,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জাপান থেকে মেট্রোরেলের কোচ ও যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে: সোয়া ৪ হাজার কোটি টাকার চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক,৭ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকায় কেনা হচ্ছে স্বপ্নের মেট্রোরেলের কোচ ও রেল ট্রাক। আর এসব কোচ শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রাজধানীতে রেলকোচ ও ট্রাক সংগ্রহের বিষয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এই অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, হলি আর্টিজানে গত বছরের হামলার ঘটনায় প্রায় ৮ মাস পিছিয়েছে মেট্রোরেলের কার্যক্রম। তবে এখন ফুল সুইং (পুরোদমে) কাজ চলছে। এতে পিছিয়ে যাওয়া ওই সময় কভার করে নেওয়া যাবে।

আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫ সেট ট্রেন উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চালানো শুরু হবে। আর ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১৯ সেট ট্রেন ও ডিপোর যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, উত্তরায় তৃতীয় ফেজে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণ ও ডিপো এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রায় ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেল উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে শুরু হয়ে পল্লবী, ফার্মগেট, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এ রেলপথে স্টেশন থাকবে ১৬টি।

জানাগেছে, দেশের মানুষের চাহিদা ও ব্যবহার উপযোগী হবে মেট্রোরেলের কোচগুলো। ৪ সেকেন্ডের মধ্যে মেট্রোরেলের গতি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারবে। সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে প্রথম ধাপে উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটে চলা শুরু করবে কোচগুলো। প্রতিটি কোচে যাত্রী ধরবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। সিট থাকবে লম্বালম্বি আকারে। ট্রেনের বডি হবে স্টেইনলেস স্টিলের।
কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেলের যে কোচগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেগুলো খুবই আধুনিক ও উচ্চ গুণগত মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি। প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য হবে ১৮০ মিটার। পুরো ট্রেনে থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। কোচের আসনগুলো লম্বালম্বি আকারে সাজানো থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দু’টি হুইল চেয়ারও। আর স্মার্টকার্ড টিকিটিং পদ্ধতির মাধ্যমে যাত্রীরা ওঠা-নামা করবেন মেট্রোরেলে। জাপানি মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এন এম ছিদ্দিক জানান, মেট্রোরেলের উভয় পাশে ৪টি করে দরজা থাকবে। কোচগুলো দেশের মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য আলাদাভাবে তৈরি করা হচ্ছে। একটি স্টেশন থেকে ছাড়ার ৩ থেকে ৪ সেকেন্ডের মধ্যে ১০০ কিলোমিটারে উঠবে মেট্রোরেলের গতি। প্রকল্প অনুসারে, ৮টি প্যাকেজে ভাগ করে চলছে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের কাজ। এর মধ্যে প্যাকেজ ৩ ও ৪ এর কাজ শুরু করা হয় গত ০২ আগস্ট। ওই প্যাকেজের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এ রুটে নির্মিত হবে ১২ কিলোমিটার উড়ালপথ। এই উড়ালপথেই মেট্রোরেলের লাইন নির্মাণ করা হবে। আর স্টেশনগুলোও হবে উড়ালপথেই। ৮ নম্বর প্যাকেজে হবে রেলকোচ ও ট্রাক পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। যার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে জাপানি কোম্পানির সঙ্গে। এর সময়সীমা ৫১ মাস। কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময়ের মধ্যেই রোলিং স্টক (বগি) ও ট্রেন সিমুলেটর এবং বগি পরিচালনা ও সংরক্ষণে ডিপোর যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা হবে। রোলিং স্টক প্রকৌশলী, পরিচালনা ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কমচারীদের প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সার্পোট সার্ভিসও চুক্তির অর্ন্তভুক্ত হবে।

মতামত...