,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চোরের বাসায় সিসি ক্যামেরা! পুলিশকে নজরে রাখতে

cনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাসার চারপাশে লাগিয়েছেন সাতটি সিসিটিভি ক্যামেরা। আছে মনিটর। কন্ট্রোলারের সঙ্গে সংযোগ আছে মোবাইল ফোনের। দরজায় লাগানো হয়েছে শক্তিশালী দূরবীন। বাসায় কে আসছেন, কে যাচ্ছেন সব দৃশ্য মোবাইল ফোনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সঙ্গে রাখেন বিদেশি পিস্তল। যার বাসা ঘিরে এত নিরাপত্তা, তিনি হলেন মো. নাসির। বর্ণনা শুনে তাকে বড় কোনো ব্যবসায়ী বা সরকারি কর্মকর্তা মনে হলেও, মূলত তিনি একজন দুর্ধর্ষ চোর। মোটর সাইকেল চুরি করা তার পেশা। পুলিশ আসে কি-না, পাহারা দিতেই বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছেন তিনি।

খুলশি থানা এলাকায় মোটর সাইকেল চুরির দুটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে নগরের পূর্ব বাকলিয়া আশরাফিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় নাসিরের বাসা থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও সিসিটিভি ক্যামেরার কন্ট্রোলার এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এসময় বাসায় নাসিরকে না পেলেও তার স্ত্রী রোকসানা আকতারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। দুর্ধর্ষ মোটর সাইকেল চোর নাসিরের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, একটি কিরিচ ও চারটি ছোরা, একটি কাটার, হাতুড়ি, প্লাস ও তিনটি রেঞ্জ এবং একটি সিসিটিভি কন্ট্রোলার।

অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে বুধবার দুপুরে নগরের লালখান বাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সিআইডি। এসময় রোকসানা আকতার সিআইডি কর্মকর্তাদের জানান, তার পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ছোট বয়সে মা-বাবার সঙ্গে চট্টগ্রাম আসেন তিনি। তার বাবা-মা থাকেন নগরের হালিশহর মধ্যম রামপুরা এলাকায়। তারা দুই ভাই, দুই বোন। বড়ভাই ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ছোটভাই নগরে ভাড়ায় গাড়ি চালান।

স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন রোকসানা ৭ বছর আগে প্রেম করে নাসিরকে বিয়ে করেন। তার একটি সন্তান আছে। বিয়ের আগে জানতেন নাসির একজন ব্যবসায়ী। কর্নেলহাট এলাকায় তার (নাসির) একটি মোটর গ্যারেজ আছে। পালিয়ে বিয়ে করায় মেনে নেননি বাবা-মা। বিয়ের পর জানতে পারলেন নাসির ব্যবসায়ী নন। পেশায় একজন মোটর সাইকেল চোর। পালিয়ে বিয়ে করার পর জানলেন আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন নাসির। তবে তার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে আর এক মেয়ে রয়েছে। রোকসানাই তাদের দেখভাল করেন।

সিআইডি জানায়, গত ১৯ আগস্ট খুলশি আবাসিক এলাকার নাহার বিল্ডিংয়ের নিচতলা থেকে দুটি মোটর সাইকেল চুরি হয়। এর মধ্যে একটি মোটর সাইকেল সিআইডির কনস্টেবল আজিজুল ইসলামের। অন্যটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা পলাশ রায়ের। এ ঘটনায় খুলশি থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়। দুটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

নাহার বিল্ডিংয়ের নিচতলা থেকে নাসিরের হাতে দুটি মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ধরা পড়ে সিসিটিভির ফুটেজে। ওই ফুটেজটি জব্দ করেছে সিআইডি। সেটি পর্যালোচনা করে সিআইডি দেখতে পায়, নাসির এবং তার আরেক সহযোগী তালা কেটে মোটর সাইকেল দুটি চুরি করে চম্পট দেয়। গত আগস্ট মাসেও কর্ণফুলী সেতু এলাকায় একজনের পায়ে গুলি করে মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান নাসির। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় মোটর সাইকেল চুরির ১৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিআইডির এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে দুর্ধর্ষ মোটর সাইকেল চোর নাসিরের তথ্য পান তারা। একইসঙ্গে নাসিরের বাসায় স’াপন করা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বাসার আলমিরায় বিদেশি পিস্তল থাকার তথ্য পান তারা। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাকলিয়ায় অভিযানের সময় নাসিরকে না পেলেও তার স্ত্রী রোকসানা কোনোভাবেই আমাদের আলমিরা খুলতে দিচ্ছিলেন না। পরে বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশিদের ডেকে এনে তাদের সামনে আলমিরা খুলে সেখান থেকে বিদেশি পিস্তল গুলি ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অস্ত্র উদ্ধারে সিআইডিকে কেন সহযোগিতা করেননি জানতে চাইলে গতকাল সিআইডি কার্যালয়ে রোকসানা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত সোমবার অস্ত্র ও গুলি এনে নাসির আলমারিতে রাখেন। পুলিশের অস্ত্র বাসায় কেন জানতে চাওয়ায় নাসির বলেন, ‘তোমাকে কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি?’। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আমার ঝগড়া হয়। গত পরশু (সোমবার) আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান নাসির।’

রোকসানার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান সিআইডির এসআই জাহাঙ্গীর আলম।

মতামত...