,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ঠেংগার চরের মালিকানা দাবিতে আন্দোলনে সন্দ্বীপবাসী

সন্দ্বীপ সংবাদদাতা, ১ মার্চ, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: সন্দ্বীপের নেয়ামস্তি ইউনিয়নের অংশ ঠেংগার চর  । এ নেয়ামস্তির বাসিন্দা পাকিস্তান পার্লামেন্টের এমপিও হয়েছিলেন।  নদী ভাঙনের কবলে পড়ে কালের বিবর্তনে নেয়ামস্তি ইউনিয়ন বিলীন হয়ে যায়। সন্দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নেয়ামস্তির চরও নদীগর্ভে চলে যায়।

দীর্ঘকাল পর ১০/১২ বছর আগে চরটি আবার নতুন করে জেগে উঠে। নতুন প্রজন্মের জেলেরা জেগে উঠা চরটির নাম রাখে ঠেংগার চর। আর এই নতুন নামকরণের সুযোগ নিয়ে সাবেক নেয়ামস্তির চরটিকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার অংশ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

ঠেংগার চরের মালিকানা দাবিতে আন্দোলনরত সন্দ্বীপবাসীর। সম্প্রতি ঠেংগার চরকে নোয়াখালীর হাতিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে সরকার সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা দিলে এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠে সন্দ্বীপের মানুষ। এর প্রতিবাদে তারা চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি, সন্দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, নৌ-র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এ দাবির পক্ষে শ্লোগান তুলে মাঠে নেমেছেন সন্দ্বীপের বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দাবি, ঠেংগার চরটি যে সন্দ্বীপের অংশ সে বিষয়ে প্রচুর তথ্য প্রমাণ এখনো আছে।
সাবেক নেয়ামস্তি ইউনিয়নের এক বাসিন্দা সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সাহেদ সারওয়ার শামীম বলেন, ঠেংগার চর নেয়ামস্তি ইউনিয়নের অংশ। ভাঙন-কবলিত সন্দ্বীপ থেকে নেয়ামস্তির (বর্তমান ঠেংগার চর) দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার, অপরদিকে হাতিয়া থেকে এই চরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। সন্দ্বীপের পর মাঝখানে একটি ছোট খাল ছিল। সময়ের সাথে সেই খালের ভাঙনে বিলীন হয়েছে নেয়ামস্তির চর। এই চরটির মালিকানা কিভাবে হাতিয়ার হবে তা বোধগম্য নয়। এটি মেনে নেওয়া যায় না। সন্দ্বীপের ‘জেগে উঠা ভূমি রক্ষা পরিষদে’র প্রধান সমন্বয়কারী মাইটভাঙা ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, ঠেংগার চর সাবেক নেয়ামস্তি ইউনিয়নের অংশ। সন্দ্বীপের প্রথম বসতি ছিল নেয়ামস্তিতেই। একসময় নেয়ামস্তির বাসিন্দা রাজকুমার চক্রবর্তী ছিলেন পাকিস্তান পার্লামেন্টের এমপি। সেই নেয়ামস্তি বিলীন হয়ে গেলে সব কিছু মুছে যায়। কিন্তু এটি আমাদের বাপ-দাদার ভূমি। আমরা এ ভূমির দাবি ছাড়তে পারি না। শুধু মৌখিক দাবি নয়, ঠেংগার চর সন্দ্বীপকে ফিরিয়ে দেবার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনটি আজিমপুর থেকে সারিকাইত বাংলা বাজার পর্যন্ত ৬/৭ কি.মি. দীর্ঘ মানববন্ধন করে। শেষে অন্তত ১ হাজার সন্দ্বীপবাসী সেখান থেকে নৌ-র‌্যালি সহযোগে ঠেংগার চরে গিয়ে নেয়ামস্তির নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করে ফিরে আসেন।

মতামত...