,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ট্যানারি মালিকদের দৈনিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানাঃ হাইকোর্ট’র রায়

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা ১৫৪টি ট্যানারি সাভারে না সরানো পর্যন্ত পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক ট্যানারি মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ক্ষতিপূরণের ওই অর্থ সঠিকভাবে আদায়ের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্প সচিবকে। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ ১৬ জুন বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া হাজারীবাগের ট্যানারি বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় যাওয়ায় প্রতিদিন পরিবেশের কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা নিরূপণ করে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে পরিবেশ সচিবকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০০১ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০০৯ সালে আরেক আদেশে ট্যানারি সরানোর জন্য ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সরকারপক্ষের আবেদনে ওই সময়সীমা কয়েকদফা বাড়ানোর পরও ট্যানারি স্থানান্তরের হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন হয় না। এরপর রিটকারী সংগঠন আদালত অবমাননার আবেদন করে। ওই আবেদনে হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরেও দশটি প্রতিষ্ঠান হাজারীবাগ থেকে তাদের ট্যানারি সরায়নি। পরে হাইকোর্ট ওই দশ প্রতিষ্ঠানের মালিককে তলব করে। এই তলবের মধ্যেই একটি জাতীয় দৈনিক ট্যানারি শিল্প নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয় ‘হাজারীবাগ ট্যানারি মুক্ত হতে আরো দুই বছর!’ এবং ‘নেতাদের ট্যানারির কাজ এগোয়নি’। এরপর রিটকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ প্রতিবেদন দুটি যুক্ত করে গত এপ্রিল মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই আবেদনে গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পের বর্তমান চিত্র প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে শিল্প সচিবকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ মোতাবেক শিল্প সচিবের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. রইসউদ্দিন গতকাল আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে ১৫৫টি ট্যানারি প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা তুলে ধরা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধুমাত্র রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান সাভারে তাদের নামে বরাদ্দকৃত প্লটে ট্যানারি কারখানা চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৩ সালের মধ্যে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এরপর পার হয়ে গেছে তিন বছর। নানা টালবাহানায় ট্যানারি মালিকরা হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে তাদের প্রতিষ্ঠান হাজারীবাগেই রেখে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, হাইকোর্ট কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্প সরানো সম্ভব হবে না। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো সরায়নি তাদেরকে প্রতিদিন এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে। এ পর্যায়ে মো. রইসউদ্দিন বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান সাভারে তাদের ট্যানারি সরিয়ে নিয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আপনারা তো প্রভাবশালী। যতদিন হাজারীবাগে থাকা যায় সেই চেষ্টাই করছেন। বুড়িগঙ্গার পরিবেশ দূষণের জন্য এই ট্যানারি দায়ী’। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৫৪ ট্যানারি মালিকের প্রত্যেককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

 

মতামত...