,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম র‌্যাবের হাতে ৪০ কোটি টাকার ইয়াবা আটক,সারা দেশে তোলপাড়

823নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার,৮, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::চট্টগ্রাম র‌্যাবের হাতে ৪০ কোটি টাকার ইয়াবা আটক সারা দেশে তোলপাড় চলছে । ৪০ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে আটক কৃষকলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে সাগরপথে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। ইয়াবাগুলো ছিল মূলত তার ফুফাত ভাই কলাতলীর মফিজ ওরফে ইয়াবা মফিজের।জানা গেছে, বর্তমানে মফিজ সিন্ডিকেটের অর্ধশতাধিক পাচারকারী কক্সবাজারে সক্রিয় রয়েছে । যারা এখন প্রত্যেকেই কোটিপতি। গত বুধবার র‌্যাবের হাতে ১০ লাখ ইয়াবাসহ এই সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য ধরা পড়ার পর তা নিয়ে তোলপাড় চলছে কক্সবাজারেও । সেই সাথে এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিভিন্ন অপকর্মের খবর বেরিয়ে আসছে।

জানা গেছে, কৃষকলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া ইয়াবার চালান নিজের বলে দাবি করলেও স্থানীয়রা তা বিশ্বাস করছে না। তাদের মতে, ইয়াবাগুলো তার ফুফাত ভাই কলাতলীর মফিজ ওরফে ইয়াবা মফিজের। মফিজ ইত:পূর্বে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধের পর ধরা পড়ে। এসময় সে সামান্য আহত হলেও পরে সুস্থ হয়। বর্তমানে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে। এই সিন্ডিকেটে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়া ৪জনসহ আরো অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি রয়েছে। প্রায় ২ বছর আগে মফিজ দরিয়ানগরেও ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এসময় তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সে অন্তরালে চলে যায়। মাত্র আড়াই বছর আগে ইয়াবা মফিজ অভাবের তাড়নায় নিজের ঘরের একটি দরজা ইব্রাহিম নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। বর্তমানে মফিজ শহরের মধ্যম কলাতলীতে একটি ৫ তলা ভবন ও কোটি কোটি টাকার জমি কেনেন। ভাই কৃষকলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন ডেকোরেশন ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়া ইয়াবার টাকায় সে ম্যানেজমেন্ট কমিটির দরিয়ানগর বীচে টিকিটের লাইসেন্স নেন । চেয়ারছাতা ব্যবসার আড়ালে মূলত সে সাগরপথে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা কৃষকলীগের দুই নেতা তার গডফাদার হিসাবে কাজ করত বলে জানা গেছে। র‌্যাবের হাতে ধরা পড়া আবদুস সালাম মাঝিও মফিজ সিন্ডিকেটেরই সদস্য সালাম মাঝি ৯১ সালে বাংলাদেশে আসার পর আর মিয়ানমারে ফিরেনি। সে ১৯৯৭ সালে বড়ছড়া আশ্রায়ণ প্রকল্পে একটি বাসা বরাদ্দ পায়। পরে সে ওখানকার সভাপতি নির্বাচিত হয়। তৎকালীন আশ্রয় প্রকল্পের নেতাদের সহযোগিতায় সে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর বাংলাদেশী হিসাবে ভোটার তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত হয়। সে শহরের কলাতলী থেকে এক মেয়েকে বিয়ে করে। বর্তমানে শ্বশুর বাড়ি থেকে পাওয়া জমিতে তিনি ৩ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছেন। অথচ অভাবের সংসারে একসময় তার স্বাভাবিক চলাফেরাও ছিল না। এরা বর্তমানে সাগরে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরার পরিবর্তে ইয়াবা পাচার করে মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতিতে পরিণত হয় । র‌্যাবের হাতে ধরা পড়া শফিক মূলত ইয়াবা বহনকারী। এই সিন্ডিকেটে রয়েছে অর্ধশতাধিক সদস্য। যারা বেশিরভাগই মিয়ানমার বংশোদ্ভূত জেলে। দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত এলাকা দিয়েই এরা ইয়াবা নিয়ে আসে কক্সবাজারে। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে কক্সবাজার পৌঁছাত এসব ইয়াবা। আবার কিছু চালান সরাসরি নৌপথে চট্টগ্রামে পৌঁছাত। এর একটি চালান র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে। এরপরই তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছে।

দরিয়ানগর থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত আরো কিছু অবৈধ মৎস্য ব্যবসায়ী ইয়াবা পাচারে জড়িত বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতেনাতে আটক করা গেলে ইয়াবা পাচারের হার কিছুটা কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, সমুদ্রপথে কলাতলী কিংবা দরিয়ানগর পয়েন্ট ছাড়াও সোনাদিয়া,মহেশখালী, মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়া হয়েও ইয়াবার চালান দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

মতামত...