,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ছাত্রলীগের পদ হারানোর ভয়েই হোটেলে গোপন অভিসার

sl rahimনিজস্ব প্রতিবেদক,  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ  চট্টগ্রাম মহানগরীর সিটি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহীম জিল্লু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ ও  ছাত্রলীগের  নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে গোপনে বিয়ে করে ছিলেন।  আড়াল করে রেখেছিলেন নিজের  স্ত্রীকে। তাঁর বিয়ের কথা বাবা-মা, পরিবারের সদস্যরা জানে তবে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে করলেও  জানতেন  না রাজনৈতিক সহকর্মী ও বন্ধুরা।

 

আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক কর্মসূচী ও কর্মীদের ছবি দিয়ে নিজের ফেইসবুক ওয়াল অলংকরণ করা হলেও সেখানে নেই স্ত্রী সাদিয়া কাইয়ুম রশ্মির কোনো ছবি।
নেতৃত্ব ধরে রাখতে এতো নাটকীয়তা করেও শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে আড়াল করে রাখতে পারেন নি ছাত্রলীগের এই নেতা।

নিজ স্ত্রীর সাথে হোটেলে একান্ত সময় কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েনছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহীম জিল্লু  । তার পরেই তলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
শনিবার বিকালে  নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় আল ইসলামিয়া হোটেলের ২০১ নাম্বার কক্ষে আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটে।
নগরীর সদরঘাট থানার উপ পরিদর্শক মো: নজির জানান, হোটেল থেকে এক নারীসহ  আবদুর রহীম জিল্লুকে আটক করে পুলিশ। একপর্যায়ে আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসতে চাইলে ‘ আমি ছাত্রলীগ নেতা’ বলে হুংকার দিয়ে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈনুল ইসলামের  সাথে হাতাহাতিসহ খারাপ আচরণ করে জিল্লু। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসে।
দারগা নজির  বলেন, আটককৃত দুজনই যে স্বামী-স্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার না করে তারা ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ওসির স্যারের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।  পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় নিয়ে আসার পর ওনারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রহিম জিল্লু । বর্তমান ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য তিনি একাধিক লবিং করেও বিফল হয়েছেন।
আব্দুর রহীম জিল্লু বলেন, নগরীর আলকরণ এলাকার কাজি অফিসে ( কাজি দেলোয়ার )  ২০১৪ সালের ১৩ মে আমি সাদিয়া কাইয়ুম রশ্মিকে বিয়ে করি।
বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে বিয়ের কথা গোপন রাখতে হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনৈতিক সহকর্মীরা বলেন, বিয়ের কথা ফাস হয়ে গেলে ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া যাবে না এমন আশঙ্কা থেকেই নিজের বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন জিল্লুর।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসলামিয়া হোটেল থেকে এক নারীসহ ছাত্রলীগের এই নেতাকে আটকের পর স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীরা রাস্তা অবরোধ, থানা কম্পাউন্ড,  ট্রাফিক অফিস, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর শুরু করলে অনেকটা বাধ্য হয়েই আটককৃতদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
তবে ছাত্রলীগ কর্মীদের ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে আব্দুর রহীম জিল্লু  জানান, বিয়ে হলেও আমি আমার স্ত্রীকে এখনও ঘরে উঠিয়ে নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আল ইসলামিয়া হোটেলের সামনে বিকেলে দেখা করতে আসেন।  এসময় কথাবার্তা বলার জন্য আমি তাকে হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে গেলে ম্যানেজার আমাদের ২০১ নম্বর কক্ষে বসার ব্যবস্থা করে দেন।
জিল্লু’র আরও বলেন, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ওসি মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া হোটেলে প্রবেশ করেন।  ২০১ নম্বর কক্ষে আমাকে দেখে তিনি রেগে যান।  চিৎকার-চেঁচামেচি করে তিনি ম্যানেজারকে মারধর শুরু করেন।  এ সময় আমি প্রতিবাদ জানালে আমাকেও বেধড়ক পেটাতে থাকেন ওসি।
তবে, সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক বাবলা চৌধুরী বলেন, শনিবার বিকেলে হোটেলে অভিযান চালিয়ে জিল্লু ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ।  অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে তাদের আটক করা হলেও পরে পুলিশ জানতে পারে তারা স্বামী-স্ত্রী।  তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর করেছে।  পরে ছাত্রলীগ নেতাদের জিম্মায় জিল্লু ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বি এন আর/০০১৬০০৩০০২১/০০০৩৩৬/এস

মতামত...