,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ সরকারের

976নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,১৭, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: আগামী তিন বছরে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দশ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কর্মরত ও নতুনদের। প্রশিক্ষণ গ্রহণে কোন অর্থ লাগবে না উল্টো সরকার প্রশিক্ষনার্থীদের মাসিক ভাতা দিবে।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উৎকর্ষতা লাভের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা

বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
গতকাল সকালে এসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাষ্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (এইওএসআইবি) এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) ফাইনান্স বিভাগ-এর সাথে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাষ্ট্রিজ অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডাইরেক্টর জালাল আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আব্দুর রউফ চৌধুরী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি সালাহ উদ্দিন কাসেম খান।
চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর প্রদান করেন এসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাষ্ট্রিজ অব বাংলাদেশ-র পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ ।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিথি জালাল আহমেদ বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাহাজ রপ্তানি শিল্পের জনবল উন্নতমানের কারিগরী প্রশিক্ষণ লাভ করবে এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ১০ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি করব। এই কর্মসূচি সফল হলে তা অব্যাহত রাখা হবে। জালাল আহমেদ বলেন, এতদিন আমরা তৈরি পোশাক খাতছাড়াও ছয়টি খাতে এই ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলাম। এবার জাহাজ নির্মাণ শিল্পকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। আগামীতে আরো দুটি খাত পর্যটন ও নার্সিং খাতেও দক্ষ জনশক্তি গড়ার কাজে হাত দিব। তিনি বলেন, এসব খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে তারা যদি দেশে কাজ করেন তাহলে জিডিপি বাড়বে। বিদেশে গিয়ে চাকরি করলে তাতে দেশের জিএনএ বাড়বে।
বিশেষ অতিথি ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আব্দুর রউফ চৌধুরী বলেন, এতদিন আমরা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমসি, বেসিস, কনস্ট্রাকশন ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ার কাজ চালিয়েছি। এবার অপর সম্ভাবনাময় খাত জাহাজ নির্মাণ শিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, আগে কোন কাজের জন্য প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কাছে যেতে হত। এবার উল্টোটি হয়েছে। সরকার টাকা নিয়ে উদ্যোক্তাদের কাছে যাচ্ছে। আব্দুর রউফ বলেন, প্রথম পর্যায়ের এই উদ্যোগ সফল হলে জাহাজ নির্মাণ খাতে আগামী ১০ বছরে আরও ৫০ হাজার জনকে কর্মউপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সরকার এক্ষেত্রে খুবই পজেটিভ। অর্থের কোন অভাব হবে না। তিনি বলেন, বিদেশি দক্ষ লোকেরা আমাদের দেশ থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায়। আমাদের জনশক্তিকে একই খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে এই অর্থ আর বিদেশে যাবে না।
বিশেষ অতিথি সালাহউদ্দিন কাসেম খান বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে নতুন করে কর্মক্ষেত্রে ঢুকছে ২ মিলিয়ন লোক। তাদের যদি দক্ষ করে গড়ে তারপর কাজে ঢোকানো যায় তাহলে জিডিপি কমপক্ষে ২ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী ২০১৬ সালে প্রবৃদ্ধিতে চীনের উপরে থাকবে বাংলাদেশ। এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের বিকল্প নেই।
এসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাষ্ট্রিজ অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিশ্ববাজার থেকে আরও অর্ডার লাভে সমর্থ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নতি লাভে বড় ভূমিকা রাখবে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদে ৩ থেকে ৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
প্রসঙ্গত: ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় সেক্টরের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র একটি প্রকল্প। প্রথমবারের মতো ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ এসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাষ্ট্রিজ অব বাংলাদেশ’র মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কারিগরী দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তহবিল প্রদান করল।
তিন বৎসর মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রথম বছরে ২ হাজার জন এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে যথাক্রমে সাড়ে ৫ হাজার ও আড়াই হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যে সকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে সেগুলো হলো- ওয়েল্ডিং এবং ফেব্রিকেশন, মেশিনারি প্রতিস্থাপন, মেশিন টুলস্ অপারেশন, পাইপিং, ইলেট্রিক্যাল ও নেভিগেশন, ইকুইপমেন্ট প্রতিস্থাপন, এইচভিএসি প্রতিস্থাপন টেকনোলজি, পেইন্টিং, সিএনসি অপারেশন, ক্যাড ও ক্যাম এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল।
প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ফটিকছড়ির এবিসি বাংলাদেশ তার্কী ট্রেনিং সেন্টার, ইউসেফ, এনএমআই, ডব্লিউএমআই, ডব্লিউএমএস, এনইএসএল, কেবিএল, চিটাগাং শিপইয়ার্ড, এফএমসি, প্রান্তিক ও মেঘনা শিপইয়ার্ড।
এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাষ্ট্রিজ অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় জ্ঞানই দেয়া হবে। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণার্থীগণ পাবেন বিশ্বস্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র। যা দিয়ে তিনি দেশে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অচিরেই প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হবে।

 

মতামত...