,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

টেকনাফে কোরবানি উপলক্ষে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে মিয়ানমারের গ্রু

কক্সবাজার সংবাদদাতা , ২৩ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও স্থানীয় আমদানীকারক ও গবাদিপশু ব্যবসায়ীগণ কোরবানির চাহিদা পূরণে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাদিপশু নিয়ে আসছে।প্রতি বছরের চেয়ে এবার মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসছে বেশি। এসব পশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে আসা মিয়ানমারের গবাদিপশু নিয়ে টেকনাফ গোদারবিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠ, সাবরাং ইউনিয়ন কমপেক্স, শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীর বেড়িবাঁধ ও পুরাতন বাজারের বেশ কয়েকটি স্থানে পশুর হাট জমে উঠেছে।

সেদেশের সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকলেও দু’দেশের সুসম্পর্কের কারণে পশু আমদানিতে প্রভাব পড়ছে না। পশুগুলো সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে সমুদ্র ও আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় এসব পশু নির্বিঘেন আমদানি করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং কোরবান উপলক্ষে গরু-মহিষের চাহিদা থাকায় মিয়ানমার থেকে পশু আনতে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হয়েছেন।

জানা যায়, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৪৩৭টি গবাদিপশু আমদানি খাতে ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৯০০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক বিভাগ। এর মধ্যে চলতি আগস্ট মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৪৫টি গরু এবং ১ হাজার ২৫৭টি মহিষ আমদানি খাতে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা এবং জুলাই মাসে ৪ হাজার ৬৭১টি গরু, ২ হাজার ৭টি মহিষ ও ২টি ছাগল আমদানি করে আদায় হয়েছে ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এভাবে গবাদি পশু আমদানি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাজারে পশুর সংকট থাকবে না বলে মনে করছেন গবাদিপশু এবং আমদানীকারকরা। পর্যাপ্ত কোরবানির পশু মজুদ থাকায় বাজারে মূল্যও ক্রেতাদের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। টেকনাফ শুল্ক বিভাগ।

সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৪৫টি গরু, ১ হাজার ২৫৭টি মহিষ ও ৩টি ছাগল পশু আমদানি করা হয়েছে। এতে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এর মধ্যে গত জুলাই মাসে ৬ হাজার ৬৭৮টি গবাদিপশু আমদানী করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৭১টি গরু, ২ হাজার ৭টি মহিষ এবং ২টি মাত্র ছাগল আমদানি করে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৪৯৬টি গরু, ১২ হাজার ৩৯৫টি মহিষ ও ৪৫টি ছাগল আমদানি করে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। যা বিগত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে প্রাপ্ত রাজস্ব ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি। মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর চালু করা হয়। এতে প্রতি গরু-মহিষের জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল ২০০ টাকা হারে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করে থাকেন আমদানী কারকরা। তবে করিডোর প্রতিষ্ঠার এক যুগ সময় পার হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোসহ কোন স্থাপনা গড়ে উঠেনি। ফলে আমদানীকৃত গবাদিপশুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

১৯ আগস্ট বড় ৬টি কাঠের ট্রলারে করে ৭১১টি গরু-মহিষ নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। পরে নাফ নদীর জেটি দিয়ে গরুগুলো করিডোরে নামানো হয়। করিডোরের খোলা মাঠে দেখা যায় মিয়ানমার থেকে আনা আরও কয়েকশ গরু-মহিষ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী পশু কেনার জন্য দরদাম করছেন। ২১ আগস্ট সোমবার মিয়ানমার থেকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে প্রায় ৫০০ গবাদিপশু আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩১টি গরু ও ৫৮টি মহিষ রয়েছে। রবিবার ২০ আগস্ট ৫টি ট্রলারে ৫ শতাধিক গবাদিপশু আনা হয়। আমদানীকারকরা হলেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন, আব্দুল্লাহ মনির, আবু ছৈয়দ মেম্বার, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ শরীফ, মোহাম্মদ আলমগীর ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তাঁরা জানান, নাফনদী ও সাগরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বাধা না থাকলে কোরবানের আগে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার গবাদিপশু আমদানি করা যাবে। তবে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশুবোঝাই ট্রলারগুলোকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে আসতে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী দিয়ে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পাড়ি দিতে হয়। এতে সাগর উত্তাল থাকলে পশুবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে মাঝে মধ্যে। এতে অনেক পশু ট্রলারে মারা যায়।

টেকনাফের গবাদিপশু ব্যবসায়ী, পৌর প্যানেল মেয়র-২ সাংবাদিক আবদুল্লাহ মনির জানান, দেশে গবাদি পশুর চাহিদা থাকায় মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে ভারতের গরু আসা শুরু হওয়ায় টেকনাফে বাইরের গবাদিপশু ব্যবসায়ীরা এখন কম আসছেন। এর পরও পশুর চাহিদা ও দাম রয়েছে বলে জানান। শাহপরীর দ্বীপে ব্যাংক ও শুল্ক বিভাগের শাখা না থাকায় নানা সমস্যা পোহাতে হয়। তাছাড়া গবাদিপশু ট্রলার থেকে নামানোর জন্য নেই কোন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। উপরন্তু গত ৫ বছর ধরে শাহপরীর দ্বীপ সড়কটিও বিছিন্ন। যার ফলে যাতায়াত ও পশু পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মতামত...