,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের তল্লাশির সময় রেলওয়ের ‘ভুয়া পুলিশ সুপার’কে গ্ণ ধোলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::রেলওয়ে ‘পুলিশ সুপার’–এর নেতৃত্বে চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের তল্লাশি করছিলেন দুই কনস্টেবল। তল্লাশি যখন হয়রানিতে রূপ নেয়, তখন সন্দেহ করেন যাত্রীরা। এক পর্যায়ে যাত্রীরা নিশ্চিত হন, তিনি ‘পুলিশ সুপার’ নন। কিন্তু কনস্টেবলরা তখনো তাকে ‘পুলিশ সুপার’ ভেবেই (?) সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন। একসময় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা আটকে ফেলেন ‘পুলিশ সুপার’ পরিচয় দেওয়া প্রতারককে। আর তখনই সটকে পড়েন দুই কনস্টেবল। ওরা আসলেই ছিলেন রেলওয়ে পুলিশের সদস্য।

গত সোমবার রাতে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম আসা উদয়ন এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ সুপার সেজে রেল পুলিশেরই দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করছিলেন ওই প্রতারক। তার নাম আব্দুর আহাদ (২৪)। তাকে গণধোলাই দিয়ে জিআরপি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশের দুই কনস্টেবল সিহাব উদ্দিন ও আব্দুল হালিমকে ক্লোজড করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, একজন প্রতারককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সময় ওই বগিতে দায়িত্বরত থাকায় আমাদের দুজন সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। ধৃত প্রতারক আব্দুর আহাদের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের হবে বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে উদয়ন এক্সপ্রেস ছাড়ে সোমবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে। রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ ধৃত আহাদ দুজন কনস্টেবলকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন বগিতে তল্লাশি শুরু করে। এসময় কনস্টেবলরা ড্রেস পরা থাকলেও আহাদ ছিল ‘কোট–টাই’ পরা। তবে কনস্টেবল সঙ্গে থাকায় কেউ সন্দেহ করেনি। তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে বগিতে থাকা শামীমা জান্নাত নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে আহাদ ও অন্য পুলিশ সদস্যরা। তখন শামীমার সহপাঠীরা আহাদের পরিচয় জানতে চান। আহাদ প্রথমে নিজেকে ডিবি পরিচয় দেয়। এসময় যাত্রীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে আহাদ এবার নিজেকে রেলওয়ে ‘পুলিশ সুপার’ পরিচয় দেয়। এতে সন্দেহ হওয়ায় যাত্রীরা তাকে ধরে ফেলে। ওই সময় দুই কনস্টেবল ‘ভুল’ হয়েছে স্বীকার করে বিষয়টি মীমাংসা করতে চান। এর মধ্যে যাত্রীদের কয়েকজন জিআরপি ও শীমঙ্গল রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদিকে আখাউড়া স্টেশন আসার পর এক ফাঁকে সটকে পড়েন দুই কনস্টেবল সিহাব উদ্দিন ও আব্দুল হালিম।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাত দেড়টার দিকে আমাদের বগিতে এসে তল্লাশি শুরু করেন আহাদ। এ সময় তার সঙ্গে দুজন কনস্টেবলও ছিলেন। আমাদের এক বান্ধবীকে আহাদ জিজ্ঞেস করে, কার সঙ্গে এসেছে। এক পর্যায়ে তার বাবাকে ফোন করতে বলে। নিজের মোবাইল থেকে বান্ধবী কল করার পর ওই প্রান্ত থেকে রিসিভ করলে আহাদ মোবাইল কেড়ে নিয়ে বান্ধবীর বাবাকে বলে, আপনার মেয়েকে কী অবস্থায় পেয়েছি জানেন? এছাড়া আরো কিছু আপত্তিকর কথা বলে লাইন কেটে দেয়। এমন উদ্যত ব্যবহার দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা তার পরিচয় জানতে চাইলে ডিবি পরিচয় দেয়। আইডি কার্ড দেখাতে বললে নিজেকে রেলের পুলিশ সুপার পরিচয় দেয়। তখন সন্দেহ দৃঢ় হলে অন্য যাত্রীরা মিলে তাকে আটক করে। তখন কনস্টেবলদের কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তারা দিতে পারেনি। তারা নাকি চেনেই না। এর মধ্যে এক ফাঁকে দুই কনস্টেবল পালিয়ে যান। আহাদকে সকালে জিআরপি থানায় হস্তান্তর করি।

মতামত...