,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জনরোষে পড়তে পারে সাংসদ লতিফঃমহিউদ্দিন চৌধুরী

111aনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম:: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির দায়ে অবিলম্বে নিজ দলের সংসদ সদস্য এমএ লতিফকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। অন্যথায় গণরোষে পড়ে লতিফের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, তার উপর যদি হামলা হয় এবং সেই হামলায় লতিফ মারা গেলে এরজন্য জন্য আসামি হয়ে আদালতের কাটগড়ায় যেতে রাজি আছি।

সম্প্রতি নিজের দেহের ছবির সাথে শেখ মুজিবের মাথা লাগিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড ও পেষ্টুন লাগায় পতেঙ্গা ও বন্দর আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি এমএ লতিফ। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও করেছেন আদালতে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ তোলে তার শাস্তির দাবীতে সোমবার নগরীর লালদীঘির মাঠে সমাবেশ করেন চট্টগ্রাম নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে দলীয়নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জাতির জনকের ছবি বিকৃতির মাধ্যমে লতিফ যে মহা অন্যায় করেছে, সেকারণে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেটি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হবে। তবে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে যদি সে (লতিফ) হামলার শিকার হয় এবং জনগণের হামলায় সে মারাও যেতে পারে। তাই যদি বাঁচতে চায় তাহলে সে যেন চট্টগ্রমের মাঠিতে পা না রাখে।

তিনি বলেন, ‘এখানে এনএসআই, ডিজিএফআই, সাংবাদিকরা সকলেই আছেন। লতিফের ওপর যে কোনও সময় চট্টগ্রামে হামলা হতে পারে। ওই হামলায় সে মারাও যেতে পারে। এজন্য আমাকে যদি হুকুমের আসামি করা হয় এবং সেই আসামি হিসেবে কাটগড়ায়ও রাজি আছি। তবু এই কুলাঙ্গার লতিফকে চট্টগ্রামের মাটিতে নামতে দেয়া হবে না। চট্টগ্রামবাসী লতিফকে প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি। তাকে এই লালদীঘির মাঠে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।’

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি এই লালদীঘির মাঠে বিভিন্ন ইস্যুতে সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আজকে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতিকারী পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন জামাতের চর লতিফের বিচারের দাবিতে। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ গ্রেফতার করে তাকে বিচারের ব্যবস্থা করা না হলে আগামী ১৫ দিন পর এই লালদীঘির মাঠে আবার দেখা হবে।

নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক ও নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ কে এম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে ১৪ দলসহ নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে মহিউদ্দিন আরো বলেন, জঘন্য অপরাধে লতিফের বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আদালতে দায়ের করা হয়েছে তা এখন তদন্ত চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে সেটি সরাসরি মামলা হিসেবে গণ্য হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অভিযোগটি দ্রুত যাতে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হিসেবে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আরো বলেন, লতিফ নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মি করে মাফিয়া চক্রের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে।

লতিফকে ইয়াবা ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী ও কোকেন পাচারকারী উল্লেখ্য করে মহিউদ্দিন বলেন, লতিফের মত টাউট-বাটপারের স্থান চট্টগ্রামে হবে না। তাকে এখনো যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের বলছি, আবেগ নিয়ে খেলবেন না। লতিফের পাশ থেকে সরে যান। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারীকে কোন রকমের ছাড় দেয়া যাবে না।

সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী এবং নগর মহিলা লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন লতিফকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা তার জন্য কাজ করেছি। এমপি হওয়ার পর সে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সালাম করতে আমাদের বাসায় আসে। তখন আমি সম্মান জানিয়ে তাকে মুজিব কোট পরিয়ে দিয়েছিলাম। জীবনে প্রথমবারের মত মুজিব কোট পরে সে আধা ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলেন। তখনই আমি বুঝেছিলাম তার ভেতর পাকিস্তান প্রেম লুকায়িত রয়েছে। সে একজন জামাতের চর।

সমাবেশে বক্তব্য অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, জাতীয় পার্টি ( জেপি) নেতা আজাদ দোভাষ, ন্যাপ নেতা আলী আহমদ চৌধুরী, কাউন্সিলর নিলু নাগ, কফিল উদ্দিন খান, সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী, সাবেক যুবলীগ নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু।

 

বিএন আর/ ১৬০২১৫/০০০৬১ /পি

মতামত...