,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চবিতে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে সংঘর্ষ

চবি সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন সিএক্সটি নাইন ও ভিক্সের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫ কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত থাকায় পুলিশ আরিফ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহতরা হলেন সাঈদ আহমেদ, তানভির আহমেদ, নাজমুল সামির, রায়হান, খায়রুল আলম, ইমরান, মুগ্ধা, রয়েল চাকমা, জয় বিশ্বাস, আশিক, জিসান, গাজী, মিলন ও মামুন। এদের মধ্যে সাঈদ ও তানভিরের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাশেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে লিপ্ত পক্ষ দুটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য ছাত্রলীগের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয়। তখন মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কিল–ঘুষির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট–পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশের এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরপর ভিএক্সের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোরওয়ার্দী হলের সামনে জড়ো হলে সিএক্সটি নাইনের কর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ছাত্রলীগের দুটি পক্ষকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। সংঘর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা দিক বেদিক ছুটাছুটি শুরু করে। পরে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে শান্ত করে। এদিকে, বিকেলে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের পাশে কয়েকটি কটেজে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে সেখান থেকে কিছু উদ্ধার করা যায়নি।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে পরিস্থিত শান্ত রয়েছে জানিয়ে বলেন, ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ লাইনে দাঁড়ানো থেকে সংঘর্ষে রুপ নিলে পুলিশ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করে উভয় পক্ষকে শান্ত করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি নেই। তারপরও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিরো পয়েন্টে জড়ো হয়ে মিছিল থকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে সংষর্ষে রুপ নিলে পুলিশের সহায়তায় উভয়পক্ষকে শান্ত করা হয়। এতে ৪ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কারো নাম উল্লেখ করতে পারেননি তিনি।

ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন সিএক্সটি নাইনের নেতৃত্বে রয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনসুর আলম। তিনি বলেন, জামায়াত–শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী সাদেক হোসেন টিপু নামে এক শিবির কর্মী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প– করার জন্য এক সিনিয়র নেতার গায়ে হাত তুলেছে। তার (ভিএক্স) নেতা মিজানুর রহমান বিপুল নবীনগর থানা ছাত্রদলের সহ–সভাপতি। সে কখনই ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠিাবার্ষিকী সফল হতে দিবে না। তাই এটা তার পরিকল্পিত এজেন্ডা।

ছাত্রলীগের সাবেক উপ দপ্তর সম্পাদক ও ভিএক্স পক্ষের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল বলেন, আসন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সামনে আমি যেন কমিটিতে আসতে না পারি তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঝামেলা করা হয়েছে। বিনা উস্কানিতে শোভাযাত্রায় আমার জুনিয়রকে চর– থাপ্পড় মেরেছে তারা (সিক্সটি নাইন কর্মীরা)।

 তিনি বলেন, আমার নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আমার বাবা। ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না। এরপরেও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেউ প্রমাণিত করতে পারলে স্বেচ্ছায় ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নিব।

মতামত...