,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চমেক হাসপাতালে আধুনিক বার্ন ইউনিট স্থস্পনে চীনের ৮ শ কোটি টাকা অনুদান

cনাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ একটি আধুনিক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট নির্মিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। চীন সরকারের অর্থায়নে আধুনিক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটটি গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অত্যাধুনিক এ ইউনিট গড়ে তুলতে অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা (১০০ মিলিয়ন ডলার) অর্থায়নের বাজেট নির্ধারণ করেছে চীন সরকার।

চীনের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন। ৯ সদস্যের মধ্যে ৮ জন হলেন ইঞ্জিনিয়ার আর বাকি একজন হলেন বাংলাদেশের চীন দূতাবাসের কর্মকর্তা। গতকাল তারা চমেক হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন করেন।

বার্ন ইউনিট গড়ে তুলতে চমেক হাসপাতাল এলাকার দুটি স্থান পরিদর্শন করেন চীনের প্রতিনিধি দলটি। এর একটি হলো গোয়াছি বাগান এলাকা এবং অপরটি হলো হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত দুই তলা ভবনটি।

জানা গেছে, পরিদর্শন শেষে প্রকল্প উপদেষ্টা ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রফেসর ডা. সামন্ত লাল সেনকে সাথে নিয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ও বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধানের সাথে বৈঠকে মিলিত হয় চীনা প্রতিনিধি দলটি। বৈঠকে চীনের ইঞ্জিনিয়াররা হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত দুই তলা ভবনটি ভেঙ্গে বার্ন ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের পক্ষে মত দেন। তবে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মত দিয়েছিল গোয়াছি বাগান এলাকায় করতে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘গোয়াছি বাগান এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের বিপক্ষে তারা যুক্তি দেখিয়েছে, এতো দূরে ডাক্তাররা কিভাবে যাবে, তারপরে রোগীদের এমআরআই ও সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা নিয়ে ঝামেলা পোহানোর কথা তুলে ধরেন। পক্ষান্তরে আমরা যুক্তি দেখিয়েছি, অবকাঠামোটা গোয়াছি বাগানে হলে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সুবিধা হবে। যেহেতু অনেক জায়গা আছে অদূর ভবিষ্যতে এটা সম্প্রসারিত করার সুযোগ থাকবে।’

বার্ন ইউনিটটি কত শয্যার হবে তা খোলাসা করেনি চীনের প্রতিনিধি দলটি। তবে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫০০ শয্যার প্রস্তাব দেন। কিন’ তারা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। চীন সরকারের কাছে প্রথমে এ প্রকল্পের প্রস্তাবের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ১০০ শয্যা নির্ধারণের বিষয়টি তারা বৈঠকে তুলে ধরেন। তখন চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের যুক্তি দেখিয়ে বলে, আমরা তখন ১০০ শয্যার প্রস্তাব দিয়েছিলাম বটে কিন’ আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন যুক্তি শুনে চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ১০০ শয্যার বেশি করার চিন্তাভাবনা করা হবে বলে তাদের জানান। তবে তারা ৫০০ শয্যা করার পক্ষে মত দেয়নি।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘হয়তো তারা আড়াইশ শয্যার কথা চিন্তা করবে।’

জানা গেছে, বৈঠকে বার্ন ইউনিট প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সব মিলিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান চীনের প্রতিনিধি দলের একজন ইঞ্জিনিয়ার। বৈঠকে অংশ নেওয়া চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মৃণাল কান্তি দাস বিষয়টি জানান।

এদিকে প্রকল্পের শুরুতে বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল গড়ে তোলার কথা বলা হলেও এটি বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট হিসেবে গড়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৈঠকে চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আলোচনা করে। তারা চমেক হাসপাতালের পরিচালককে বলেন, ‘এটা যদি হাসপাতাল হয়, তাহলে তো আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এটা একটা পৃথক প্রতিষ্ঠান হয়ে যাবে। এতে খরচ বেড়ে যাবে।’

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে এটাকে হাসপাতালে রুপান্তর করবো। আপাততে এটা চমেক হাসপাতালের একটা ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। একজন বিভাগীয় প্রধান এটি পরিচালনা করবেন।’

মতামত...