,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ট্রাম্পকে রুখে দিতে প্রস্তুত নিউ ইয়র্কের মেয়র

tramp-ny-mayor-blagioআন্তর্জাতিক ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: নিউ ইয়র্কে বাস করা নাগরিকদের পরিচয়সংক্রান্ত কোনো তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দেয়া হবে না। মুসলিম অভিবাসীদের আলাদাভাবে নিবন্ধনের চেষ্টা করা হলেও তা প্রতিহত করা হবে। আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় আতঙ্কগ্রস্ত অভিবাসীদের এই ভাষাতেই আশ্বস্ত করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিও।
আর রাজনৈতিক মহলের মতে, এমন মন্তব্য করে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন মেয়র ডি ব্লাজিও। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারের সময় মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য এবং অবৈধ অভিবাসীদের আমেরিকা থেকে বের করে দেয়ার ঘোষণা করে কঠোরভাবে সমালোচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ও অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনে যে অতি রক্ষণশীলরা স্থান পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে তারাও ট্রাম্পের ঘোষণাজ দ্রুত বাস্তবায়ন চান। সেক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। এই অবস্থায় নিউ ইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিওর বক্তব্য আশ্বস্ত করেছে অভিবাসীদের।
মেয়র স্পষ্টই জানিয়েছেন, আমেরিকায় মুসলিমদের নাম তালিকাভুক্তির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। নিউ ইয়র্কে ইস্যু করা কোনো পরিচয়পত্রের তথ্য ফেডারেল সরকারকে দেয়ার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হবে।
মেয়র জানিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়াই শেষ কথা নয়। এটাকে শুরু বলা যেতে পারে। অভিবাসী পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কোনও চেষ্টা চালালে তা মেনে নেবে না নিউ ইয়র্ক। এটাই আমেরিকার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি। নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নিল বলেন, ৮ নভেম্বর নির্বাচনের পর নিউ ইয়র্কে বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত ১৩ দিনে শহরে ২৮টি বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ভাবাই যায় না।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় বসার প্রথম দিনই ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেবেন তিনি। এক ভিডিও-বার্তায় এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প। দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই তিনি কী করবেন, তার রূপরেখা দেন রিপাবলিকান দলের এই বিজয়ী প্রার্থী। আমেরিকাসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশ বহুল বিতর্কিত টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনা শুল্ক সুবিধার কথা রয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৫ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো হল অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রুনাই দারুস সালাম, কানাডা, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। এই দেশগুলি বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্যের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থনৈতিক বন্ধন গভীরতর এবং প্রবৃদ্ধি সমৃদ্ধ করা চুক্তিটির উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়। যদিও টিপিপির বিরুদ্ধে আমেরিকায় বিরোধিতা রয়েছে। সমালোচকেরা বলেন, এই চুক্তি থেকে বহুজাতিক বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে। এতে বিশেষ করে আমেরিকার করপোরেট কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।

মতামত...