতুন প্রদানের দাবি জানান হাসপাতাল পরিচালক। এছাড়া হাসপাতালের জমি বেদখল হচ্ছে জানিয়ে সীমানা প্রাচীর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। এর বাইরে নার্স (ছেলেদের) হোস্টেল নির্মাণ ও নতুন একটি অটো এনালাইজার মেশিন প্রদানের দাবিও করেন চমেক হাসপাতালের এই পরিচালক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনোযোগ সহকারে হাসপাতাল পরিচালকের বক্তব্য শুনেন এবং স্বাস্থ্য সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন। আর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সংকট সমাধানে শীঘ্রই ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এছাড়া আইসিইউ’র বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলে সভায় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলামও এ বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান।

সভার শেষ পর্যায়ের দিকে উপস্থিত হয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনও তাঁর বক্তব্যে চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন। জরুরি ভিত্তিতে এসব সংকট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

মতামত...