,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ডা. সুরমান আলী আবারো আলোচনায়! নিম্ন আদালাতের আদেশ কেন বাতিল হবে না হাইকোর্টের শো-কজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীরে সুঁই রেখে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এবার হাইকোর্ট দুই ডাক্তারসহ তিনজনকে শো-কজ করেছেন। একইসাথে এ মামলায় পূর্বতন আদালতগুলোর (সিএমএম ও মহানগর দায়রা জজ আদালত) আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এসব আদেশে এর আগে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাবেক বিচারক (মশিউর রহমান চৌধুরী) দুই ডাক্তারকে অব্যাহতি ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক (মোহাম্মদ শাহেনুর) এ সংক্রান্তে বাদীপক্ষের রিভিশন খারিজ করেছিলেন। এরপর এ মামলার বাদী দেলোয়ারা বেগম হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার শুনানী শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ উল্লেখিত আদেশ দিয়েছেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচারের পর ভেতরে সুঁই রেখে সেলাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অব্যাহতি পাওয়া ডা. সুরমান আলী ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে করা রিভিশন খারিজ করেছিলেন আদালতের বিচারক। গত ৮ মে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শাহেনূর এ আদেশ দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রামে মামলা চলাকালীন বাদিপক্ষের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত দুই আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করেন। জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট এ মামলার আসামি দুই চিকিৎসককে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দেন চট্টগ্রামের তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী। ২০১২ সালের ৩০ মে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমিনুল ইসলামের মলদ্বারে অস্ত্রোপচার করেছিলেন তাঁরা। এরপর আমিনুল মলদ্বারে ব্যথা অনুভব করলে তারা দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে সেখান থেকে সুঁই বের করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ডা. সুরমান আলী ও ডা.জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন আমিনুলের মা দেলোয়ারা বেগম।

আদালত মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পাঁচলাইশ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরের বছরের ৩০ মে এসআই রুহুল আমিন ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেই দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার কার্যক্রমে গত ৮ মে মহানগর দায়রা জজ আদালত কর্তৃক রিভিশন খারিজের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর মামলার বাদী দেলোয়ারা বেগম হাইকোর্টে যান। সেখানে তিনি চট্টগ্রামের দুই আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। এ ব্যাপারে ডেপুটি এটর্নী জেনারেল গৌতম রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ মামলায় হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী (হাইকোর্ট) এডভোকেট দেওয়ান মোহাম্মদ আবু ওবায়েদ হোসেন জানান, এ মামলায় নিন্ম আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আমরা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হই। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদ এর বেঞ্চ থেকে দেয়া আদেশে ৬ সপ্তাহের রুল ইস্যু হয়েছে। একইসাথে নিন্ম আদালতের আদেশ কেন বাতিল হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে তিনজনের কাছ থেকে। গত ৩ আগষ্ট হাইকোর্টের এ আদেশ প্রচারিত হয়।

বাদীপক্ষে এডভোকেট আবু ওবায়েদ ছাড়াও শুনানিতে আরো অংশগ্রহণ করেন এডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ফরহাদ আহমেদ, বশির আহমেদ ও কাজি মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম (রতন)।

তিনি আরো বলেন, এ তিনজন হচ্ছেন মামলায় অভিযুক্ত বিবাদী ডা. সুরমান আলী ও ডা. জি এম জাকির হোসেন এবং রাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট)। হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে ভিকটিমের মা মামলার বাদী দেলোয়ারা বেগম বলেন, ডাক্তারদের এ ধরনের ভুলের শান্তি চাই।

 

মতামত...