,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জনস্রোতে বীরদের বরণ করল পাকিস্তান

ক্রীড়াডেস্ক, ২১ জুন, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::আজ থেকে ২৫ বছর আগের কথা। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে ইমরান খান যখন স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি হতে করাচি বিমান বন্দরে অবতরণ করছিলেন তখন লোকে লোকারন্য বিমান বন্দর থেকে শুরু করে আশেপাশের এলাকা। তখন জন্মই হয়নি আজকের মোহাম্মদ আমির, সাদাব খান কিংবা হাসান আলিদের। বাকিদের জন্ম হলেও তারা মায়ের কোলে। তাই সে অনুভুতি দেখার বা বুঝার কথা নয় বর্তমান পাকিস্তান দলের কারোই। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পাকিস্তান ক্রিকেটে সেরকম কোন উপলক্ষ্য আসেনি। উল্টো ২০০৮ সাল থেকে নিজেদের মাটিতে নির্বাসিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। মাঝখানে অবশ্য একবার ইউনুচ খানের নেতৃত্বে একবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু সেটি তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি ইমরান খানের বিশ্বকাপ জয়ের মত। ১৯৯২ সালের পর দীর্ঘ ২৫ বছর আর ২০০৮ সালের পর প্রায় নয় বছর বলতে গেলে ক্রিকেটের নরক যন্ত্রনায় ভুগেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটার, সমর্থক সবাই। কোন আনন্দ উদযাপনের সুযোগ পায়নি। এই লম্বা সময়ে কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জয়তো দুরের কথা ফাইনালেও যেতে পারেনি। ২৫ বছর পর আবার বিশ্ব সেরা পাকিস্তান। যে দলটি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আট নম্বর দল হিসেবে খেলতে গিয়েছিল আর সে দলটি কিনা এক নম্বর, দুই নম্বর সব দলকে হারিয়ে বিশ্ব সেরা। দীর্ঘ দিন ধরে ক্রিকেটের সাফল্য খরায় ভুগতে থাকা পাকিস্তানকে যেন স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিল সরফরাজ-ফখর-আজহার-আমির-হাসান আলিরা। পরম আরাধনার ধন হিসেবে পাওয়া এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বিজয়ী বিরদের তাই বরণ করে নিতে পাকিস্তানে যেনে মহোৎসব চলছে।

যে ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল পাকিস্তান, ফাইনালে সে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতা মানে আনন্দ যেন বহুগুণে বেড়ে যাওয়া। যে ভারতের বিপক্ষে জিততে ভুলে গিয়েছিল পাকিস্তান, সে ভারতকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতা মানে একেবারে কারগিল যুদ্ধ জয়ের মত। আর সে যুদ্ধ জয়ের মহা নায়কদের বরণ করতে তাই কোন কিছুর কমতি ছিলনা পাকিস্তানে। ভোর রাতে আলাদা আলাদা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। লাহোরের আল্লামা ইকবাল বিমান বন্দেরে অবতরণ করেন ফাহিম আশরাফ, আহমেদ শেহজাদ, বাবর আজম এবং টুর্নামেন্টরে সেরা হাসান আলি। তার আগে থেকেই করাচি এবং লাহোরে মানুষের ঢল নামে। লাহোরে পাঞ্জাবের মুখ্য মন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই চার ক্রিকেটারকে বরণ করে নেন। এরপর ভোর পৌনে পাঁচটায় করাচি বিমান বন্দরে যখন ট্রফি হাতে অবতরণ করছিলেন সরফরাজ আহমেদ তখন বিমান বন্দরে যেন তিল ধারনের ঠাই নাই। তার সাথে ছিলেন রুম্মন রইস। করাচির মেয়র এবং সিন্ধু প্রদেশের ক্রীড়া মন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী সিন্ধি টুপি পরিয়ে ক্রিকেটারদের বরণ করে নেন। বিমান বনন্দর থেকে বের হতে রীতিমত জনশ্রোত মোকাবেলা করতে হয়েছে সরফরাজের গাড়িকে। আর তখন তার বাড়িতেও হাজারো মানুষের ঢল। এমনই এক উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশে ফিরলেন পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী এই মহানায়ক। চারদিকে তখন পাকিস্তান জিন্দাবাদ আওয়াজে মুখরিত। নারি-পুরুষ নির্বিশেষে এই আনন্দক্ষনের সাক্ষী হতে হাজির বিমান বন্দরে। সাদাব খান এবং ইমাদ ওয়াসিম অবতরণ করেন ইসলামাবাদে। আর হারিস সোহেল অবতরণ করেন শিয়ালকোটে।

যে বিমান বন্দরে যে ক্রিকেটার নেমেছেন সেখানেই লোকে লোকারন্য। ফুলে ফুলে ঢেকে গেছে ক্রিকেটারদের বহন করা গাড়ি। যে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন ক্রিকেটাররা সে পথেও মানুষের ঢল। ক্রিকেটারদের বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়। এ যেন নতুন এক অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য। যা আগে কখনো দেখেনি। আর দেখবেনই বা কোথা থেকে। দুই যুগে যে এরকম কোন উপলক্ষ্য আসেনি পাকিস্তানের ক্রিকেটে। যা এনে দিতে পারেননি অনেক তারকা ক্রিকেটাররা। সেটা এনে দিয়েছেন সরফরাজের নেতৃত্বে তরুণ একটি দল। তাইতো মরুর বুকে হঠাৎ বৃষ্টির মত স্বস্তিতে ভিজতে রাস্তায় পাকিস্তানের ক্রিকেট পাগল মানুষ। সমর্থকদের এমন ভালবাসা দেখে ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে যেন লম্বা ভ্রমনের ক্লান্তিও এক নিমিষেই দুর হয়ে গেল। তারাও মিশে গেলেন সমর্থকদের মাঝে। এমন একটি দৃশ্যের স্বপ্ন কতদিন থেকেই দেখে আসছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেট পাগল মানুষ। এমনকি ক্রিকেট কর্তারাও।

আজ সেটি পূরণ হয়েছে। তাইতো বিরের চাইতেও বেশি মর্যাদায় সরফরাজদের বরণ করে নিল পাকিস্তানের মানুষ। পাকিস্তান ক্রিকেটে যেন এখন আগাম ঈদের আনন্দ। দেশের অগণিত ক্রিকেট পাগল মানুষকে যেন আগাম ঈদের আনন্দ উপহার দিলেন সরফরাজরা। তাইতো নিজের বাড়ির বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সরফরাজ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বললেন আমরা পাকিস্তানের ক্রিকেটাকে নতুন দিনে নিয়ে যেতে চাই। আর সে পথ চলার শুরুটা হলো এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে। সারা রাত জেগে আজ যারা আমাদের বরণ করতে এলেন আপনাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার যেন শেষ নেই। আপনাদের এই অনুভুতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেল। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিলাম। এর আগে লন্ডন ছাড়ার সময়ও পাকিস্তানের সমর্থকরা উল্লাস ধ্বনির মধ্য দিয়ে বিদায় জানান সরফরাজদের। আর এই ইংল্যান্ডেই যে উদিত হলো পাকিস্তানের ক্রিকেটের নতুন সুর্য।

মতামত...