,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চাই পরিকল্পিত নগরায়ণ

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প। অনুমোদিত ব্যয়  ৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার। দুই লেনবিশিষ্ট টানেলের শহর প্রান্ত থাকবে নেভাল একাডেমীর দিকে অপর প্রান্তে সিইউএফএল পয়েন্ট।কাজ শুরু হবে ২০১৬ সালের নভেম্বরে এবং শেষ হবে ২০২০ সালের জুন মাসে।
একনেকে প্রকল্প পাস হওয়ায় দেশে এই প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ব্যবস্থায় পরিকল্পিত নগরায়ণ গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য, দেশিবিদেশি বিনিয়োগ যেমন বাড়বে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধিত হবে,ইতোমধ্যেই সরকার থেকে আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল , চীনও নদীর ওপারে গড়ে তুলবে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন।চট্টগ্রাম বন্দরের ‘হিন্টারল্যান্ড’ সমৃদ্ধ হবে।
মহেশখালির প্রস্তাবিত সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয় প্রবৃদ্ধিও বাড়বে অনেক। এ সব প্রকল্প চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ দ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং পর্যটন, পূর্বমুখি দেশগুলির সাথে বাণিজ্য, ব্লু ইকনমি সহ নানামুখি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ফলে চট্টগ্রাম ও সন্নিহিত অঞ্চল দেশি বিদেশি বিনিয়োগের আদর্শস্থল হবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় সড়ক এবং দোহাজারি থেকে কক্সবাজার-গুনধুম রেলপথ নির্মাণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের গুরুত্ব বাড়াবে।
চট্টগ্রাম মহানগরী ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে আলোচনা, গোলটেবিল হচ্ছে, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা এসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন।
এর ফলে চট্টগ্রামের উন্নয়নের গুরুত্ব অনুভূত হচ্ছে সকল মহলে কিন্তু সংশ্লিষ্ট সকল বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে, বিশেষজ্ঞ সুপারিশ বিবেচনায় না নিলে উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে যথাযথ উপযোগিতা পাওয়া যাবে না। জনগণের অর্থের অপচয় হবে।
এজন্যে চট্টগ্রাম মহানগরী ও সন্নিহিত অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠন করা, বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি, জনবল নিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো একান্ত প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন চিন্তা, আমলাতন্ত্রিক ধ্যানধারণা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।
চট্টগ্রামের প্রকৃতি ও পরিবেশগত অবস্থান যে কোন মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে, তা করা না হলে চট্টগ্রামবাসীকে অপরিকল্পিত উন্নয়নের বিড়ম্বনা সইতে হবে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের খেসারত দিতে হবে।
আমরা চাই সরকারি ও বেসরকারি মহলের নগরায়ণ ও উন্নয়ন চিন্তার অর্থপূর্ণ বিকাশ ঘটবে, আধুনিক নগর চিন্তা নিয়ে কর্ণফুলীর দু পারে গড়ে উঠুক আন্তর্জাতিক মানের নগরী, নগরবাসীর স্বস্তিকর জীবনযাপনের সুযোগ সুবিধা অবারিত হোক।

মতামত...