,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

টেকনাফে আনসার ক্যাম্পে হামলা,ধরা পড়েনি সন্ত্রাসীরা, উদ্ধার হয়নি অস্ত্র ও গুলি

rajjakআবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার প্রতিনিধি,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কক্সবাজারের টেকনাফ নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে একজন আনসার কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করে ১১ টি অস্ত্র ও ৬ শত ৭০ টি গুলাবারুদ লুটপাটের ঘটনার একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা এখনো পর্যন্ত কোন সন্ত্রাসী ও জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করতে পারেনি। শুধুমাত্র আবছার নামে একজন ডাকাতকে আটক করে শান্তনার বাণী হিসেবে আদালতে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করলেও তার স্বীকারোক্তি মতে অস্ত্র উদ্ধার দূরের কথা একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনার পর পরেই পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা টিম, পিবিআই, আনসার বাহিনীসহ সাদা পোষাকে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর দুই শতাধিক লোকজন অভিযান চালালেও উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি নেই।

জানা যায়, গত ১৩ মে টকনাফ উপজেলার নয়াপাড়ার মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাকে হামলা চালিয়ে ক্যাম্প কমান্ডারকে হত্যা করে ১১টি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় দেশের আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। এমন কি ঘটনার পর পরেই টকনাফ থানায় অজ্ঞাত ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলা রেকর্ডের পর ধারাবাহিকভাবে চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা সপ্তাহব্যাপী টেকনাফ অবস্থান করে সাঁড়াশি অভিযান চালান। কিন্তু অভিযানে নামে-বেনামে শতাধিক লোকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সর্বশেষ গত ৩০ মে গভীর রাতে টেকনাফের চাকমাপাড়া থেকে আটক করা হয় হ্নীলা রঙ্গীখালি এলাকার ছাবের আহমদের পুত্র আবছারকে (২২)। পরে ৩১ মে দুপুরে কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আদালত নং ৬) নুরুল আবছারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেন বিচারক মো. সিরাজ উদ্দিন। পাশাপাশি পৃথক একটি ডাকাতি মামলায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত শুনানি শেষে ওই মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও আদালতের দেয়া রিমান্ড শেষ করে আবছারকে পুলিশ জেল হাজতে প্রেরণ করলেও ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত, হত্যাকারী, লুটপাটকারি কাউকে আটক করতে পারেনি। পাশাপাশি উদ্ধার করতে পারেনি লুন্ঠিত অস্ত্র কিংবা গুলিও।
এদিকে গত ৩ মে চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি অস্ত্রগুলো আর বাংলাদেশের সীমানায় নেই। আমরা মিয়ানমার থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি। যদি আমাদের পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এ বিষয়ে কথা বলবে। তখন মিয়ানমারকে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আমাদের অস্ত্র ফেরত দেয়ার জন্য বলা হবে। কিন্তু সেই কথারও অনেক দিন পেরিয়ে গেছে। কোন অগ্রগতি নেই।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই মিয়ানমারের একটি কাঠের বোট শরণার্থী ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী সাগরে নোঙ্গর করে রাখে। পরে হামলা ও অস্ত্র লুট করার পর পরই নোঙ্গর করা বোটের মাধ্যমে অস্ত্র,গুলি এবং হামলায় অংশ নেয়া লোকজনসহ আটক আবছার মিয়ানমার চলে যায়।পরে তাদের গোপন আস্তানায় অস্ত্র ও গুলি গুলি রেখে সে বাংলাদেশে চলে আসে। বাংলাদেশে এসে আবছার কয়েকদিন ধারাবাহিক ভাবে মাদক সেবন করে চাকমাপাড়ায় এক বসতবাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে খবর পেয়ে ৩০ মে গভীর রাতে সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ ও কক্সবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বকতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আবছারকে আটক করেন।
ওসি (তদন্ত) বকতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আটককৃত আবছারের বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, ডাকাতিসহ ৪টি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে’। কিন্তু সচেতন মহলের প্রশ্ন ‘আটককৃত আবছার পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার পর এক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ কেন এখনো পর্যন্ত কোন সন্ত্রাসী ও জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করতে পারেনি ।

মতামত...