,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের

শীতের তীব্র কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের অলোটা তখনো ভালোভাবে উঁকি দিতে শুরু করেনি। এরই মধ্যে মিরপুরের মাঠে বল হাতে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটালেন সাকিব আল হাসানরা। গতকাল ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে বল করতে নেমে প্রথম ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে সাকিব আনন্দের যে শুরুটা এনে দিয়েছিলেন, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তা ধরে রেখেছিলেন টাইগাররা। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে ওয়ানডে খেলতে নেমে টাইগাররা আবারো প্রমাণ করলেন ওয়ানডেতে তারা এখনো অন্যতম শক্তিশালী। ব্যাটে বলে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন হিথ স্ট্রিকের জিম্বাবুয়েকে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলংকা মাটিতে তাদের গুটিয়ে দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জয়ী জিম্বাবুয়েনরা গতকাল অসহায় আত্মসমর্পণ করলো টাইগারদের কাছে। ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে ফেবারিটের মতোই ত্রিদেশীয় সিরিজে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ। প্রথম ব্যাট করে সাকিব, রুবেল ও মোস্তাফিজদের বোলিংয়ের সামনে ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারেননি হ্যামিল্টন মাদাকাদজারা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ১ ওভার আগেই ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে ওপেনের তামিমের অপরাজিত এক বিধ্বংসী ইনিংসে মাত্র ২৮.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে কক্সিক্ষত জয় তুলে নেয় মাশরাফি বাহিনী।
গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওপেনার তামিম ইকবাল তার স্বভাব সুলভ ব্যাটিংয়ের সহজ জয়ে রাখেন কা-ারির ভূমিকা। তবে পুরো ম্যাচে তার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন সকিব আল হাসান। বল হাতে ম্যাচের প্রথম ওভারেই তিন বলের মধ্যে দুই উইকেট। শুরুতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন এ টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৪৩ রানে ৩ উইকেট। আর ব্যাটিংয়ে নেমে খেললেন ৩৭ রানের এক দৃষ্টিনন্দন ইনিংস, আর তাতেই ম্যাচ সেরা সাকিব। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্যাটে-বলে লড়াই করেছেন সিকান্দার রাজা। পাশে পাননি খুব বেশি সতীর্থকে। ম্যাচও তাই লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
১৭১ রানের লক্ষে খেলতে নেমে তামিম ইকবালের সাথে ওপেনিংয়ে নামেন প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফিরা এনামুল হক বিজয়। তবে ফেরাটা ততটা সুখের হলো না বিজয়ের। তার প্রতি দলের বার্তা ছিল, দলের জন্য খেলা। ফেরার ম্যাচে সেই চেষ্টার প্রতিফলন ছিল এনামুলের ব্যাটে। তবে আউট হয়ে গেছেন অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে। তবে তার ১৪ বলে ১৯ রানের ইনিংসটি শুরুতেই দমিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ের লড়াইয়ের আশা। প্রতিপক্ষের আশা আরও শেষ হয় যায় পরের জুটিতেই। তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। তাতে লক্ষ্য ছোটো হলেও তিন নম্বর জায়গাটাতে ফিরে ওটা স্থায়ী করার জন্য সময়টা বেশি মিলল সাকিবের। উইকেটে পা রাখতে না রাখতেই টানা তিন বলে তিন বাউন্ডারি। এক সময়ে বন্ধু-পার্টনার তামিম ইকবালকেও ছাড়িয়ে যান। দ্রুত ছুটেছে রানের চাকা। তামিমের সাথে জুটিটা ৭৮ রানের। দারুণ কিছু শটের পাশাপাশি লম্বা করতে চেয়েছেন ইনিংস। সম্ভাবনাময় ইনিংসটি শেষ হয়েছে ৪৬ বলে ৩৭ রানে।
সেটিই শেষ। তামিম ও মুশফিক এরপর দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের ঠিকানায়। শুরু থেকেই তামিমের ব্যাট ছিল আস্থার প্রতিমূর্তি। একটি মুহূর্তের জন্যও হারাননি নিয়ন্ত্রণ। মাঠ ছেড়েছেন ৯৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করে। ৬৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মুশফিকের অবদান ছিল ১৪।
জিম্বাবুয়ের জন্য মন্থর উইকেটের পরিকল্পনা বেশ আগেই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পড়ল সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন। উইকেটে বল এসেছে ধীরে, শট খেলা খুব সহজ ছিল না। সেটি কাজে লাগান বাংলাদেশের বোলাররা। পরের ইনিংসে উইকেট একটু ভালো হয়ে ওঠে ব্যাটিংয়ের জন্য। আর তাই
টস জিতে অনুমিতভাবেই মাশরাফি বিন মুর্তজা বেছে নেন বোলিং। কন্ডিশন তখন পেস সহায়ক। তবে মাশরাফি শুরু করলেন স্পিন দিয়ে।
তাতে চমকে গেল হয়ত জিম্বাবুয়েও। সাকিবের করা ম্যাচের প্রথম বলটিই ঠিকমত খেলতে পারেননি হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। রান মেলে তবু একটি। পরের বলেই উইকেট। ওয়াইড বলে স্টাম্পড বিপজ্জনক সলোমন মিরে। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে দারুণ ক্ষিপ্রতায় কাজ সেরেছেন কিপার মুশফিকুর রহিম। এই উইকেটের হাত ধরে এক বল পরই আরও বড় উইকেট। স্পিনে এই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলেই শুধু নয়, বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনারকে সামলাতেও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রেইগ আরভিনের উইকেটে থাকা ছিল জরুরি। কিন্তু ম্যাচের তৃতীয় বলেই আরভিনকে ফেরান সাকিব। জিম্বাবুয়ে তাকিয়ে ছিল সবচেয়ে বড় ভরসা মাসাকাদজা ও আবার জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে ফেরা ব্রেন্ডন টেইলরের দিকে। কিছুটা আশা জাগিয়েও ছিলেন দুজন। কিন্তু দুজনই ফিরেছেন বাজে শটে। মাসাকাদজার শট ছিল বেশি দৃষ্টিকটু।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ৪৯ ওভারে ১৭০ (মাসাকাদজা ১৫, মিরে ০, আরভিন ০, টেইলর ২৪, রাজা ৫২, ওয়ালার ১৩, মুর ৩৩, ক্রিমার ১২, জার্ভিস ৪*, চাতারা ০, মুজারাবানি ১; সাকিব ৩/৪৩, সানজামুল ১/২৯, মাশরাফি ১/২৫, মুস্তাফিজ ২/২৯, রুবেল ২/২৪, নাসির ০/১৫)।
বাংলাদেশ: ২৮.৩ ওভারে ১৭১/২ (তামিম ৮৪*, এনামুল ১৯, সাকিব ৩৭, মুশফিক ১৪*; জার্ভিস ০/১৫, চাতারা ০/২৬, রাজা ২/৫৩, মুজারাবানি ০/৩১, ক্রিমার ০/৪৬)

মতামত...