,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তিন পার্বত্য জেলার পাহাড় সেজেছে বৈসাবি রঙে বাংলা বর্ষবরণ

aনাজমুল হক হৃদয়, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে তিন পার্বত্য জেলায় চলছে উৎসবের আমেজ। পাহাড় সেজেছে বৈসাবি রঙে। চলছে বৈসাবির বর্ণাঢ্য আয়োজন। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ‘বৈস’ু উৎসব, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমাদের ‘বিজু’ নিয়েই বৈসাবি।  মঙ্গলবার থেকেই উৎসবের সূচনা। এতে ছিল শোভাযাত্রা, নদীতে ফুল ভাসানো, গান-নাচ প্রভৃতি আয়োজন। তিন দিনব্যাপী বৈসাবির দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার ঘরে ঘরে চাকমারা মূলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা এবং ত্রিপুরারা বৈসুকমা নামে পালন করবে।

রাঙামাটি : মঙ্গলবার নদীর ঘাটে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিন চাকমারা ফুলবিজু, মারমারা পাইংছোয়াই ও ত্রিপুরারা হারিবৈসুক উদযাপন করেছেন। তিনদিনের উৎসব শেষে ১৫-১৬ এপ্রিল রাঙামাটিসহ তিন জেলা সদর এবং বিভিন্ন উপজেলা ও পাহাড়ি পল্লীতে আয়োজন করা হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব। ১৫ এপ্রিল রাঙামাটির কাপ্তাই চিৎমরমে অনুষ্ঠিত হবে সার্বজনিন জলকেলি উৎসব। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রাঙামাটিতে বিজু সাংগ্রাই বৈসুক বিষু সাংক্রান বিহু উদযাপন কমিটির উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজবন বিহার পূর্বঘাটে এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা নেতৃত্ব দেন। রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ

উদযাপিত হবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায়। মঙ্গলবার  শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা, যেমন খুশি তেমন সাজো, বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পান্তা উৎসব, বিকালে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বলীখেলা, বিনোদনমূলক ক্রীড়ানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
খাগড়াছড়ি : বৈসাবি উৎসব উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখন খাগড়াছড়িতে ভিড় করছেন। ‘বৈসাবি উৎসব পালনে চাই নিরাপদ পরিবেশ ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি’- এ শ্লোগানে খাগড়াছড়িতে শোভাযাত্রা করেছে সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার জেলা সদরের মধুপুর এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে গিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়। এর নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা এবং কমিটির সদস্য সচিব ও ভাইস চেয়ারম্যান রণিক ত্রিপুরা। বৈসাবি উৎসব সার্বজনীনভাবে পালনের জন্য চারদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানান সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসব শুরু হয়েছে। সূর্যোদয়ের আগে জেলা সদরের চেঙ্গী নদী পাড়ে চাকমা তরুণ-তরুণী, নর-নারী ও শিশু কিশোরা ফুল নিয়ে জলদেবতাকে পূজা করার উদ্দেশ্যে ফুল ভাসায়। চেঙ্গী নদীর পাড় ও ব্রিজের ফুটার অংশে লোকজন দাঁড়িয়ে ফুলবিজু উৎসব উপভোগ করে।
কাপ্তাই : কাপ্তাই উপজেলার তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়  মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। সকালে কাপ্তাই উপজেলার বরইছড়ি বাজার এলাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড বহন করে শোভাযাত্রায়। এতে অংশ নেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত তঞ্চঙ্গ্যা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর নাহার বেগম, কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রঞ্জন সামন্ত, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী অংশুছাইন চৌধুরী, হেডম্যান অরুন তঞ্চঙ্গ্যা, দয়ারাম তঞ্চঙ্গ্যা, রাজিব তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।
মানিকছড়ি : বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী চত্বর থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মহামুনি বৌদ্ধবিহার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যন ম্রাগ্য মারমা, ইউএনও যুথিকা সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. দিদারুল আলম, ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান ফারুক, রফিকুল ইসলাম বাবুল, উদ্রাচাই কার্বারী, মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংশেপ্রু মারমা, সাধারণ সম্পাদক রিপু মারমা কংজপ্রু, ল্রাবেঅং মারমা, সাংবাদিক চিংওয়ামং মারমা মিন্টু প্রমুখ।
রামগড় : মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাইং’ উপলক্ষে মঙ্গলবার  পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ প্রদক্ষিণ করে মহামুনি বৌদ্ধবিহারে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মংশেপ্রু চৌধুরী অপু, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। সাংগ্রাইং উপলক্ষে রামগড়ে পাঁচদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ধর্মীয় উৎসব পলন, মারমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা প্রভৃতি।

বিএন আর/০০১৬/০০৪/০০১৩/০০৪৯৫৫/এস

মতামত...