,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম শহরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নতুন বছরে উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

flyover ctgনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রাম শহরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে রাতে দিনে কাজ চলছে। এ বছরের ডিসেম্বরে আথবা নতুন বছরের শুরুতে নগরীর বহুল প্রত্যাশার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স র‌্যাংকিন (জেবি) এর দক্ষতার কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ হচ্ছে।।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতেই  মুরাদপুর-ওয়াসা পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দিতে চাই। এরপর আমরা র‌্যাম্প ও লুপ নির্মাণের কাজ শুরু করবো। তিনি জানান, দুই নম্বর গেট মোড় থেকে অক্সিজেনমুখী গাড়ি ওঠানামার জন্যে দুটি লুপ নির্মাণের বিষয় মূল ডিপিপিতে ছিল। সেখানে একটু পরিবর্তন এসেছে। আগে ছিল আরসিসি, এখন আমরা ব্যয়বহুল ও সর্বাধুনিক স্টিল ফ্রেম দিচ্ছি। জিইসি মোড়ের জাকির হোসেন সড়কের গাড়ির সুবিধার্থে যে র‌্যাম্প তারও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে গার্ডারগুলোর সংযোগ স্থলে আমরা ফিঙ্গার টাইপ জয়েন্ট দিচ্ছি, যাতে ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি অতিক্রমের সময় পায়ারগুলোতে (স্তম্ভ) ঝাঁকি খেতে না হয়। এটি না করলে ৯৩ বার ঝাঁকি খেতে হতো। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু কাজের গুণগতমান ও পরিমাণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, দৈর্ঘ্য বেড়েছে, নির্মাণকাজ চলাকালীন দু’পাশে সড়ক দেবে যাওয়া বন্ধে শিট পাইলিং করা হয়েছে এবং দুই বছরের বেশি সময় দু’পাশের সড়ক নিয়মিত মেরামত করে স্বাভাবিক রাখতে হয়েছে তাই স্বাভাবিকভাবে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে। আমরা টেকসই কাজের জন্যে যা যা করার দরকার সবই করছি। সিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে নিখুঁত কাজের ক্ষেত্রে মুরাদপুর ফ্লাইওভার একটি দৃষ্টান্ত। অতীতে সব ফ্লাইওভারে ক্রেনের সাহায্যে গার্ডারগুলো তোলা হতো। সে জায়গায় আমরা ব্যবহার করছি লাঞ্চার। লুপের জন্যে যে স্টিলের কার্ভ ব্যান আনা হবে তা আসবে চীন থেকে। প্রায় ৭০ ফুট উপরে দুই নম্বর গেট এলাকায় ওই লুপ হবে। যা আরসিসি দিয়ে করলে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যেত। এক্ষেত্রে আমদানি করা ও ফিটিংসে সময় লাগবে। তাই লুপ-র‌্যাম্প ছাড়াই মুরাদপুর থেকে ওয়াসা পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দিতে চায় কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,ফ্লাইওভারে ইংরেজি ‘ওয়াই’ আকৃতির মোট ৯৩টি পায়ার তৈরির কথা থাকলেও ওয়াসা মোড় এলাকায় এখনো চারটি বাকি আছে। এ ছাড়া ৭৫২টি গার্ডারের মধ্যে তৈরি হয়েছে অর্ধেকের মতো। এর মধ্যে ২৬০টি গার্ডার ওয়াই আকৃতির পায়ারের ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপে সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করছেন প্রকল্পে। তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে। যেসব গার্ডার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে সেখানে ক্রসগার্ডার (দুই গার্ডারের মধ্যে সংযোগ তৈরির কাজ চলছে।

জানা গেছে, নগরীর প্রধান সড়কটির যানজট নিরসনকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি ‘মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট ও জিইসি জংশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন। একই বছরের ১ জুন ১৫০ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। পরে ৫ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির ৪৬২ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়সম্বলিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপি ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন হয়। ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদপুরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের ভৌত কাজের উদ্বোধন করেন।

 

One comment

মতামত...