,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন সংসদে পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পদে থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারা এবং ফৌজদারি মামলার চার্জশিটভুক্ত হলে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রেখে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন-২০১৬’ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিলটি পাসের জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিলটি সংসদে উত্থাপন হয়। বিলটি উত্থাপনের পরেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করে আজ পাসের প্রস্তাব করা হয়।

বিলের বিরোধিতা করে এটি অধিকতর যাচাই-বাছাই করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।

সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়, জেলা পরিষদ হবে ২১ সদস্যের। তাদের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্য থাকবেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে তারা নির্বাচিত হবেন।

বিলে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের হাতে। তার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকে একজন বা সরকারি কর্মকর্তারাও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সরকার গেজেট করে সরকারি কোনো কর্মকর্তাকেও এ দায়িত্ব দিতে পারবে।

বিলে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের শপথ নেওয়ার সময় তাদের পরিচিতির জন্য বাবা বা স্বামীর নামের সঙ্গে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইনে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তের বিধান ছিল না। পাস হওয়া বিলে আদালত কর্তৃক চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। বিলে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমান আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দুর্নীতি বা নির্বাচনী অপরাধ করলে সাত বছরের সাজার বিধান রয়েছে। পাস হওয়া বিলে এর সঙ্গে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান যোগ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাব-জজ পদের কর্মকর্তার সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে ওই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে যুগ্ম জেলা জজকে রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদ আইনটি ২০০০ সালে প্রণীত হয়। ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং জেলা পরিষদ ব্যতীত অন্য সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জলা পরিষদ নির্বাচন করার দাবি করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা জেলা পরিষদগুলো পরিচালিত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়ন হবে। বিদ্যমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মতামত...