,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জঙ্গিবাদ দমনে সামাজিক সচেতনতা জ্রুরিঃ আইজি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৮, ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):  জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সারা দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে সদরদপ্তরে দুই দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারা দেশে সামাজিক সচেতনতা গড়ে না উঠলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গি তৎপরতা রোধ করা সম্ভব হবে না। পরিবারের ভূমিকাও এখানে জরুরি। প্রত্যেক নাগরিককেই এগিয়ে আসতে হবে।

সার্বিক বিবেচনায় পুলিশের উচ্চ মহল থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশিষ্ট আলেম, ওলামা, মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষকদের জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণের কাজে সংযুক্ত করা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসের শেষ দিক থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানানো হয় আলেমদের। জঙ্গিবাদ রুখতে আলেম সমাজ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের মতবিনিময় হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বৈঠক। বৈঠকে খুলনা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখকরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উগ্র ধর্মীয় মতবাদের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দারাও এ বিষয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সতর্ক করেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। অনেকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে উন্নতপ্রযুক্তির বোমা তৈরির উপকরণ, ডিভাইস, মোবাইল ফোন জ্যামার, স্পাই মোবাইল ফোনের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি।

পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহছান জানান, আলেম-ওলামা-মাশায়াখদের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক ধারাবাহিকভাবে চলবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক, আলেম-ওলামা-মাশায়েখদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বৈঠকে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে করনীয় ও তাদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হবে।

তবে আর কতোটি বৈঠক হবে বা কতজন আলেম-ওলামাকে এসব বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সে ব্যাপারে কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানদের বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিৎ। কেননা, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো তরুণ ও যুবকদেরকে বিশেষভাবে টার্গেট করে দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রযুক্তি জ্ঞান আছে এমন ব্যক্তি, আর্থিকভাবে সচ্ছল ঘরের সন্তানদেরকেই তারা টার্গেট করছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসন দিয়ে কোনো দেশই জঙ্গিবাদ রুখতে পারেনি। এজন্য সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার জঙ্গিদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত। এদের মধ্যে যেমন আছে মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কর্মরত প্রকৌশলী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিচারপতি ও সচিবের সন্তান, তেমনি অছে সাধারণ ফেরিওয়ালাও।

সূত্রে জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত ওলামা-মাশায়েখরা পুলিশ প্রধানকে জানান- সারা দেশে ৩ লাখ ইমাম ও ৩ লাখ মুয়াজ্জিন আছেন। এদের মধ্যে থেকে জঙ্গিবাদ বিরোধী একলাখ ইমামের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ফতোয়া তৈরি করে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য তারা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেমদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এখন চুপ করে থাকার সময় নয়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা সবার ঈমানি দায়িত্ব। নিজেদের নিরাপত্তার জন্যেও প্রয়োজন। না হলে তারা হুর-পরির লোভে আমাদের গলায়ও ছুরি ধরতে পারে। তাই ওলামা-মাশায়াখদের বয়ান ও ওয়াজ মাহফিলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

তারা ওলামা-মাশায়াখদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেশের প্রত্যেক জেলায় এ ধরনের বৈঠক করার প্রস্তাব দেন।

মতামত...