,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া উন্নয়ন কর্মকান্ড সফল হয় না: ব্যারিস্টার নওফেল

নাছির মীর, ১২  জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ড সফল করা সম্ভব হয় না। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের চাহিদা ও আকাক্সক্ষা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে তা জাতির জন্য সুফল বয়ে আনে।

মঙ্গলবার বিকালে বাকলিয়া জনকল্যাণ সমিতি আয়োজিত বাকলিয়ার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। একক আলোচক হিসেবে তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি অধিকতর গুরুত্ব দেন বলে বিগত কাউন্সিলে তাকেসহ তিন জনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছেন। তিনি চট্টগ্রামকে অন্তর দিয়ে ভালবাসেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে একাধিক মেগা প্রকল্প দিয়েছেন। বাকলিয়া এক্সেস রোডের ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া শুরু হয়েছে। ১১ জুলাই মঙ্গলবারএলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। এসব প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের বর্তমান হতশ্রী চিত্র পাল্টে যাবে। তবে স্থানীয় জনগণের সেবার মান বৃদ্ধি ও নাগরিক সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সেবামূলক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাটিকে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান বলে অভিহিত করে বলেন, এই সমস্যা এবার অতিবর্ষণে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম অপরিকল্পিত নগরায়ন। এখন রাস্তার পাশে বহুতল ভবনের পাইলিংয়ের মাটিতে খাল–নালা–নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে নগরীতে হাঁটু পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিডিএ’র সমন্বয়ের অভাবে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হয়নি। এই মাস্টার প্ল্যান করতে গিয়ে বড় অংকের সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। চাক্তাই খাল সংস্কারের জন্য প্রতিবছর কিছু না কিছু বরাদ্দ থাকে। কিন্তু এই বরাদ্দ ব্যয় হলেও ফল পাওয়া যায় না। তিনি মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন স্থানীয়ভাবে সম্ভব নয়, কেন্দ্রীয়ভাবেই হতে হবে। আমি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবো। তিনি বাকলিয়ার সুখ–দুঃখের সাথী হিসেবে সবসময় এলাকাবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার ঘোষণা করে বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক অভিপ্রায় নিয়ে এই সভায় আসিনি। আমি এলাকাবাসীর সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দেবো। আমি এও জানি, বাকলিয়া দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এই অবহেলার অবসান হবেই। তিনি নেতা–কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করেতে হবে। দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন, আমাদের রাজনীতি হবে জনবান্ধব। আমাদেরকে প্রত্যেক ভোটারদের কাছে যেতে হবে এবং আমাদের কোন প্রতিবেশি যদি আমাদের দল নাও করেন তবুও তাদের সুখ–দুঃখের সাথী হতে হবে। এলাকায় স্কুল–কলেজের অভাব রয়েছে। সরকারিভাবে স্কুল–কলেজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো।

বাকলিয়া জনকল্যাণ সমিতির আহবায়ক ইউনুছ কোম্পানির সভাপতিত্বে ও সাবেক কাউন্সিলর শহিদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন হাজী মো. শহীদুল আলম, নুরুল আমিন শান্তি, কাউন্সিলর হাজী নুরুল হক, সাহাব উদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ, আবু জাফর, মোহাম্মদ সরওয়ার, সাহাব উদ্দিন, নুরুল আজিম নুরু, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন, ছিদ্দিক আলম, মো. ইসহাক, আকবর রহমান, নাজিম উদ্দিন, আকবর, মোজাফফর, এডভোকেট জানে আলম, এডভোকেট নাজিম পাশা, মোহাম্মদ আজম, অধ্যাপক সোলেমান বাচ্চু, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, মোস্তফা নঈম, হান্নান, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন, আহমেদ ইলিয়াছ, হাজী হারুনুর রশিদ, ছগীর আহমদ, মোনাফ সওদাগর, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, ফারজানা আফরোজ, মুন্নি জাফর, সেকান্দর, আবদুল আজিজ, আদনান, মহিম, জালাল উদ্দিন, হাজী নুরুল আলম, বি.এম. আজিজ উল্লাহ, আবুল কালাম, রতন ভট্টাচার্য্য, আকবর আলী আকাশ, বাবুল প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক, আবু সাইদ সুমন প্রমুখ।

মতামত...