,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

টেকনাফ স্থল বন্দরে আমদানি ও রপ্তানী বন্ধ রাজস্ব আয়ে ধ্বস

cox mapটেকনাফ সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানীতে রাজস্ব আয়ে ধ্বস নেমেছে। এবার আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে ছোলা, পেঁয়াজ ও আদা আমদানী হচ্ছেনা। গত বছর এসময়ে মিয়ানমারের ছোলায় সয়লাব ছিল টেকনাফের বাজারগুলো। স্থল বন্দর দিয়ে গত ৩ মাস ধরে নির্ধারিত কয়েকটি আমদানি পণ্যছাড়া অন্য কোন পণ্য আমদানি হচ্ছেনা। সম্প্রতি টেকনাফস্থ কেরুনতলী স্থল বন্দর সরেজমিন পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, স্থল বন্দরে বনজদ্রব্য কাঠ ছাড়া অন্যকোন পণ্য চোখে পড়েনি। গোটা স্থল বন্দর এলাকা কাঠের দখলে।

জানা যায়, টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে ২৫টি আমদানি পণ্যের মধ্যে মাত্র ৮টি আমদানিপণ্য চালু আছে। এর মধ্যে বনজদ্রব্য কাঠ আমদানি নিয়মিত হলেও বাকি আটটি পণ্য আঁচার, শুটকী, মাছ, বাঁশ, আমদানি অনিয়মিত। এছাড়া রপ্তানীতে শুধু চুল, বিস্কিট, সিমেন্ট, টিউবওয়েল ও পানির ট্যাংক ছাড়া অন্য কোন পণ্য রপ্তানী হচ্ছেনা।

 অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবার পর থেকে আমদানিকারকেরা যে হারে ব্যবসা করতো বর্তমানে তা সিকিপরিমান হচ্ছেনা। এ জনপদে মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা চালু হবার পর থেকে সীমান্ত বাণিজ্যের উপর এর প্রভাব পড়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যকে সাইন বোর্ড দেখিয়ে কতিপয় আমদানি কারক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা আমদানি পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেশী এবং কতিপয় কিছু আইন প্রয়োগকারী জওয়ানদের হয়রানীর কারনে বৈধ ব্যবসায়ীরা ব্যবসা থেকে অনেকেই হাত গুটিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ টু-ঢাকা সড়ক পথ ইয়াবার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সুতারাং এ ঝুঁকিতে তারা যেতে চায়না। টেকনাফের পণ্যবাহীগাড়ী, বাস এবং যাত্রী হলেই ঘাটে ঘাটে আইন শৃংখলা বাহিনীর নির্বিচারে তল্লাশীর নামে চলে হয়রানী। প্রতিবাদ করলে ইয়াবার ফাঁদে পড়তে হয় সে জন্য অনেকেই নীরবে সহ্য করে থাকে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মিয়ানমারে প্রচুর পরিমাণ আমদানি পণ্যের চাহিদা রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা আমদানি পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় মূল্য না মেলায় এবং লোকসানের আশংকায় পণ্য আমদানি করছেনা। তবে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে এসব পণ্য আমদানী করলে ও তা চাহিদার তুলনায় নগন্য। সুতারাং টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে আমদানী ও রপ্তানীতে সচল করতে হলে দুদেশের সীমান্ত বাণিজ্যে এলসি প্রতা চালু করতে হবে এবং তাহলেই ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারবে বলে স্থানীয় বিশিষ্ট জনেরা এ মত প্রকাশ করেন। টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে লোকসান এবং সড়ক পথে সংশ্লিষ্টদের হয়রানী প্রেক্ষিতে প্রকৃত আমদানি কারকেরা মিয়ানমার থেকে সরাসরী সাগর পথে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে বড় ধরনের মালামাল আমদানি হচ্ছেনা।

আসন্ন রমজান উপলক্ষে মিয়ানমার থেকে স্থল বন্দর দিয়ে এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে চোলা, পিঁয়াজ ও আদা আমদানি হয়নি। তবে গত ২৮ মে, মাত্র ৫ মেট্রিকটন পরিমান রসুন আমদানী হয়েছে। মিয়ানমারে প্রচুর পরিমান চোলা মওজুদ থাকলেও আমদানিতে লোকসান হবে মর্মে ব্যবসায়ীরা চোলা আমদানি করছেনা। মিয়ানমারে চোলার কেজি ১শত টাকা এবং বাংলাদেশে ৯৫ টাকা। যার কারণে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে চোলা আমদানী হচ্ছে না।

টেকনাফ সি,এন্ড,এফ এসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, সীমান্ত বাণিজ্যে আমদানিতে রাজস্ব আয়ের ধ্বস পড়ার মূল কারণ আমদানী কারকেরা স্থল বন্দরে ব্যবসা লোকসান দেখে তারা মিয়ানমারের রাজধানী হয়ে সাগর পথে চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে আমদানী পণ্য সরাসরী নিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থল বন্দরে স্বল্প মূল্যের আমদানী পণ্য নিয়ে আসছে। টেকনাফ কাস্টমস্ সুপার বলেন, গত ৩ মাস যাবৎ স্থল বন্দরে লক্ষ্য মাত্রা অরজিত হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা হাত গুতিয়ে বসে আসে। শুধু মাত্র কাঠ, বাঁশ, গবাধী পশু ও আঁচ্রা ছাড়া অন্য কোন বড় ধরনের পণ্য আমদানী হচ্ছে না।

 টেকনাফ স্থল বন্দরের অপারেশন ম্যানেজার মোঃ খালেদ নুর বলেন- স্থল বন্দরকে গতিশীল করতে হলে বাংলাদেশ মিয়ানমার পর্যায়ে এল,সি ব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মতামত...