,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে নারি ধর্ষণ ৩ আটক ১জনের স্বীকারোক্তি

a1টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ  টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার এক নারী। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি শনিবার দুপুরে আদালতে জবানবন্দীও দিয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার এক আসামি এদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

শুক্রবার সকালের ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রাতেই তিন অভিযুক্তকে আটক করেছিল পুলিশ। তারা হলেন- বাসটির চালক ধনবাড়ি থানার নিজবর্ণী গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে হাবিবুর রহমান ও মোতালেব মিয়ার ছেলে বাসটির সুপারভাইজার রেজাউল করিম এবং বাসের হেলপার উপজেলার দয়ারামবাড়ি গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে খালেক আলী ভুট্টো।

শনিবার দুপুরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম লুনা ফেরদৌসের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধনবাড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান মোস্তফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে আজ বাসটির হেলপার খালেক আলী ভুট্টো ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার অন্য ৬ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। তারা হলেন- টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ইলিয়াস ও সেলিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জালু, প্রচার সম্পাদক সেলিম ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর লতিফ।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী গাজীপুরের চন্দ্রায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোর ৫টার সময় ধনবাড়ি উপজেলায় তার খালার বাড়ি থেকে গাজীপুরের চন্দ্রায় আসার জন্য বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। আর কোনো যাত্রী না থাকায় গেট বন্ধ করে গাড়িটি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর বাসের সুপারভাইজার ও চালকের দুই সহকারী এসে তার পাশের আসনে বসেন। একপর্যায়ে তারা তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তিনি চিৎকার করতে থাকেন, তবে চালক এরমধ্যেই বাসটি মধুপুর পর্যন্ত নিয়ে আসেন। ওই সময় ধর্ষকরা ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে রেখেছিল। একপর্যায়ে বাসটির চালক ঢাকার দিকে না এসে গাড়িটি ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে তাকে নামিয়ে চলে যায় বাসটি।

এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে তার স্বামীর কাছে ফোন করেন। স্বামী গিয়ে তাকে আনার পর দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। হাসপতালের গাইনী চিকিৎসক রেহেনা পারভীন বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার পর আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবরটোরিতে পাঠানো হয়েছিল। শনিবার দুপুরে ওই প্রতিবেদন হাতে আসে। এতে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী গাজীপুরের চন্দ্রায় লেগুনা চালান। তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে আসলে স্থানীয় শ্রমিক নেতারা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য তাকে চাপ দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা-বাস-কোচ মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত তিন শ্রমিককে ইউনিয়ন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। আমরাও চাই- ধর্ষণে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’

বি এন আর/০০১৬/০০৪/০০৩/০০০৪৭৫২/ এন

মতামত...