,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চিটাগাং চেম্বারের সাথে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম নেতৃবৃন্দ দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সাথে ২৪ ফেব্র“য়ারী বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মাহফুজুল হক শাহ ও অঞ্জন শেখর দাশ, চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সেক্রেটারী জিয়াউর রহমান, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আখতার মালা, এসএ টিভির বিজনেস এডিটর সালাউদ্দিন বাবলু ও নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আশরাফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে চেম্বার পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, ফোরামের সদস্যবৃন্দ ও চেম্বার সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-চট্টগ্রামে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভূমির দু®প্রাপ্যতা অন্যতম প্রধান সমস্যা। উন্নত বিশ্বের আদলে সারাদেশে ১০০ বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়ন হলে এক থেকে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানসহ দেশের অর্থনীতি উন্নতির শিখরে আরোহন করবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ৩৮ কি.মি. দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশে ৩০ হাজার একর জায়গা নিয়ে গঠিত হচ্ছে মিরসরাই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল যেখানে প্রচুর দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ সম্ভব হবে। তিনি এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানান।

চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট নিয়ে চেম্বার সভাপতি বলেন-৫০০এমএমসিএফটি চাহিদার বিপরীতে আজকের সরবরাহ ২৪০ এমএমসিএফটি। গ্যাসের এই সংকটের কারণে ইতোমধ্যে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে ৬০০ গার্মেন্টস শিল্প কারখানা ছিল যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ এ নেমে এসেছে। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হলে ২০১৮ সালের মধ্যে গ্যাস সংকট নিরসন হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। বিদ্যুৎ সম্পর্কে তিনি বলেন-দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবে শিল্পের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করতে হবে এবং পাশাপাশি নৌ-পথ ও রেলপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।

বাণিজ্যিক রাজধানীর ক্ষেত্রে তিনি বলেন-এক সময় ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত অধিদপ্তর, ব্যাংক এবং অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত ছিল যা পর্যায়ক্রমে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকের ডিএমডি লেভেলের কর্মকর্তা থাকলেও কার্যত তাদের কোন ক্ষমতা নেই। এইসব প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন করতে হবে যাতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন চট্টগ্রাম থেকে সম্পাদন করা সম্ভব হয়। প্রায় ২৪ লাখ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার উদাহরণ। তবে কাস্টমস এর ২১% প্রবৃদ্ধি ও বন্দরের ক্রমবর্ধমান ১৪-১৫% প্রবৃদ্ধির সাথে সংগতি রেখে এবং ২০২১ সালের মধ্যে আরএমজি রপ্তানিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে বে-টার্মিনাল প্রকল্প ফাস্টট্র্যাক হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কেননা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১২-১৩ মিটার ডাফটের প্রায় ৫০টি জাহাজ একসাথে বার্থিং করতে পারবে। এ টার্মিনাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে, রেলপথ ও নৌপথে সারাদেশে পণ্য পরিবহন করা যাাবে। সাগর, নদী ও পাহাড়বেষ্টিত রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের প্রসারে চট্টগ্রাম থেকে এসব অঞ্চলে ডাবল লাইন সড়ক নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন চেম্বার সভাপতি। আঞ্চলিকতা ব্যতিরেখে দেশের ৫০-৬০% যুব শক্তিকে দক্ষ জনবলে রূপান্তরিত করে যে অঞ্চলে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারী নীতিমালা প্রণয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন মাহবুবুল আলম।

চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জয়েন্ট স্টক, আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক, বিআইডিএ, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতায়নের দাবী জানান। অঞ্জন শেখর দাশ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন। রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে যৌথভাবে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব করেন। সেক্রেটারী জিয়াউর রহমান ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন। মতবিনিময় শেষে ফোরামের নেতৃবৃন্দ এক্সিবিশন হলসহ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বিভিন্ন কম্পোন্যান্ট পরিদর্শন করেন।

মতামত...