,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

টেকনাফ আনসার ক্যাম্পের লুন্ঠিত উদ্ধার

টেকনাফ আনসার ক্যাম্পের উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ।-বিডিনিউজ রিভিউজ.কম

বান্দরবান সংবাদদাতা, ২ মার্চ,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমরু পাহাড়ি উপত্যকায় এক প্রেস ব্রিফিং-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ঘুমধুমের তুমরু পাহাড় থেকে ২ দফায় উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রগুলো টেকনাফের সেই লুণ্ঠিত অস্ত্রই। যে আনসার ক্যাম্পের দায়িত্বরত কমান্ডার পিসি আলী হোসেনকে হত্যা করে, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো সে ক্যাম্পেরই। যারা এসব অস্ত্রগুলি লুট করে নিয়ে গিয়েছিল তাদেরসহ মোট ১১টি অস্ত্র আমাদের র‌্যাব বাহিনী দীর্ঘ কয়েক মাস প্রচেষ্টার দু’ধাপে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী যে ছিল সে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুরুল আলমকে র‌্যাব সদস্যরা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়েছে।

বুধবার দুপুর আড়াইটায় ঘটনাস্থল তুমরু পাহাড়ি গভীর অরণ্যে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, র‌্যাব সদস্যরা শুধু অস্ত্র উদ্ধার করেছে তা নয়, তারা কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যে আনসার পিসিকে হত্যা করেছিল, তাকেও আটক করেছে। এর আগেও অপর একজন পরিকল্পনাকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের যে নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাব, পুলিশ, আনসার তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এসব লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও পরিকল্পনাকারীদের আটক করতে দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট করতে হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন আজকে র‌্যাব-৭ এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান প্রশংসনীয়, যা সবাই দেখেছে। আমার পাশে আছে র‌্যাব প্রধান, বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার, আনসারের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের এসপি, আজকে র‌্যাবের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী সবাই। তিনি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও পরিকল্পনাকারীদের আটক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গারাও মানুষ, তারা এখানে থাকবে, মিয়ানমারের পরিবেশ অনুকূলে আসলে তারা চলে যাবে।

ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভাল মানুষ, তাই তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের একটি পরিবেশ সম্মত জায়গায় নিয়ে যেতে চান। সেখানে তারা ভালভাবে বসবাস করতে পারবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছে রোহিঙ্গাদের যাতে দ্রুত প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়।

মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল চলমান পরিবহন ধর্মঘট সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শ্রমিকরা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অযৌক্তিক ধর্মঘট করে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করছে, বাস পুড়িয়ে দিয়ে একটি অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এসব মেনে নেয়া যায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ছিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমদ, আনসার মহাপরিচালক মিজানুর রহমান, কক্সবাজার বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার মো. রকিবুল হক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. মো. ইকবাল হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নুরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) ছাউলাউ মারমা ও উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের প্রমুখ।

প্রকাশ, গত বছরের ১৩ মে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুরুল আলম ও হাফেজ আলী হোসেন (যে বর্তমানে ঈদগাঁতে আত্মগোপনে) সহ ২০/২৫ জনের আরএসও সন্ত্রাসী টেকনাফের আনসার ক্যাম্প লুট করে ১১টি অগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬২০ রাউন্ড গুলি নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা আনসার কমান্ডার আলী হোসেনকে খুন করে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় এ হত্যা ও অস্ত্র, গোলাবারুদ লুটের মূলহোতা দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের কমান্ডার নুরুল আলমকে কক্সবাজার র‌্যাব-৭ উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি এলাকা থেকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র‌্যাব সদস্যরা নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমকুল গহীন অরণ্যে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আনসারের লুণ্ঠিত ৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৭.৬২ রাইফেলস ৪টি, বিডি ০৮ রাইফেলস ১টি ও ১টি সাব মেশিনগান রয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করছেন, বহুল আলোচিত এ অস্ত্র-গোলবারুদ উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী আটকের পর নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও কক্সবাজারে থাকা আরএসও নেতারা আত্মগোপনে চলে গেছে। আর ঘটনার সাথে সরাসারি জড়িতরা ছদ্মবেশে ঈদগাঁও এলাকায় রয়েছে। বাকিরা চট্টগ্রাম শহরে রোহিঙ্গা নেতাদের বাসায় গা ঢাকা দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মতামত...