,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জামায়াত নিষিদ্ধ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত দাবি নৌ পরিবহনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৯ , ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):জামায়াত নিষিদ্ধ আর তাদের ও নেতাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসতে হবে দাবি করে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, “আমাদের বহু সম্পদ পাকিস্তানে,সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনা আর যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, “যেসব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হচ্ছে, ওদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনতে হবে।259

শনিবার ‌‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’র উদ্যোগে মহাখালী বাস টার্মিনালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি   এ দাবি করেন ।

তিনি বলেন,ওরা ভেবেছিল, পার পেয়ে যাবে। ওরা বলেছিল- ৪১ থেকে ৪২ বছর পর নতুন করে এগুলো করার কী দরকার?পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুরু করা লড়াইয়ে স্বাধীনতা এলেও সে লড়াই এখনও শেষ হয়নি বলে মনে করেন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান।তিনি বলেন, “এখন দায়িত্ব পড়েছে, আমরা যারা আছি, তাদের ওপর। এই কাজটি শেষ করতে হবে।”

মানবতাবিরোধী অপরাধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এদেশীয় সহযোগীদের বিচার ও কয়েকজনের দণ্ড কার্যকরের পর সম্প্রতি পাকিস্তান ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করলে ঢাকায় দেশটির হাই কমিশনারকে ডেকে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানায় বাংলাদেশ সরকার।

এর এক সপ্তাহের মধ্যে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে ডেকে একাত্তরে গণহত্যার দায় অস্বীকার করে পাকিস্তান।

এ ঘটনাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ আখ্যায়িত করে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকস্তানি সেনার বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

নৌমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারে পাকিস্তানের উদ্বেগ ও গণহত্যা অস্বীকারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে- তারা এখানও পরাজয়ে গ্লানি ভুলতে পারেনি। পাকিস্তানের চর রাজাকার ও জামায়াত- এই দেশে বসে পাকিস্তানের পক্ষে আমাদের দেশের ক্ষতি করতে এখনও তৎপর।”

মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিদেশীয় চুক্তির আওতায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক ওই ১৯৫ সেনাকে নিজ দেশে বিচারের মুখোমুখি করার শর্তে ফেরত নেয় পাকিস্তান। এরপর ৪৪ বছর পার হলেও তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়নি দেশটি।

পাকিস্তানি ওই সেনাদের বিচারের দাবিতে বিজয়ের এই মাসে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’ এর ব্যানারে গড়ে তোলা হয়েছে আন্দোলন।

এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি প্রতীকী আদালতে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যেখানে ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ ‘গণআদালত’ গঠন করে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতগুরু গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার শুরু করেছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’।

সেই পথ ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জোরালো আন্দোলন শুরু হলে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়, শুরু হয় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার।

যুদ্ধাপরাধ বিচারে জনমত ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে মন্তব্য করে শাজাহান খান বলেন, “সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও বিশ্বাস করতে পারেননি, তার ফাঁসি হবে। বহু মানুষ বিশ্বাস করতে পারেনি সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি হবে।

“অনেকে ভেবেছে কাদের মোল্লা ছোট নেতা বলে তার ফাঁসি হয়েছে, বড় নেতাদের হবে না। কিন্তু অন্যদেরও হয়েছে।”

এখন পাকিস্তানি ১৯৫ জনের বিচার করার সময় এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কেউ কি বলতে পারবেন, পাকিস্তানি ১৯৫ জনের কে কী অপরাধ করেছে?

“বিচার যখন হবে, চার্জশিট যখন হবে, তখন বের হয়ে আসবে, তাদের কে কী অপরাধ করেছিল।”

আগামী ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘গণবিচারে’ দেশের প্রথিতযশা বিচারকরা বসবেন জানিয়ে এই বিচার কার্যক্রম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান নৌমন্ত্রী।

শাজাহান খান বলেন, ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য জনমত গঠনে সারা দেশ ঘুরব; সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌ অভিযাত্রা করা হবে।

জনমত গঠন কর্মসূচি গাবতলী-মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করা হয়েছে জানিয়ে মতবিনিময় সভায় বাস-ট্রাকে কর্মরত শ্রমিকদের ‘নতুন যুগের মুক্তিযোদ্ধা’ বলে আখ্যায়িত করেন পরিবহন শ্রমিকদের এই নেতা।

শাজাহান খান বলেন, “একাত্তরে যারা যুদ্ধ করেছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধা বলে। এই যুগের মুক্তিযোদ্ধা হল সড়ক পরিবহন শ্রমিক, যারা জানত রাস্তায় নামলে জীবন যাবে- তারপরও অবরোধের মধ্যে রাস্তায় নেমে গাড়ি চালিয়েছে।”

অবরোধে গাড়ি চালাতে গিয়ে মারা যাওয়া পরিবহন শ্রমিকদের ‘শহীদ’ আখ্যায়িত করা হবে জানিয়ে ‘এসব খুনের’ বিচার করার দাবিও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমার ভাই খুন হয়েছে, আমরা এটা ছাড়তে রাজি না। বিশেষ আদালত করে এই খুনের বিচার করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে না।”

পাকিস্তানের দুই কূটনীতিক বাংলাদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে ঢাকায় দেশটির হাই কমিশনকে ‘কাশিমবাজার কুঠি’ আখ্যা দেন শাজাহান খান।

“এই দুই ব্যক্তি দূতাবাসে বসে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাতে এরা মদদ দিচ্ছে। আরেকটি মদদ দিচ্ছে, বাংলাদেশের জাল টাকা ছেপে অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে।”

‘ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে’ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “ওইখানে (পাকিস্তান হাই কমিশন) অবরোধ করে ওদেরকে এখান থেকে বিতাড়িত করতে হবে। আমাদেরকে অনেক আন্দোলন সংগ্রামে যেতে হবে। এটা আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ।”

‘হিন্দুরা ধুপ দিয়ে আর আমরা আগরবাতি দিয়ে অলক্ষ্মী দূর করি’ মন্তব্য করে শাজাহান খান বলেন, “বাংলাদেশের পাপ ও অলক্ষ্মী হল তারা- যারা ৩০ লাখ মানুষকে খুন করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছিল, মা-বোনের সম্ভ্রবহানি করেছিল। ওই পাপীরা যতদিন ক্ষমতায় ছিল, ততদিন উন্নয়ন হয়নি।”

শেখ হাসিনার সরকারের সাত বছরে দেশের দরিদ্রসীমার হার শতকরা ৪০ থেকে ২০ ভাগে নেমে এসেছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “কেমন করে হল? কারণ শেখ হাসিনা দেশকে পাপমুক্ত করছেন।”

ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’র সদস্য সচিব অঞ্জন রায় বক্তব্য রাখেন।

মতামত...