,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জীবনের মূল্য আড়াই লক্ষ টাকা ! চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃচট্টগ্রাম, অমলের মৃত্যু পর তার স্ত্রী বাপ্পী দেবনাথ (২৩) বিলাপ করছিলেন, ‘আঁরার অন কী অনবু’? (এখন আমাদের কী হবে?) তার আহাজারির কান্নায় ভারী হয়ে উঠা পরিবেশে সান্তনা দেয়ার ভাষা নেই কারোর। সকলের একই এখন প্রশ্ন কী হবে এ এতিম পরিবারের। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়না তদন্ত শেষে অমলের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে এ দৃশ্যে অবতারনা হয়।

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলা পোপাদিয়া ইউনিয়নের মৃত ধীরেন্দ্র নাথের ছেলে অমল নাথ (৩৭)। সে স্থানীয় প্রত্যাশী নামের একটি এনজিও সংস্থার কর্মচারী ছিলেন। সংসার জীবনে দূর্জয় (৫) ও রাজশ্রী (৬) নামের দুই সন্তানের জনক।

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু’র ঘটনায় শুক্রবার গভীর রাত অবধি বোয়ালখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শেষে নিহত অমলের নাথের জীবনের মূল্য বাবদ আড়াই লক্ষ টাকাই রফাদফা করা হয়েছে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

তারা বলেন, অমলের জীবনে সাথে আরো তিনটি জীবন জড়িয়ে ছিল। অমলের মতো আর কারো জীবনে এ ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।

বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অমলের মৃত্যু কারণ নিশ্চিত করতে শনিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, তাৎক্ষণিক আটককৃত নারায়ণ চৌধুরী’র বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দীকি এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন একদিনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ দেন বোয়ালখালীর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে। এছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জসিম জানান, রাতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগ না করার শর্তে আড়াই লক্ষ টাকা অমলের স্ত্রী’র বাপ্পী দেবনাথের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদন্ডী গ্রামের অমল নাথ (৩৭)কে অসুস্থ্যবস্থায় তার স্ত্রী বাপ্পী দেবনাথ উপজেলা স্বস্থ্য কেন্দ্রের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। অমল মৃত ধীরেন্দ্র নাথের ছেলে। তিনি স্থানীয় প্রত্যাশী নামের একটি এনজিও সংস্থার কর্মচারী। দূর্জয় (৫) ও রাজশ্রী (৬) নামে তার দুই সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী বাপ্পী দেবনাথ জানান, দুপুর ১টার দিকে আমার স্বামী (অমল নাথ) বুকে ব্যাথা অনুভব করছে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ইনজেকশন দিয়ে একটি পরীক্ষা করতে বলে। এরপর পরীক্ষা করিয়ে ওষুধ কেনার সময় সে মাটিতে বসে যায়। আবারো হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, আমার স্বামীর তেমন কিছু হয়নি যে তিনি মারা যেতে পারেন। তাকে ভুল ইনজেশন দেয়ার ফলে মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘেরাও করে ডাক্তার ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জসিম সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও অমলের স্বজনরা জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। আর মাত্র আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যাবে অমলের খুনিরা ? তারা এ ব্যাপারে তদন্তের মাধ্যমে দোষিদের শাস্তি দাবী করেন।

মতামত...