,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চসিকের চিকিৎসক দম্পতির ভেজাল ওষুধ কারখানা!

 

MEDICINনিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, ১৩ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::ভুয়া সনদ ও সিল-সই জাল করে ভেজাল ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) চিকিৎসক দম্পতিসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে নগরীর উত্তর কাট্টলীতে ‘লেক্সিকন ফার্মাসিউটিক্যালস’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় সেখান থেকে দুই লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও মোড়ক জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার দম্পতি হলেন- চসিকের উত্তর কাট্টলীর আঞ্চলিক মেডিকেল কর্মকর্তা এএইচএম নজিরুল হক হেলাল ও তার স্ত্রী চসিকের মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালের চিকিৎসক জান্নাতুল মাওয়া।
 গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন- ওষুধ কারখানাটির পরিচালক আবদুল জলিল এবং দুই কর্মচারী রুহুল আমিন ও আল-আমীন।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত কুমার বড়ুয়া সমকালকে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ১টার দিকে উত্তর কাট্টলীর একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় ভেজাল ওষুধ তৈরির সময় হাতেনাতে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই ওষুধ কোম্পানিটির দুজন পরিচালকের নাম বলেন। পরে দেখা যায়, তারা দুজনই চসিকের ডাক্তার।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় কারখানায় ওমিপ্রাজল সিরিজের নকল ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল।’
পুলিশ জানায়, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা এএইচএম নজিরুল হক হেলাল লেক্সিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
কারখানাটির ১১ জন শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে গ্রেফতারকৃত চিকিৎসক দম্পতি ও পরিচালক আবদুল জলিল ছাড়া আরও রয়েছেন- রবিউল আহসান, আমিন মুসা, মো. নাঈম, আহমেদ মুসা, জান্নাতুল নাঈম, জালালউদ্দিন, মনজুর মোর্শেদ এবং রায়হান জান্নাত। তারা সবাই লেক্সিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক। তবে এখনও তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
অভিযানে থাকা পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বলেন, ‘একটি সেমিপাকা এক-রুম বিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কারখানাটির কার্যক্রম চলত। গ্লাসের পার্টিশন দিয়ে ঘরটিকে কয়েকভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ওই ওষুধ কারখানার বাইরে কোনো সাইনবোর্ড ছিল না। দরজায় শুধু লেখা, প্রবেশ নিষেধ। আমরা কাগজপত্র দেখতে চাইলে, তারা কিছু জাল লাইসেন্স দেখায়।’
ঘরটি ভাড়া করে গত তিন মাস ধরে ভেজাল ওষুধ তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওষুধ কোম্পানিটির বাকি শেয়ারহোল্ডারদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের চট্টগ্রামের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মাখনুন তাবাসসুম সমকালকে বলেন, ‘কারখানাটিতে গ্যাস্ট্রিকের নকল ওষুধসহ প্রায় আট ধরনের ভেজাল ওষুধ তৈরি হতো।’
তিনি আরও জানান, লেক্সিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজারজাতকৃত ইফোল্যাক্স ২০ মি.গ্রা. নামক গ্যাস্ট্রিকের ওষুধটি বেশি তৈরি হতো।
ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। এছাড়া ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পক্ষ থেকেও একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. শফিউল আলম  বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

মতামত...