,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

টেকনাফ উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে জমজমাট বস্তি বাণিজ্য

কক্সবাজার সংবাদদাতা,২ জানুয়ারী, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের কাউয়ারখোপ, উবায়েক, কেয়ারীপ্রাং, সাতগরিয়াপাড়া, নাইছাপ্রু, লোদাইং, নাগপুরা, ফকিরা বাজার, বলি বাজার, কাউয়ারবিল, শাহাব বাজার, বুড়া সিকদার পাড়াসহ ১৭ গ্রামের প্রায় ২২ হাজার রোহিঙ্গা সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের আশপাশের এলাকাগুলোতে আশ্রয়হীন দিন-রাত কাটাচ্ছে। আর বাস’হারা এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের নামে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বনভূমি দখল করে বস্তি বাণিজ্যের আড়ালে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এলাকার একটি মহল।
গত বছরের ৯ অক্টোবর রাখাইনের ৩টি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলায় ৯ সীমান্তরক্ষী নিহত ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটপাটের পরবর্তীতে দেশটির সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র রাখাইন যুবকেরা রোহিঙ্গাদের নির্যাতন চালিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।
এদিকে, গত ১ মাসে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ৫ শতাধিক অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে খাদ্য ও মানবিক সেবা দিয়ে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবুল খায়ের। পাশাপাশি উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী হয়ে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই প্রায় ৫টি নৌকা ফিরিয়ে দিয়েছে বিজিবি।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি মৌলভী বখতিয়ার আহমদ জানান, ‘বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত দুদিন ধরে বস্তি এলাকায় জরিপ করে দেখা যায়, প্রায় ২২ হাজার নতুন রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নভাবে বস্তির আশেপাশে অবস’ান করছে। আইওএম ইতোমধ্যে ১৭শ’ পরিবারকে রান্নার সামগ্রী বিতরণ করলেও আরো অসংখ্য পরিবার সড়কের আশেপাশে ভিক্ষা করে দিনযাপন করছে, যাদের রাত কাটানোর মতো কোন সহায় সম্বলহীন নেই।’
রোববার বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পসংলগ্ন বনভূমির জায়গা দখল করে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বস্তি তৈরি করছে কিছু লোক। জানতে চাওয়া হলে মংডুর বলি বাজার থেকে আসা রশিদা (৩৫) জানান, তার স্বামী রশিদ উল্লাহকে (৪০) মায়ানমারের সেনারা মেরে ফেলেছে। ৪ ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকার জন্য মাসিক এক হাজার টাকায় তিনি একটি জায়গা ভাড়া নিয়েছেন। ভাড়া কে আদায় করেছে -জানতে চাওয়া হলে ওই রোহিঙ্গা নারী জানান, ‘নাম বললে ঝুপড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে।’
এসময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা ভাড়াটিয়া জানান,এলাকার শাহজাহান, জাফর আলম, কামাল, ফরিদ ড্রাইভার, আয়েশা বেগম, হামিদুল হকসহ ১০-১২ জন তাদের জায়গা দাবি করে ৫ হাত ও ৮ হাত দৈর্ঘ্যের একটি জায়গার জন্য ১ হাজার টাকা করে পরিবার প্রতি ভাড়া আদায় করছে।
বস্তি সংলগ্ন বনভূমি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক ঝুপড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ঝুপড়িতে বসবাসকারী বুড়াসিকদার পাড়া গ্রাম থেকে আসা মালিয়া খাতুন (৩২) জানান, তার স্বামী নাজির হোসেনকে রাখাইন যুবকেরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। ৬ ছেলেমেয়ে নিয়ে ৫ দিন হেঁটে বস্তিতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। হাতে টাকা-কড়ি নেই। তবুও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মাসে এক হাজার টাকায় একটি ঝুপড়ি ভাড়া নিয়েছেন। বনভূমির জায়গায় কারা ভাড়া আদায় করছে -জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এলাকার লোকজন।
বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার জানান, ঠিকমত দুই বেলা খাবার জোটাতে তাদের পথেঘাটে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। এই ঝুপড়ির ভাড়া কীভাবে আদায় করবে তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
বস্তি পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সিদ্দিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অসহায় রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে ১ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করাটা অমানবিক।’
বনভূমিজুড়ে বস্তি নির্মাণের ব্যাপারে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ‘ইতোপূর্বে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি করা ঝুপড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। বর্তমানে যেসব ঝুপড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে সে ব্যাপারে জেলা বন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

মতামত...