,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চা বিক্রেতা বাবুল খুনের মামলায় পুলিশ আসামি নয়

ooনিজস্ব প্রতিবেদক,  ঢাকা,০৫, ফেব্রুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::  চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুতে মামলায় কোন  পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়নি।

 

রাজধানীর শাহআলী থানায় স্বজনদের দিয়ে বাবুলের মৃত্যুর আগেই বুধবার রাত দেড়টার দিকে তড়িঘড়ি করে এ মামলা করা হয়।

 

দগ্ধ বাবুল মাতুব্বরের মেয়ে রোকসানা আকতারের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন ‘মাদক ব্যবসায়ীকে’। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- পারুল, দেলোয়ার, রবিন, শংকর, দুলাল হাওলাদার এবং পারভীন। এদের মধ্যে পুলিশ পারুলকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

বাবুলের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতেই পুলিশ বাবুলের পরিবারকে দিয়ে মামলা করিয়েছে।

 

এ অভিযোগ অস্বীকার করে শাহআলী থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডল বলেছেন, ‘মামলা যথা নিয়মেই হয়েছে। আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবুল। তার মৃত্যুর পর ৪ পুলিশ সদস্যকে শাহআলী থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

 

নিহতের ছেলে রাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবা মিরপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কিংশুক সমিতির সামনের ফুটপাতে চা বিক্রি করেন। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি দোকানে কাজ করছিলেন। এ সময় ওই রাস্তা দিয়ে পুলিশের সোর্স দেলোয়ারসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য যাচ্ছিলেন। তারা বাবার কাছে এসে চাঁদার টাকা দাবি করেন।’

 

তিনি জানান, টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক সময় পুলিশ সদস্যরা হাতে থাকা লাঠি দিয়ে চায়ের চুলায় (স্ট্রোভ) আঘাত করে। এ সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে তার বাবার শরীর ঝলসে যায়।

 

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, আগুনে বাবুলের ব্যক্তির শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

 

বাবুলের মেয়ে লাবণী আক্তার বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা থানায় গিয়েছিলাম পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে। কিন্তু, মামলা নেয়নি। পুলিশের নাম বাদ দিয়ে তড়িঘড়ি করে মামলা রেকর্ড করে।’

 

ঘটনার পর পুলিশ অগ্নিদগ্ধ বাবুলকে হাসপাতালের বদলে থানায় নিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

 

লাবণী বলেন, ‘পুলিশ আমার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করেনি। আমরাই পরে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

 

পুলিশের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

 

তবে, শাহআলী থানার ওসি শাহীন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যথা নিয়মেই মামলা হয়েছে। কাউকে কোনো চাপ দিয়ে মামলা হয়নি। আর মামলা না করলে আসামি ধরব কেমন করে?’

 

তিনি বলেন, ‘তদন্তে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহআলী থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা হলেন- থানার এসআই মমিনুর রহমান ও নিয়াজউদ্দিন মোল্লা, এএসআই জগিন্দ্রনাথ ও কনস্টেবল জসিম।

 

মতামত...