,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তিতাস ছাড়ছেন বিদেশীরা, আয় কমার শঙ্কা

 ঢাকা, ০৩ ডিসেম্বর ( বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম) :: titasরাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। নভেম্বরে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রায় দেড় কোটি শেয়ার বিক্রি করেছেন। গত সপ্তাহে আরো প্রায় ২৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছেন তারা। বিক্রি চাপে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক মাসে ২৫ শতাংশ কমেছে।
পুনর্নির্ধারিত বিতরণ চার্জ কার্যকরে আয় কমে যাওয়ায় শেয়ারের মূল্য কমে যাচ্ছে। বিএসইসির নির্দেশে গঠিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারিত হওয়ায় তিতাস গ্যাস কোম্পানির মোট মুনাফা ৫৮ শতাংশ কমবে। এ কারণে তিতাসের শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন বিদেশীরা। একই সঙ্গে তিতাসের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারও ছাড়ছেন তারা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসের বিদেশী অংশের শেয়ার বিক্রির অধিকাংশ আদেশ এসেছে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ থেকে। নভেম্বরের শুরু থেকে এ ব্রোকারেজ হাউজের বিদেশী গ্রাহকরা তিতাস গ্যাসের শেয়ার ছাড়তে শুরু করেন। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রির আদেশের কারণে মাত্র নয় কার্যদিবসে তিতাসের শেয়ারদর প্রায় ৩০ শতাংশ কমে, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্তের ঘোষণা দেয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নভেম্বরের শুরু থেকে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের বিদেশী গ্রাহকরাই তিতাস গ্যাসের অধিকাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। নভেম্বরের ১ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত বিদেশীরা তিতাস গ্যাসের যেসব শেয়ার বিক্রি করেছেন, এর প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে এ প্রতিষ্ঠান থেকে। লভ্যাংশ ঘোষণার পরই চিত্র ফুটে ওঠে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, তদন্ত চলাকালে এক সপ্তাহ বিরতির পর গত ২২ নভেম্বর থেকে আবারো কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি শুরু করেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। গত ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ব্র্যাক ইপিএল ও সিটি ব্রোকারেজ হাউজের বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তিতাসের ২৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ব্র্যাক ইপিএল থেকে বিদেশীরা তিতাসের ২২ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন।

প্রসঙ্গত, ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বাড়লেও তিতাসের আয়ের প্রধান উৎস বিতরণ চার্জ প্রায় ৫৮ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কোম্পানির সার্বিক আয়ে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিতাস গ্যাসের পুনর্নির্ধারিত বিতরণ চার্জ কার্যকর হয়েছে। এতে চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা। পরবর্তী প্রান্তিকগুলোয় আয় আরো কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোম্পানি জানিয়েছে, বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারণ করায় তিতাসের নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭২ শতাংশ কমবে। অবশ্য বিতরণ চার্জ কমিয়ে দেয়ার বিইআরসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

জানা গেছে, তিতাস গ্যাসের মোট মুনাফার প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে বিতরণ চার্জ থেকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিতাস গ্যাসের রেভিনিউ ছিল ৭৮৩২ কোটি টাকা। এ সময়ে বিক্রি বাবদ খরচ বাদে মোট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এ মুনাফার ৯৫ শতাংশই এসেছে বিতরণ চার্জ থেকে। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিতরণ চার্জ পুনর্নির্ধারিত হওয়ায় মোট মুনাফা ৫৮ শতাংশ কমে যাবে।

বিইআরসির আদেশে গত ২৭ আগস্ট সব ধরনের গ্রাহক শ্রেণীভিত্তিক গ্যাসের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিতরণে তিতাস গ্যাসের আয় হয় ৯৭ পয়সা। এর মধ্যে ৫৫ পয়সা আসে বিতরণ চার্জ থেকে। এছাড়া গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ, সুদ ও বিবিধ আয় থেকে অবশিষ্ট ৪২ পয়সা আসে।

বিতরণ চার্জ কমানোর যুক্তি হিসেবে বিইআরসি জারি করা আদেশে জানিয়েছে, তিতাস গ্যাসের বিতরণ রাজস্ব চাহিদা মেটাতে প্রতি ঘনমিটারে গড়ে ২৯ টাকার প্রয়োজন হয়। আর বিদ্যমান অন্যান্য আয় (গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ, সুদ ও বিবিধ আয়) বাবদ ৪২ পয়সা প্রাপ্তি বিবেচনায় তিতাস গ্যাস কোম্পানির বিতরণ চার্জ বাবদ আর কোনো আয়ের প্রয়োজন হয় না। তবে ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার অভিন্ন রাখার স্বার্থে গ্যাস বিতরণ চার্জ ভারিত গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ২২ দশমিক ৬৮ পয়সায় পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় কোম্পানির পরিচালন মুনাফা ছিল ৯৬০ কোটি টাকা। এ সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা কোম্পানির ৩ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সুদ বাবদ আয় হয়েছে ৪৪৭ কোটি টাকা।

অন্যান্য আয়সহ গত অর্থবছরে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১০২৬ কোটি টাকা, যা ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

বুধবার ডিএসইতে তিতাস গ্যাস শেয়ারের দর প্রায় ২ শতাংশ কমে ৫১ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে। গত এক মাসের মধ্যে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ৪৯ টাকা। ২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিতাস গ্যাসের পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

মতামত...