,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চমেক হাসপাতালে রোহিঙ্গা রোগীর চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৩ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ, আগুনে পোড়া, ধারালো অস্ত্রের জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। তারা কোনোমতে পালিয়ে সীমান্তপথে বাংলাদেশে এসে প্রথমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয়।

গুলিবিদ্ধ ও পোড়া রোগী। কারো হাতে কিংবা পা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। চিৎকার আর গোঙানির শব্দ হাসপাতালে। এমনিতে ওয়ার্ডগুলোতে নার্স ও চিকিসক সংকট। এ অবস্থায় কাকে ফেলে কাকে দেখবেন, সেটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়,এদের কারও হাতে, কারও পায়ে, কারও বুকে গুলি এবং আগুনে ঝলসে গেছে হাত-পা, মুখসহ পুরো শরীর। আবার ধারালো অস্ত্রের কোপে মারাত্মক জখম হয়েছেন অনেকেই। এতে কেউ কেউ হারিয়েছেন হাত-পা, কানসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। কিন্তু হাসপাতালের লোকবল সংকটের কারণে তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতালের ২৬ নম্বর অর্থপেডিকস সার্জারি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ৮৮ শয্যায় চিকিৎসা চলছে ২৫০ রোগীর। এরমধ্যে ৪০ জন গুলিবিদ্ধ ও আগুনে পোড়া রোহিঙ্গা। অথচ ২৭ জন নার্স ও ৩২ জন আয়া নিয়ে চলে এ ওয়ার্ড। ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমন হালদার জানান, ‘আমরা আমরা ২৭ জন নার্স তিন শিফটে প্রতিদিন ডিউটি করি। কিন্তু এত রোগীর দেখাশোনা আমাদের পক্ষে কষ্টকর। তবুও আমরা চেষ্টা করি সবাইকে সেবা দিতে। এছাড়াও ১৩, ১৪, ২৭ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে একই চিত্র দেখা গেছে। তবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট রোহিঙ্গারা। ১০ দিন আগে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য চমেকের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন মংডুর নয়াবাজার এলাকার আহমদ হোসেনের মেয়ে হাসিনা বেগম। পায়ে অপারেশন হয়েছে। তবে এখনো হাঁটাচলা করতে পারছেন না। সুপ্রভাতকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে সেনারা আক্রমণ করলে আমার পায়ে গুলি লাগে। তারপরে চিকিৎসার জন্য আমার বাবা আমাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। প্রথমে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিই। সেখান থেকে তারা এখানে পাঠিয়েছে।’ চিকিৎসা সেবা ভালো দিচ্ছে। নার্সরা খুব দেখাশোনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের চাপে অন্যান্য রোগী চিকিৎসা সেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। তারা বলেন, ডাক্তাররা সবসময় রোহিঙ্গা রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আমরা বারবার বলার পরও তারা আসেন না। এ মাসের শুরুতে পায়ের সমস্যা নিয়ে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন পূর্ব মাদারবাড়ির বাসিন্দা জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘অপারেশনের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তনের পর গত সপ্তাহে আমার অপারেশন হয়েছে। রোহিঙ্গা রোগীর চাপের আমরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ৮০ জন রোহিঙ্গা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শতভাগ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এছাড়াও রোগী কল্যাণ সমিতি ও এমএসএফ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ওষুধসহ নানা ধরনের সহায়তা করছে।’ অন্য রোগীদের অভিযোগে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিও সংস্থা ও সাংবাদিকরা বেশি তৎপর। তাই অন্য রোগীরা মনে করছে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা বেশি দেওয়া হচ্ছে। এটা ওদের ভুল ধারণা। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সব রোগীর পাশে আছি।

গুলিবিদ্ধ ও আগুনে পোড়া রোগীদের দীর্ঘদিন চিকিৎসা সেবা নিতে হয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে এখনো কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা সেবা দিতে যদি কোন সমস্যা হয়, তাহলে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে তাদের।

হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, ‘২৫ আগস্ট সহিংসতার শুরুর পর পর থেকে এ পর্যন্ত চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৫ জন রোহিঙ্গা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা গেছে। ৮০ জন হাসপাতালের ১৩, ১৪, ২৬, ২৭, ১৬, ১১ (বি), ৮, ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে। এরমধ্যে ৫০ শতাংশ রোগী ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও ৫৪ জন রোহিঙ্গা চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে।

মতামত...