,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তিন ল্যাবে ৩ রকম রিপোর্ট দেয়া হল রোগীকে !

rবিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃহাতে-পায়ে ফোলা দেখে ডাক্তারের কাছে যান গৃহবধূ খালেদা সুলতানা। দ্বারস্থ হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের আবাসিক ফিজিশিয়ান ডা. আ স ম লুৎফুল কবির শিমুলের। নগরীর পোর্ট কানেকটিং সড়কের বিশ্বরোড মোড়ের চেম্বারে গেলে ডাক্তার চারটি টেস্ট লিখে দেন রোগীকে। এর মধ্যে থাইরয়েড (টিএসএইচ) টেস্টও ছিল।

চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদীবাগ ম্যাক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত ১২ সেপ্টেম্বর টেস্টগুলো করান রোগী খালেদা সুলতানা। রিপোর্টে থাইরয়েড টেস্টের রেজাল্ট আসে ৭.৮২। যা স্বাভাবিক পয়েন্টের তুলনায় একটু বেশি। থাইরয়েড টেস্টের স্বাভাবিক পয়েন্ট বা ভ্যালু ০.৩৫ থেকে ৫.০০। সেই হিসেবে ম্যাক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে খালেদা সুলতানার পরিবারের সদস্যদের মাঝে। তারা টেস্টটি অন্য কোথাও করার কথা ভাবেন। পরে একই টেস্টটি করান চমেক হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস এবং শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ১৭ সেপ্টেম্বর করা এই টেস্টে দুই প্রতিষ্ঠানে দুই ধরনের রেজাল্ট পান রোগীর স্বজনরা। এর মধ্যে চমেক হাসপাতালের এ্যালায়েড সায়েন্সেসের টেস্টটির রেজাল্ট আসে ২.৬৮। নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে রেজাল্ট পাওয়া যায় ৫.৩৫।

একই টেস্টে তিন প্রতিষ্ঠানে তিন ধরনের রেজাল্ট পেয়ে চিন্তায় পড়ে যান খালেদা সুলতানার পরিবার। তবে রিপোর্ট নিয়ে চমেক হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেসের নিচতলায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. আনজুমান আরা বেগমের কাছে গেলে তিনি রোগী ও পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন। তিন প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট দেখে চমেক হাসপাতালের নিউক্লিয়ার সেন্টারের রিপোর্টই সঠিক বলে জানান তিনি। যেহেতু ওই রিপোর্টের রেজাল্টে স্বাভাবিক মাত্রার ভ্যালু পাওয়া গেছে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই বলেও আশ্বস্ত করেন ওই চিকিৎসক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের নিউক্লিয়ার সেন্টারের রিপোর্টই অধিক আস্থাপূর্ণ বলে জোর দেন চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অনুপম বড়ুয়া। তিনি আজাদীকে বলেন, থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তুলনায় হাসপাতালের নিউক্লিয়ার সেন্টারের মেশিনটি অত্যাধুনিক। এই মেশিন চট্টগ্রামের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নেই।

চিকিৎসকের কথায় আশ্বস্ত হলেও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর রিপোর্টে আর আস্থা রাখতে পারছেন না খালেদা সুলতানা ও তার পরিবারের সদস্যরা। খালেদার ছোট ভাই শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, নামী-দামি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাহির করে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গলাকাটা ফি আদায় করছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে কোনোভাবেই আস্থা রাখা যাচ্ছে না। স্বয়ং ডাক্তাররাই এটা বলছেন।

তিনি বলেন, অন্য কোথাও টেস্ট না করে প্রথম রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসা করতে গেলে আমার বোনের কি যে হত! রোগ না থাকা সত্ত্বেও সেই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতিও হতে পারত। প্রথমে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করার পর ক’জন মানুষ আবার টেস্ট করার কথা ভাবেন? রিপোর্টটি ঠিক না বেঠিক মানুষ কী করে বুঝবে?

এ ঘটনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা আবারো প্রশ্নবিদ্ধ হলো বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া। তিনি বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর রিপোর্ট নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা এমনিতেই কম।

মতামত...