,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চেম্বার ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভায় বিকডার চার্জ বৃদ্ধিতে ক্ষোভ

mahbubনিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,১৮, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ চেম্বার কার্যালয়ে রবিবার এক মতবিনিময় সভা চেম্বার সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চেম্বার সভাপতি বলেন, স্টেকহোল্ডার বা লাইসেন্সিং অথরিটি কারো মতামত না নিয়ে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো এসোসিয়েশন (বিকডা) একতরফাভাবে চার্জ বৃদ্ধি করে তা আদায় করছে যা অযৌক্তিক। তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। মন্ত্রণালয় যখন এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করছে তখন তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার আহবান জানান মাহবুবুল আলম। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন, ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোসহ ইউজার্স ফোরামের কতিপয় সংগঠনের অসহযোগিতার কারণে চিটাগাং চেম্বারের এলএমডি কার্যক্রম অনেকাংশে কমে যাওয়াতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদেশী সাপ্লাইয়ার্সরা আস্থাহীনতায় ভুগছে, পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই তিনি এলএমডি কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়ার জন্য বন্দর, কাস্টমস ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশন (বাফা)’র সভাপতি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম ইউজার্স ফোরামের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে চার্জ নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের চার্জ বহাল রাখার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রতি কন্টেইনারে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে, ফলে ভোক্তাসাধারণকে এর গ্লানি বহন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সিএন্ডএফ সভাপতি এ. কে. এম. আক্‌তার হোসেন বলেন, ক্ষেত্র বিশেষে বিকডা ১০০% থেকে ৩০০% পর্যন্ত চার্জ বৃদ্ধি করেছে যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রয়োজনে ৫দিন পর্যন্ত পণ্য বন্দরে থাকবে এবং ইউজার্স ফোরামের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত চার্জ বৃদ্ধি স্থগিত থাকবে।

বিজিএমইএ’র সাবেক ১ম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার পকেট থেকে টাকা নিবেন কিন্তু আমার সাথে আলোচনা না করে চার্জ বৃদ্ধি করবেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যায়; একতরফাভাবে নয়। চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ সভায় বিকডার একতরফা আচরণের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আহুত সভায় পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সকল সদস্যকে উপস্থিত হয়ে ফোরামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাতে তারা চলতে বাধ্য হয় সকলকে সম্মিলিতভাবে সে বিষয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে। ওওসিএল’র জিএম ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমদানির ক্ষেত্রে ২০ ফুট কন্টেইনার এর চার্জ ৪,২৫০/৫,০০০টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০/-টাকা, ৪০ ফুট কন্টেইনার এর চার্জ ৫,৫০০/৬,৫০০টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮,৫০০/-টাকা, অনসেসিস ডেলিভারীর ক্ষেত্রে ৪,৫০০/৫,০০০টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬,৫০০/৭,৫০০টাকা, কার্টন চার্জের ক্ষেত্রে পূর্বের ১.৬০টাকা ক্ষেত্রে বাড়িয়ে ৩ টাকাসহ এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চার্জ বৃদ্ধি করা মরার উপর খাঁড়ার ঘা বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ,বিকেএমইএ’র শওকত ওসমান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক এস. এম. নুর উদ্দিন,সিএন্ডএফ’র ১ম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু ও বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ লিয়াকত আলী হাওলাদার, বাফার পরিচালক সৈয়দ মোঃ বখতিয়ার, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক ও কন্ট্রাক্টর এসোসিয়েশন’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জহুর আহমেদ ও মোঃ জহুরুল আলম। এ সময় বিএসএএ’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী ও পরিচালক ওয়াহিদ আলম, বাফার সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী (মিজান), পরিচালক অমিয় শংকর বর্মন ও খায়রুল আলম সুজন, কে লাইন’র নির্বাহী পরিচালক সাহেদ সরওয়ার, খন্দকার লুৎফুর রহমান (আজিম) ও প্রাইম মুভার এসোসিয়েশন’র আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...