,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চীনের প্রেসিডেন্টের সফর বাংলাদেশ জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ

chaina-pracint

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ প্রায় তিন দশক পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসছেন। শি জিনপিংয়ের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। এটি তার তিন দেশ সফরের অংশ। এবার তিনি কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ ও ভারত সফর করবেন। সফরকালে দু’দেশের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি সই হবে। তার পূর্বনির্ধারিত নেপাল সফর বাতিল হয়েছে। ভারতে তিনি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকে সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু সরকারের জন্যই নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির অনুকূলে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় আসছেন। চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। তার এই সফরের সময় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ২৫টি মেগা প্রকল্পের জন্য দুই বিলিয়ন ডলার (এক লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা) ঋণের বিষয় চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।

এই সফরে বঙ্গোপসাগরে পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের সহায়তার বিষয়টিও চূড়ান্ত হবে। চীনের প্রেসিডেন্টের এ সফরে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অধীনে ঋণ সহায়তার সমঝোতা চুক্তি সই হবে।

দু’দিনের সফরে ঢাকায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কেং সোমবার এক ঘোষণায় বলেন, কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম শিহামনি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ ও অষ্টম ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে আগামী ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই তিন দেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন।

চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লি বাউডং বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি’র বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেছেন, সফরকালে দু’দেশ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করবে। তিনি আরও বলেন, গোয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, পাঁচ জাতির ব্রিকস ব্লকের নেতাদের সঙ্গে বিমসটেক নেতাদের বৈঠকের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে, চীনের প্রেসিডেন্টের নেপাল সফর বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশে আসার আগে তার নেপাল সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ড ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে যে, চীন ও নেপালের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চুক্তি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় চীন খুবই হতাশ। এ কারণেই চীনের প্রেসিডেন্টের নেপাল সফর বাতিল হয়েছে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত জোট ব্রিকস সম্মেলন আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরীয় জোট বিমসটেকের শীর্ষ নেতারা ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১৬ অক্টোবর ভারতের গোয়ায় যাচ্ছেন। সেখানে সাইডলাইনে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে বড় অংকের ঋণ ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কয়টি প্রকল্পে কত ঋণ ঘোষণা করা হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিদিনই এ নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাসহ ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় তিন দশক পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তবে এর আগে ২০১০ সালে শি জিনপিং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে চীন সফরে গিয়ে ‘ক্লোজার কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অব কোঅপারেশন’ নামের চুক্তি করেন। এ চুক্তিকে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের রোডম্যাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারপর ২০১৪ সালেও শেখ হাসিনা চীন সফর করেন।

প্রায় দু’বছর ধরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের কথাবার্তা চলছে। তবে গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো কৌশলগত কিছু ইস্যুতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সফরটি বিলম্বিত হয়। চীন বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ এখন পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন বলেছে, যে কোনো স্থানে গভীর সমুদ্রবন্দর হলে সেখানেই চীন এই কাজটি করতে চায়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটি কনসোর্টিয়াম করে গভীর সমুদ্রবন্দর করা হবে। এতে চীনও গভীর সমুদ্রবন্দরের কোনো অংশের কাজ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হিসেবে দেখা হয়। তবে বেইজিং এই সম্পর্ককে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। কেননা চীন বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ দ্বার থেকে স্বার্থ পেতে আগ্রহী। ফলে উভয় দেশের স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে এখান থেকে লাভ পাওয়া সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

মতামত...