,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জনদুর্ভোগ ছিল চরমে প্রশাসন নির্বিকার: মেয়র নাছিরের সাথে বৈঠক আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে চলা অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও জনদুর্ভোগ ছিল চরমে। অথচ এই দুর্ভোগেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হচ্ছে, পরিবহন মালিকদের একটি অংশ কোন দাবি দাওয়া উত্থাপন করা ছাড়াই হঠাৎ করে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে। ‘ই– ট্রাফিক প্রসিকিউশন এন্ড ফাইন পেমেন্ট সিস্টেম’ নামে সদ্য চালু হওয়া প্রযুক্তিকে বাধা দিতেই পরিবহন মালিকদের ক্ষুদ্র একটি অংশ এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। চলমান কর্মসূচির কারণে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসনের।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে ধর্মঘট ডাকা পরিবহন মালিকের একাংশ ও প্রশাসনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে আশানুরূপ সমঝোতা হলে পরিবহন মালিকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার কিংবা স্থগিত করতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার সকালে অনির্দ্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহবানকারী চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রবিবার নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবহন মালিকসহ আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে পিকেটিংয়ের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদেরকে বিনা শর্তে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, পুলিশ প্রশাসন নাকি কিছুই জানেন না। সংগ্রাম পরিষদের আল্টিমেটাম, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নিউজ হওয়ার পরও পুলিশ প্রশাসন নাকি কিছুই জানে না, এটা হাস্যকর। অবৈধ পরিবহনকে সমর্থন করে পুলিশ প্রশাসন তাদের দিয়ে সড়কে গাড়ি চালানোর পাঁয়তারা করছেন। এদের মধ্যে নিটল মোটরস ও লুসাই পরিবহন যাদের কোন গাড়ি চালানোর বৈধতা নেই তারাই গাড়ি চালাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে আন্দোলনে থাকা মালিকদের বিভিন্ন গ্যারেজে গিয়ে রাস্তায় গাড়ি নামানোর জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আমাদের কাছে। প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না এসে আমরা যারা নৈতিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নেমেছি তাদের দমনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে। মানবিক বিবেচনায় আমরা আশা করেছিলাম প্রশাসন আমাদের ডেকে সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দিবেন। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। সিটি মেয়র আমাদের নেতা। নগর পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। কাল (মঙ্গলবার) বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম এলেই তার সঙ্গে বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (কর্মসূচি প্রত্যাহার কিংবা স্থগিত) নেব।

গ্রেপ্তার হওয়া মালিক শ্রমিকদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে বেলায়েত হোসেন বলেন, ৭টি রুটে ১৬শ যানবাহন চলাচল করছে। মালিকরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রাস্তায় গাড়ি নামিয়েছে। অথচ পুলিশের হয়রানিতে সড়কে গাড়ি চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবির অন্যগুলো হলো, গণহারে টোকেন ও মামলার নামে হয়রানি বন্ধ করা, জেলা পুলিশ কর্তৃক মেট্রো এলাকার গণপরিবহনে রিক্যুজিশন বন্ধ করা, থানা পুলিশ কর্তৃক হয়রানি, নির্যাতন ও গাড়ি রিক্যুইজিশন বন্ধ করা ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব এস এম তৈয়ব, উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন হাজারী, কার্যকরী সদস্য মিজান, মোহাম্মদ খোরশেদ, নুরুল আলম চৌধুরী, জাফর আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নগর পরিবহন মালিকদের একাংশের ডাকে চলমান ধর্মঘটে জনগণের ভোগান্তি হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কেন নির্বিকার, জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক–উত্তর) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, খুবই ছোট একটি গ্রুপ ধর্মঘট ডেকেছে। তাদের কারণে রাস্তায় গাড়ি সংকট হচ্ছে না। অফিস ও স্কুলে যাওয়া–আসার সময় যাত্রীদের সামান্য সমস্যা হচ্ছে। এটাকে ব্যাপক জনভোগান্তি বলা যাবে না।

অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার বলেন, আন্দোলন–কর্মসূচি কিছুই না এই গ্রুপটি ট্রাফিক বিভাগের একটি মহতী উদ্যোগকে বাধা দিতেই কর্মসূচি দিয়েছে। কোন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটা সেন্ট্রাল সার্ভার সিস্টেমে চলে যাচ্ছে। ইউসিবি কিংবা ইউ ক্যাশের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট যানবাহন মালিক–চালক ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। এই পদ্ধতি রবিবার উদ্বোধন করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ যখন স্বচ্ছতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই পরিবহন মালিকদের একাংশ এমন একটি কর্মসূচি দিয়ে ট্রাফিক বিভাগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

সংগ্রাম পরিষদ যে ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে তারমধ্যে অন্যতম দাবি রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা। সেটি তো অযৌক্তিক না, এমন প্রশ্নের উত্তরে এডিসি ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, এতদিনতো তারা এসব দাবি বলেননি। এখন কেন?

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, সিটি মেয়র ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আ জ ম নাছিরউদ্দিন আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসবেন। তার সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে প্রত্যাশিত একটি সমঝোতার আশা করছেন ধর্মঘট আহবানকারী মালিকেরা। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার কিংবা স্থগিতের ঘোষণা আসতে পারে।

উল্লেখ্য, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট শুরু করে নগর পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছয়টি সংগঠনের জোট চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ। ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। চাকরিজীবী, পরীক্ষার্থীসহ নানা বয়সী যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। সুযোগ পেয়ে ট্যাক্সি ও রিকশা চালকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করেন যাত্রীদের। যাদের অতিরিক্ত ভাড়া গোনার সামর্থ নেই তাদের অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান।

মতামত...