,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ছাত্রলীগ নেতাকে শিক্ষকের চড় ! মুসলিম হাই স্কুলে তুলকালাম, আতংকে অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২২ বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম মহানগরীর সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে  প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী ও স্কুল ছাত্রলীগের নেতাকে এক শিক্ষক চড় মারার ঘটনায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে  ।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে পরে গোটা স্কুলে আতংকজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। ভাঙচুর করা হয় শ্রেণিকক্ষ-বেঞ্চ। ভয়ে ও আতংকে দিগবিদিগ ছুটোছুটি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। অনেকে স্কুল ছেড়ে চলে যায়। স্কুলের গেটে থাকা অভিভাবকদের মাঝেও এ সময় আতংক ভর করে। পরে পুলিশ এসে দু’জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক হেনরী ও পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্কুল ও পুলিশ জানা যায়, শনিবার দুপুর সোয়া বারটায় স্কুলের (ডে-শিফটের) এসেম্বলি চলাকালীন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী স্কুল ছাত্রলীগের সাথে জড়িত কয়েকজনের সাথে একটি শ্রেণিকক্ষে কথা বলছিলেন। এসেম্বলিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম দেখে এক শিক্ষক সেখানে যান এবং ছাত্রদের এসেম্বলিতে না যাওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দেওয়া সাফায়েত নামের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিক্ষকের সাথে তর্ক শুরু করেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক সাফায়েতকে একটি চড় মারেন। এতে ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ওই শিক্ষকের তাৎক্ষণিক শাস্তি দাবি করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছাত্রলীগ কর্মীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন এবং ওই শিক্ষককে সেখান থেকে নিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যে সাফায়েতসহ ছাত্রলীগের অন্য কর্মীরা ফোন করে দলবল নিয়ে আসে। তাঁরা স্কুলে আতংকজনক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চ ভাঙচুর করে। একই সাথে ওই শিক্ষকের উপর হামলা করতে উদ্যত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৎক্ষণাৎ জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক হেনরী।

সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  বলেন, আমি ডিসি মহোদয়কে বিষয়টি জানাই। আর ওই শিক্ষককে কোন রকমে রক্ষা করি। কিন্তু ছাত্রলীগ কর্মীরা এক ধরনের আতংকজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। অভিভাবকরাও আতংকিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ এসে দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। অবশ্য ওই দু’জনকে পরে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান পুলিশের সহকারি কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, দু’জনকে আটক করে থানায় আনা হয়। তবে পরবর্তীতে মীমাংসার মাধ্যমে ওই দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক জানান, সাফায়েত স্কুল থেকে গতবার (২০১৬ সালে) এসএসসি পাস করে গেছে। তবে সে নাকি এখনো স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি। আর জিহাদ নামের অপরজন নগর ছাত্রলীগের একটি পদে আছে বলে শুনেছি। এদিকে, ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা বলে গেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। আর শাস্তি না হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা স্কুলে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়ে গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

মতামত...