,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু শ্রমিক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে

কামরুল ইসলাম দুলু dulu vai

আমাদের দেশে এত শিশু শ্রমিকের কারণ কি ? এটি সত্য যে, কোন শিশু যেমন স্বেচ্ছায় শ্রমিক হতে চায় না,তেমনি কোন অভিভাবকও সহজে তার শিশুকে শ্রমে নিয়োগ করতে চায় না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শিশু শ্রম জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৭ লাখের বেশি শিশু শ্রমিক রয়েছে। ৫ থেকে
১৭ বছর বয়সী এ শিশুরা পূর্ণকালীন শ্রমিক হিসাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে দেশে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কোনো না কোনোভাবে শ্রমেরchild-sram-joki
সাথে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। জরিপে আরো দেখা গেছে, শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের মধ্যে গ্রামীণ অঞ্চলে রয়েছে শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার শিশু। নিঃসন্দেহে দেশের ক্ষুধা,
দারিদ্র,অসহায়ত্ব এক কথায় সার্বিক অব্যবস্হাপনা ও সামাজিক অস্হিরতাই শিশু শ্রমিক বৃদ্ধির মূল কারণ।দেশে শিশু শ্রম বিরোধী আইন আছে। কিন্তু সেগুলোর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। একুশ শতাব্দীর সভ্য সমাজে শিশু শ্রমিক থাকাটা মানবতার চরম অপমানও বটে। কারণ,শিশু বয়সটাই স্বাস্হ্য ও মানসিকতা গড়ার বয়স। আর এ বয়সে এদেশে লাখ লাখ শিশু নিয়োজিত শ্রমিক হিসেবে। একমাত্র উদ্দেশ্য ক্ষুধার অন্ন সংগ্রহ করা। নি: সন্দেহে এই শিশু শ্রমিকেরা নির্যাতিত,নিপীড়িত। পত্র-পত্রিকায় এই নিপীড়ন সংক্রান্ত খবরা- খবরই শুধু নয়,আশপাশের কর্মরত শিশু শ্রমিকদের অবস্হা পর্যবেক্ষণ করলেও তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরা প্রতিবাদী হতে পারে না বলে নিয়োগকর্তার হাতে নানাভাবে নিগৃহীত হয়। এই অবস্হায় বহু শিশু পঙ্গু হয়ে পড়ে। এমনকি অকালে মৃত্যুর শিকারেও হয়। গার্মেন্টস শিল্পে শিশু শ্রমিক নিষিদ্ধ হওয়ার ফলেও বহু শিশু বিকল্প শ্রমের সন্ধানে নেমে পড়েছে। বিশ্বের সব অন্যান্য সব দেশের মতো আমাদের দেশেও শিশুদের পক্ষে অনেক আইন আছে। বিশেষ শ্রম বিরোধী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী তৎপরতাও আছে। এছাড়া সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্হা শিশুদের অবস্হার উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এসব কর্মতৎপরতার প্রতিফলন চোখে পড়ছে অতি সামান্যই। আসলে শিশু উন্নয়নের কাজ যা হচ্ছে তার অধিকাংশই বাকসর্বস্ব।দেশের অধিকাংশ শিশু শ্রমিক কাজ করছে কৃষি,মৎস্য,বন বিভাগ এবং ছোট খাটো কলকারখানায়। এছাড়াও রয়েছে চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তোরায়। এছাড়া সীমান্ত অঞ্চলে বহু শিশু চোরাচালানীর কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এ জন্যই শিশু শ্রম বন্ধ করার যে কোন প্রয়াস সর্বাগ্রে প্রয়োজন গ্রামোঞ্চলে। বিশেষত গ্রামোঞ্চলে এখনো শিশু শ্রম বন্ধের কোন ধারণা পর্যন্ত নেই। অপর দিকে শহরাঞ্চলে শিশুরা কাজ করছে বাসা বাড়িতে, কারখানা,হোটেল,দোকানে। এছাড়াও বাস,টেম্পু সহ বিভিন্ন যানবাহনে। বহু শিশু মাদকের আখড়ায়ও কাজ করছে। এছাড়া রাস্তাঘাটে ভাসমান, ঠিকানাবিহীন অবস্হায় জীবন কাটাচ্ছে অসংখ্য শিশু। এই পরিস্হিতি থেকে উত্তরণ খুবই জরুরি। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, শিশু শ্রম নিরসনে শুধু সরকারের ওপর ভরসা করে থাকলেই পরিস্হিতির পরিবর্তন হবে না। শিশুদের অবস্হার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে দেশের সচেতন সমাজকে ।

কামরুল ইসলাম দুলু , সাংবাদিক ও কলামিস্ট, প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম

মতামত...