,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ঠাকুরগাঁও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের রাস্তা পারাপার

a.ইমন রায়, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ব্যস্ত সড়কের পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছুটির ঘণ্টা বাজতেই বাড়ির পথে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে পড়ে শিশুরা। কিন্তু সড়কে একের পর এক দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এক দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে আবার পিছিয়ে চলছিল শিশুরা। সড়ক পারাপারে শিশুদের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখে এগিয়ে এলেন এক তরুণ (২৩) শিশুদের হাত ধরে সড়ক পার করে দেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এভাবেই সড়ক পারাপার হতে দেখা যায়।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও শিশুদের অভিভাবকেরা বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে তাঁরা গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সামনে গতিরোধক নির্মাণ করা সম্ভব না হলে তাঁরা অন্তত বিদ্যালয় চলার সময় সেখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকার দাবি করেন।
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। সড়কটি জেলা সদর থেকে চারটি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির পাশে রয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জজ আদালত, পৌরসভা কার্যালয়, থানা, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রসহ নানা দপ্তর। এ কারণে ওই সড়কে সব সময় যানবাহনের ব্যস্ততা লেগেই থাকে।
বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে কোনো গতিরোধক নেই। নেই কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড ও চিহ্ন। সড়ক দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা, ভটভটিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বিদ্যালয়ের শুরুতে ও ছুটির সময় শিশু ও অভিভাবকেরা চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হাত উঁচিয়ে, গাড়ি থামিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. ইয়াসিন আলী বলেন, ‘প্রতিদিন বাচ্চা নিয়ে এই রাস্তা পার হতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। এখানে বেপরোয়া যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের উচিত ছিল এখানে ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে শিশুদের পারাপারে উদ্যোগ নেওয়া।’
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী খালেদ হোসেন ও জান্নাতুন ফেরদৌস বলে, ‘স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে অনেক জোরে গাড়ি চলে। রাস্তার ওই গাড়ির সামনে দিয়েই আমাদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ কারণে রাস্তা পার হতে সব সময় ভয় লাগে।’
অভিভাবক মো. কাইয়ুম, রতন রায় ও আকলিমা বেগম বলেন, প্রাথমিক শ্রেণির শিশুরা চঞ্চল-প্রকৃতির। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা দরকার। বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকিমুক্ত হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাবেরা সুলতানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে বিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। শিক্ষার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে সড়ক পারাপার হতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যারকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
সওজের ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে গতিরোধক নির্মাণে মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও শিশুদের পথ নিরাপদ করতে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, দেখব।’
জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথ ঝুঁকিমুক্ত করতেই হবে। শুরু ও ছুটির সময় বিদ্যালয়ের সামনে যানবাহন যাতে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।’

মতামত...