,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তনু খুনের রহস্য ১২ দিনেও অজানা

tanoনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার খুনের রহস্য ১২ দিনেও অজানা।  কেন, কী কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে সে ব্যাপারে মামলার তদন্ত সংস্থার কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। এমনকি লাশ যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোথাও খুনের পর ওই এলাকায় মরদেহ ফেলা হয়,সে প্রশ্নেরও সুরাহা করা যায়নি।

শুক্রবার সকালে সিআইডির একটি দল কুমিল্লা সেনানিবাসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা তনুর পরিবারের সদস্যদের ও তনু যে দুই সেনাসদস্যের বাসায় প্রাইভেট পড়াতেন তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমকে বলেন, সিআইডির একটি দল  ঘটনাস্থল ঘুরে এলাকা পরিদর্শন ও তনু যে বাসায় পড়াতেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

জানতে চাইলে তনুর বাবা বলেন, কাউকে সন্দেহ করার মতো তথ্য আমার কাছে নেই। ঘটনার পর থেকে চোখে যা দেখেছি, তা-ই বলেছি। ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে মেয়েটার লাশ পাওয়া গেল। ছোটবেলা থেকে এখানেই ও বড় হয়েছে; পড়াশোনা করেছে। আমরা চাই, তনুর খুনিদের গ্রেফতার করা হোক। সিআইডির কর্মকর্তারাও বলছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিমসহ পুলিশের ১০ সদস্যের দল কুমিল্লা সেনানিবাসে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও খালাতো বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর পর তনুর বাবাকে নিয়ে সেনানিবাসের যে এলাকায় তনুর লাশ পাওয়া যায়, সেটি পরিদর্শন করেন। সিআইডির সদস্যরা সার্জেন্ট জাহিদ ও করপোরাল জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাদের বাসায় তনু প্রাইভেট পড়াতেন। দু’জনের বাসা কুমিল্লা সেনানিবাসের সৈনিক ক্লাবের পাশে। ঘটনার দিন প্রাইভেট পড়ানো শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তনু জাহিদের বাসা থেকে বের হন বলে জানা গেছে। সিআইডির সদস্যরা সৈনিক ক্লাবসহ আশপাশের এলাকাও পরিদর্শন করেন। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থান করেন সিআইডির সদস্যরা।

তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কেপি সাহা বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কিছু আলামত সিআইডির কাছে দেওয়া হয়েছে। ভিসেরা প্রতিবেদনও এখনও পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তদন্তের এই পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছে সিআইডি এবং  ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় করছে।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। পরে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রথম দফায় ময়নাতদন্ত শেষে নানা প্রশ্ন দেখা দিলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের জন্য ১০ দিন পর গত বুধবার লাশ তোলা হয়। তনুর খুনিদের গ্রেফতার দাবিতে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।

বি এন আর/০০১৬/০০৪/০০২/০০০৪৭২৯/বি এন

মতামত...