,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিজনরা আবাসন সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেই

aইমন রায়, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  ক্ষুদ্র এক জনগোষ্ঠীর নাম হরিজন বা দলিত । কৃষি অধ্যুষিত জেলা ঠাকুরগাঁও । এই জেলায় বিচ্ছিন্ন ভাবে এই জনগোষ্ঠীর বাস । দেশের সর্ব উত্তরে অবস্থিত এই জেলা ।তেভাগা ও স্বাধীকার আন্দোলন সহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ধর্ম-বর্ণ-জাত নির্বিশে এই জেলার মানুষ মূখ্য ভূমিকা পালন করে। তেভাগা আন্দোলনের সুতিকাগার হিসেবে এই জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে ।  কিন্তু ভুঁই ফোর বলে পরিচিত আধূনিক সমাজের সব চেয়ে অবহেলিত সম্প্রদায় হরিজনদের কোন উন্নতি নেই ।প্রায় ১৬ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বংশ পরামপরায় সম্প্রীতিতে বাস করছে এই জেলায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মুসলিম এবং ক্ষূদ্র নৃ-তাত্বিক নারী পুরুষ। অন্য সম্প্রদায়ের জায়গা জমি ও নিজস্ব সম্পতি থাকলেও এক মাত্র হরিজনদের নেই কোন ঠিকানা । কালের প্রবাহে এশিয়ার এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা কল-কারখানা, অফিস-আদালত সহ সরকারি-আধা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসাবে এই সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও এই জেলার এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিয়ে কোন পরিকল্পনা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলিত পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট মনি লাল দাস । ৮০-র” দশক পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও চিনি কলের ব্যবস্থাপনায় ৩০ টি পরিবারের একটি আবাসিক বাসস্থান ছিল। এটি এখন নেই । সরকারি ভাবে এই জেলায় এদের আবাসন নেই । সদর উপজেলার খোচাবাড়ি হাট এলাকায় ৮ টি পরিবার বাস করছে । এ এলাকার হরিজন সদস্য রাজু বাঁশফোর জানান হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করার শর্তে তাদের-কে সেখানে ঠাঁই দেয়া হয়েছে । বাঁশের বেড়া,পলিথিন ও টিনের চালা দিয়ে কোন রকমে এই পরিবার গুলো বাস করছে । জেলা শহরের ঘোষপাড়া ও কালিবাড়ি মহল্লায় শতাধিক পরিবার বংশ পরামপরায় বসবাস করছে । তবে এদেরও আবাসন ব্যবস্থা নাজুক ।শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশন এলাকায় এক সময় ১০-১৫ টি পরিবার ছিল। সেখানে ভুমি দস্যুদের অত্যাচারে ঐ পরিবার গুলো এলাকা ছেড়েছে। সেখানে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে একটি পরিবার টিকে আছে। স্থাণীয় একটি বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা (ই.এস.ডি.ও) এই জন গোষ্ঠীর উন্নয়ন নামে প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি ও দাতা সংস্থার মোটা অংকের তহবিল হাতিয়ে নেয়। কিন্তু দলিতদের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি, ভিডিও ও ফটো সেশন বলে অভিযোগ করেন এই সম্প্রদায়ের সদস্য মহাদেব দাস ।  তিনটি পৌরসভা, ৫৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৫ টি উপজেলায় গঠিত ঠাকুরগাঁও। জেলা শহর ও শহরের বাইরে পীরগঞ্জ ,রাণীশংকৈল, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় কিছু পরিবার বসবাস করছে এই সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী। মানবাধিকার কর্মী মামুন অর রশিদ জানান এই জেলার হরিজনদের বিশেষ করে বর্ষ মৌসুমে নিদারুন ভোগান্তিতে পড়তে হয় । এ সময় ঠিকানা হীন পরিবার গুলো নীড় হারা বিহঙ্গের মত ছুটা ছুটি করে। মৌলিক অধিকার সম্পর্কে দিনু দাস বলেন আমরা সুইপার আমাদের কে দিবে বাঁচার অধিকার। মাধব দাস বলেন খাস জমির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কোন সাড়া মিলে নি। স্থাণীয় ও জাতীয় নির্বাচনের সময় এদের শুধু খোঁজ রাখা হয়। নির্বাচনী বৈতরণী পার করার কর্মী হিসাবে শুধু ব্যবহার হয় এই অবহেলিত জনগোষ্ঠী ।

মতামত...