,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ছাত্রলীগকে ভবিষ্যতের হাল ধরতে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে: মাহবুব-উল-আলম হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ অনুষ্ঠান চলাকালীন ছাত্রলীগের স্লোগানরত নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ছাত্রলীগের আগের এবং বর্তমান নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনেক পার্থক্য । এখন অনেক কর্মীরা শুধু স্লোগান দিয়ে ফোকাসে আসতে ব্যস্ত। কিন্তু তাদের প্রকৃত ছাত্রলীগের ইতিহাস জানা উচিত ও শৃঙ্খল হওয়া উচিত। পড়াশুনা করে তাদের ভবিষ্যতের হাল ধরতে এখনই প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতিতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও আদর্শকে কাজে লাগিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সত্তর বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামে বৃহৎ এই ছাত্র সংগঠন। গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যে ছাত্রলীগের রয়েছে অভূতপূর্ব ইতিহাস। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময়েও ছাত্রলীগ রেখেছে অনন্য ভূমিকা। যুদ্ধ পরবর্তী সময়েও স্বৈরাচারী শাসন ও বিএনপি-জামাতের জ্বালাও-পোড়াও এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সাহসিকতার সাথে। তাই ছাত্রলীগকে বলা হয় আওয়ামী লীগের লড়াকু সৈনিক। গতকাল সকালে নগরীর মুসলিম হল প্রঙ্গনে ছাত্রলীগের সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে নগর ছাত্রলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিএনপি-জামাতের সমালোচনা করে আরো বলেন, জিয়া কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে তিনি ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যখন দেশে যুদ্ধাাপরাধীদের বিচার করছে তখন পাকিস্তান পার্লামেন্টে নিন্দা জানানো হচ্ছে। এসব ঘটছে বিএনপির কারণে। তারা এখনো জামাতের সঙ্গ ছাড়া থাকতে পারে না

সভায় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ন্যূনতম শিক্ষা, পরিমিতিবোধ ও দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে ছাত্রলীগ টিকবে না। আর ছাত্রলীগ না টিকলে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগও টিকবে না। মহিবুল হাসান তাঁর বাবা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাবা ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে বলতেন আমরা পাইলিংএর কাজ করে গিয়েছি। এখন নতুনদের সেখানে অবকাঠামো তৈরি করে করে তার পরিচর্যা করার সময়। ছাত্রলীগ শিক্ষিত না হলে যারা এই রাষ্ট্রের মূল আদর্শে বিশ্বাসী নয়, তারা নেতৃত্বে চলে আসবে।

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ও সংগ্রামে এই সংগঠনের বিশ হাজার নেতা রক্ত দিয়েছে। সেই প্রাণ প্রিয় সংগঠনের সত্তর বছর চলছে যা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

আহমেদ ইমু বলেন, আমাদের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে খুন করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসে বলেছিলেন খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। কিন্তু খুনিদের এখনো খুনীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। শুধু সুদীপ্ত নয় দিয়াজ ইরফান চৌধুরী, নাসিম আহমেদ সোহেলের হত্যাকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নূরুল আজিম রণি বলেন, দিয়াজ ইরফান, সুদীপ্ত, সোহেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আমরা বারবার আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভালো ছেলেরা আর ছাত্রলীগ করতে আসবে না।

কেক কেটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদযাপন করেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সাথে ছিলেন চট্টগ্রামের প্রবীণ সব ছাত্রনেতা।

মতামত...