,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম শহরের কর নিয়ে আ. লীগে গৃহবিবাদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম শহরের গৃহকর নিয়ে মহাগর আ. লীগের গৃহবিবাদ আবার তুঙ্গে উঠেছে। যা তৃণমূলের রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। দুই নেতার বিবাদের কারণে নগর, থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু নেতা বিপাকে পড়েছেন। তারা বুঝতে পারছেন না কোন দিকে যাবেন। তবে দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর সরকার দলীয় নেতাদের বিরোধের মুখে গৃহকর নিয়ে এখন বিএনপিও কথা বলছে। তারা প্রথম দিকে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিছুদিন আগে এক মতবিনিময় সভায় এনিয়ে কথা বলেছেন সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও।

গৃহকর এবং আ. লীগের অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে নগর আ.লীগের সহসভাপতি সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন এমপি বলেন, বর্তমানে নগর আ.লীগের সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক নিজেরা মুখোমুখী হননি। মহানগর আ.লীগ ঠিক আছে। সংগঠনের মধ্যে কোন সমস্যা নেই। সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক মিলে আ.লীগকে জনগণের মুখোমুখী করেছেন। গৃহকর নিয়ে মানুষ অসন্তুষ্ট একথা সত্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিস্পত্তি করতে কোন বিকল্প আছে কিনা তা মেয়রের খতিয়ে দেখা উচিত। চসিকের কাছে এই মুহুর্তে একমাত্র পথ খোলা আছে তা হল আপিল। এছাড়া স্থানীয় সরকারের কোন সংস্থা যদি আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে জনগণকে সেবা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এছাড়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হলে তিনিও তা স্থগিত করতে পারেন। যেভাবে তিনি ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন।

আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে এত টানাটানি কেন হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গৃহকর কি আ.লীগের জন্য ? এটি তো সবার জন্য প্রযোজ্য। আ.লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কবে থেকে বিষয়টি নিয়ে টানাটানি করছেন। আর অন্য দলগুলি কবে থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছে এমন প্রশ্নও তুলেন তিনি।

নগর আ.লীগের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে বলেন, আমরা কোন দিকে যাব, কি করবো বুঝতে পারছি না। কারণ একদিকে গেলে অন্যজনের বিরাগভাজন হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই তারা দুই কুল রক্ষার চেষ্টা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগর আ.লীগের দুই নেতার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে শুরু। এরপর একের পর এক বিষয় নিয়ে দু’জনের বিবাদ তুঙ্গে উঠে। কিন্তু সেসব ইস্যুগুলিতে নগর আ.লীগের বাকি নেতাদের প্রকাশ্যে তেমন কথা বলতে দেখা যায়নি। গৃহকরের নতুন এসেসমেন্ট শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুই নেতা বিবাদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার ঘোষণা দেন আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি আসে।

কিছুদিন বিরতির পর এবার শুরু হয়েছে গৃহকর নিয়ে বিবাদ। তবে এই বিবাদে আ.লীগ নেতাদের বড় একটি অংশকে পাশে পেয়েছেন মহিউদ্দীন চৌধুরী। তার বাস ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় নগর আ.লীগের কার্যকরী কমিটির প্রায় অর্ধেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার নগর আ.লীগের ১০ নেতা বর্তমান মেয়রের সাথে বৈঠক করে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির বলেছেন, আ.লীগ নেতারা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এসেছেন। এটা কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু দলের প্রচার সম্পাদক যে প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছেন সেটি মহানগর আ.লীগের প্যাডে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, গত ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন লয়ারর্স সোসাইটির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল কবির ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হানিফের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে নগর আ.লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আজ যখন চট্টগ্রাম নগরবাসী বর্ধিত গৃহকর আরোপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাদের অধিকারের কথা বলছে তখন সেই পাকিস্তানি মানসিকতায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অধিকারের কথা বলতে গিয়ে কোন নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হলে তার পক্ষে দাঁড়াবেন না। এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ১৪ দলের সভা ডেকে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তিনি। সেদিন কাউন্সিলরদের সাথে বৈঠক করে সিটি মেয়র বলেছিলেন, কাউকে না কাউকে আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। আন্দোলন যারা করছে তাদের সবাইকে চিনি। কার কি উদ্দেশ্য সেটাও জানি। মহিউদ্দীন চৌধুরী তো ট্যাক্স না বাড়িয়ে ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। তাহলে উনি কেন দুই লাখ ভোটে বিএনপি প্রার্থী মনজুর আলমের কাছে পরাজিত হয়েছেন? পরদিন সিটি মেয়রের সাথে আ.লীগের নেতাদের মতবিনিময় করার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়। ১৮ অক্টোবর বর্তমান মেয়র সংবাদ সম্মেলন করে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। সেসময় তিনি ঘোষণা দেন, আইনী কাঠামোর মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়া হবে। হতদরিদ্রদের কর সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেয়া হবে। ব্যাংক ঋণ থাকলে সমন্বয় করা হবে। নিন্ম ও মধ্যবিত্ত এবং শহরের আদিবাসীদের বিশেষ ছাড় দেয়া হবে। সেদিনই অসহযোগ আন্দোলনের হুমকি দেন মহিউদ্দীন চৌধুরী। এর আগে বর্তমান মেয়রকে আবার নিজের স্বাক্ষরিত চিঠিও দিয়েছেন সাবেক মেয়র। গত ১৪ অক্টোবর দলের একাংশের সাথে বৈঠক ডেকে মহিউদ্দীন চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন আগামী শুক্রবারের মধ্যে বর্ধিত গৃহকর বাতিলের ঘোষণা না দিলে আন্দোলন। সেদিন আ জ ম নাছির প্রশ্ন তুলেন দলের নেতা হয়ে, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন কেন মহিউদ্দীন চৌধুরী?

সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী গণ অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় বর্তমান মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সর্বদলীয় সভা ডেকে গৃহকর সমস্যার সমাধান করুন। ইতিমধ্যে নগর আ.লীগ এবং ১৪ দলের ব্যানারে নগর আ.লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী তার বাস ভবনের যেসব সভা ডেকেছেন, তার সবগুলিই আ.লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে বিবৃতি দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

 

দলটির সাধারণ সম্পাদক বিবৃতিতে বলেন, তার সাথে কোন ধরণের আলাপ না করে তিনি এককভাবে সভা ডেকে তা দলের সংগঠনের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের সভাপতির সাথে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে নগর আ.লীগের বিভিন্ন সভা ডাকা ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়িত্ব তার। ওইদিন অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা করার কথাও বলেন বর্তমান মেয়র।

গত ২৪ অক্টোবর কাউন্সিলরররা এক বিবৃতিতে নগরবাসীকে আশ্বস্থ করেন যে, আপিল বোর্ডের মাধ্যমে গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে আনা হবে। ২৫ অক্টোবর বাইশ মহল্লা সর্দার কমিটির সাথে বৈঠকে মহিউদ্দীন চৌধুরী বলেন, আপিলে গৃহকর সহনীয় রাখার কথা নিছক আইওয়াশ।

সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন এমপি বলেন, ভাইয়ে ভাইয়ে অমিল থাকতে পারে। আ.লীগের মধ্যেও মতের অমিল থাকতে পারে। বিষয়টি বড় নয়। বিষয়টি হল করকে সাধ্যের মধ্যে আনতে হবে। গৃহকর কমানোর জন্য যারা হাইকোর্টে মামলা করেছেন, তারা হেরে গেছেন। গৃহকর সবার জন্য প্রযোজ্য। এটা দলমত, শ্রেণি পেশা সবার জন্য প্রযোজ্য। আপিলে গড়ে ৬০ শতাংশ কমিয়ে দিলে আর কোন জনঅসন্তোষ থাকবে না। আইন না মানার উপায় নেই। তবে মেয়রের উচিত আপিল করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। পূর্বকোণ এর প্রতিবেদন।

মতামত...