,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম শহরের রাস্তায় অভিবন পন্থায় মোবাইল ছিনতাই!

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম শহরের রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময়ে হঠাৎ কলেজ পড়ুয়া সহজ সরল ছাত্রদের পথ আগলে দাঁড়ায় ক্যেক জন ছাত্র নামধারী! তারা নিজেদের স্থানীয় কোনো কলেজ বা এলাকার ছাত্রলীগের সিনিয়র কর্মী পরিচয় দিয়ে জানতে চায় বাড়ি কোথায়, কোন কলেজে পড়ে, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিনা ইত্যাদি! খানিক বাদেই আবার বলা হয়, ‘গতকাল অমুক ভার্সিটি বা অমুক জায়গায় মারামারি হয়েছে। আমাদের সন্দেহ তোমরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলে! তোমাদের মোবাইল দাও, আমরা তোমাদের কললিস্ট চেক করে দেখছি। এরপর অনতিদূরে অপেক্ষমান আরেক তাদের ভাষায় বড় ভাইয়ের কাছে মোবাইল নিয়ে গিয়ে পরে তা কোনো একটি জায়গা থেকে সংগ্রহ করে নিতে বলেই চম্পট।

চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানা থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজ দূরে গুলজার মোড়ে এভাবে অভিনব কায়দায় সংঘবদ্ধ একটি চক্রের হাতে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মোবাইল ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে হর হামেশা। তাদের টার্গেট কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এলাকাটি গত এক বছর ধরে রীতিমত ছিনতাই স্পটে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী এ চক্রের অভিনব কৌশলের বর্ণণা দিয়ে জানায়, ‘আমরা দুই বন্ধু সেদিন গুলজার মোড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার বড় ৩ জন তরুণ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ান। বয়সে তারা আমাদের অনেক সিনিয়র হবেন। নিজেদের নগরীর একটি কলেজ ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাই পরিচয় দিয়ে আমাদের দোষারোপ করলেন। আমরা নাকি সিটি কলেজের একটি সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তারা এর প্রমাণ যাচাই করতে আমাদের মোবাইলের কললিস্ট দেখতে চাইলেন। আমরা নিজেদের নিরপরাধ দাবি করলেও তারা কিছুই মানতে চাইলেন না! বললেন, আগে মোবাইল বের করো। আমাদের মোবাইল হাতে নেয়ার পর তাদেরই একজন অপরজনকে বলেন, ‘যা এটা বড় ভাইকে দেখিয়ে আন। আমরা সঙ্গে যেতে চাইলে তারা বলেন, বড় ভাইয়ের মাথা খুব গরম, তোমরা গেলে তোমাদের ধরে মারবে। আমরা কিছু দূরে অপেক্ষায় থাকার পর একজন এসে নগরীর একটি মার্কেট থেকে আমাদের মোবাইল দুটি সংগ্রহ করে নিতে বলেন। এরপর সুকৌশলে তারা সেখান থেকে সরে পড়েন।

দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে আসা কলেজে পড়ুয়া এসব সরলমনের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। কারণ এদের কাউকেই তারা আগে থেকে চেনে না। আবার মনে মনে সন্ত্রস্ত থাকে, না জানি কোনো অপরাজনীতির ঘটনার স্বীকার হচ্ছে তারা!  সবশেষে তারা বুঝতে পারে, পুরো ঘটনাটি আসলে একটি সংঘবদ্ধ মোবাইল ছিনতাইকারী চক্রের কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলজার মোড় এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এভাবে ছলচাতুরির মাধ্যমে গুলজার মোড়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ তারা হরহামেশাই হচ্ছে। প্রতি মাসেই মোবাইল ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে এখানে। কেউ কেউ এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করলেও খুব একটা লাভ হয়নি বলে জানা যায়।

ইদানিং নগরীতে ঘটা বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারীদের টার্গেটই থাকে আধুনিক মোবাইল সেট। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে শ’খানেক মোবাইল সেট চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে নগরীর ১৬ টি থানা এলাকায়। মূলত রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে সার্ভিসিং দোকানে বিক্রি হয় এসব মোবাইল সেট। বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয় এসব মোবাইল ডিভাইসের আন্তর্জাতিক পরিচয় বা ‘আইএমইআই’ নম্বর। ফলে বেশিরভাগ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়না পুলিশের পক্ষে।

চট্টগ্রাম  নগরীতে এই অভিবন মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বগ্র পুলিশের এক জন শীর্ষ কর্মকর্তা বিডিনিউজ রিভিউজ.কমকে বলেন, এই অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে ছাত্র-ছত্রীদের মোবাইল ফোন ছিন্তায়ের ঘটনাটি আমাদের ঞ্জ্রে এসেছে, আমরা এদের শীঘ্রই গ্রেপ্তার করতে পারবো। এমন অপরাধ যাতে আর না হয় সে ব্যাপারেও পুলিশ কাজ করছে।

ছিনতাইকারীদের কোনো হালনাগাদ তথ্য না থাকায় এবং ভুক্তভোগীদের মামলায় অনীহার কারণেও ছিনতাই প্রতিরোধে সাফল্য আসছে না বলে মনে করে পুলিশ প্রশাসন।বি এন আর, ১১ অক্টোব্র,২০১৭।

মতামত...